এভাবে আর কত শিক্ষক প্রাণ হারাবেন ? মোঃ মাকসুদুর রহমান
 নিহত স্কুল শিক্ষিকা শারমীন আক্তার সুমু – ফাইল ফটো
একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা শিক্ষক সমাজ আজ স্তব্দ হয়ে পরছে, স্তব্দ হয়ে পরছে গোটা বরিশালবাসী। এ ঘটনাগুলোকে শুধু অমানবিক বললে ভুল হবে, এ যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগড়। যে শিক্ষকেরা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানানোর কাজে নিজেদের সর্বশক্তি, মেধা, শ্রম দিয়ে সমাজকে আলোর মুখ দেখানোর মহান কাজে নিয়োজিত; সেই শিক্ষকদের যখন রাস্তায় প্রকাশ্যে খুনীদের হাতে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয় কিংবা এরকম আমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হতে হয় তখন সাধারন মানুষের অবস্থা কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিএনপির ডাকা হরতালের দিন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গুলাকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারকে শ্রেণীকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নয়ন শরীফ সহ ৬/৭ জনকে আসামী করে মামলা হলেও কোন আসামী ধরেনি পুলিশ। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে ধরা হলেও সরকারি দলের লোক হওয়ায় নানা কৌশলে তাকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনার মাত্র ২০দিন পর ১২ অক্টোবর গৌরনদীর পাশ্ববর্তী উপজেলা আগৈলঝাড়ার বখাটে আবুলের অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রকাশ্যে রাস্তায় জীবন দিতে হলো ৬ মাসের অন্তঃসত্বা স্কুল শিক্ষিকা শারমীন আক্তার সুমুকে। সারা দেশের মত বরিশাল বিভাগেও যে হারে হত্যা, ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মাত্রা বেড়ে চলছে তা সহজেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বরিশালের স্থানীয় পত্রিকাগুলো খুললেই। কোথাও যেন পরিত্রান পাওয়ার আশা নেই। খুন করে একাধিক মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। এ যেন একটি গানেরই বাস্তব রূপ- ‘খুনিরা খুন ঝড়িয়ে ইয়া মোটা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে দেদার, দিনের বেলায় সাধু সেজে…..’
ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খুনীদের নাম ও ছবি তথ্য প্রমানসহ প্রকাশ হলেও এরা কেন যে, কোন অদৃশ্য শক্তির বলে পার পেয়ে যাচ্ছে তা সাধারন মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। মানুষ আজ জানতে চায় কেন এসব খুনিদের সুষ্ঠু বিচার হচ্ছেনা? এসব হাজারও প্রশ্ন আজ মানুষের মনে আজ ঘুরপাক খাচ্ছে।
সম্প্রতি স্কুল শিক্ষিকা শারমিন হত্যাকারী আবুলের মা নিজ ছেলের এ নারকীয় ঘটনার বিচার চেয়েছেন, তারপরও পার পেয়ে যাবে এসব মানুষ নামের নরপশুরা। এরপরও যদি নিহতের পরিবার সঠিক বিচার না পায় তাহলে এদেশে আর কে বিচার পাবে? শিক্ষিকা শারমীন আক্তার সুমু ও শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারের মৃত্যুতে তাদের পরিবারের যে অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল; যদি এসব খুনিদের একশবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়, তাহলেও কি এই ক্ষতি-পুরণ করা সম্ভব? আসলে কখোনই সম্ভব না। এসব পরিবারের মানসিক শান্তনা লাঘবের প্রয়াসে যদি সঠিক বিচার হয় তাহলে তারা নিজেদের মনকে সান্তনা দিতে পারবে। যদি বিচারের নামে প্রহসন চলে তাহলে এরকম খুনিরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠবে। সমাজ জাতি তাদের দ্বারা কলুশিত হতেই থাকবে।
প্রশাসনও দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসব ঘৃন্য ঘটনাকে কোন প্রকার প্রশ্রয় না দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছি। আমরা যারা সাধারন জনগন রয়েছি ঘটনারগুলোর সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
–
মোঃ মাকসুদুর রহমান
হারুন ভবন (দ্বিতীয় তলা)
আগরপুর রোড, বরিশাল।
|