Current Bangladesh Time
শুক্রবার মে ২৪, ২০১৯ ৫:০১ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » বরিশাল, বরিশাল সদর, সংবাদ শিরোনাম, সাহিত্য » স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
১৫ মার্চ ২০১৭ বুধবার ৩:০০:৪১ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
অনলাইন ডেস্ক


aroj-ali-matubbar আরজ আলী মাতুব্বরআজ বুধবার (১৫ মার্চ) মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক আরজ আলী মাতুব্বরের মৃত্যুবার্ষিকী।

তিনি মানুষের মাঝে মুক্তচিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে গেছেন নিজের অপরিসীম যুক্তির আলোকে। যিনি সৃষ্টি ধর্মের আলোকবর্তিকায় ধর্মীয় অন্ধকার দূর করার স্বপ্ন দেখেছেন, দেখিয়েছেন।

বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম লামচরির এক গরিব কৃষক পরিবারে জন্ম হলেও তার জ্ঞানসাধনা ছাড়িয়ে গেছে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশকেও।

araj-ali-matubbar-file-photo আরজ আলী মাতুব্বর: এক চারণ দার্শনিকের প্রতিকৃতিতথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও আরজ আলী মাতুব্বরই অতিথি শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিয়েছেন ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আধুনিক যুগেও একজন মানুষ যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজ প্রচেষ্টায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় পান্ডিত্য অর্জন করতে পারেন, তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ আরজ আলী মাতুব্বর।

আরজ আলী নিজ গ্রামের মুন্সি আবদুল করিমের মসজিদের মাধ্যমে পরিচালিত মক্তবে সীতানাথ বসাকের কাছে ‘আদর্শলিপি’ পড়তেন। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে তাঁকে মক্তব ছাড়তে হয়। এরপর তিনি কৃষিকাজে নিয়োজিত হন। পরে এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় তিনি ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শেষ করেন। সাথে সাথে তিনি নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় বাড়িতে বসেই লেখাপড়া শিখতে থাকেন।

নিজের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে তিনি বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির সমস্ত বাংলা বই একজন মনোযোগী ছাত্রের মতো পড়েন। দর্শন ছিল তার প্রিয় বিষয়। কিন্তু তার জ্ঞান পিপাসা মিটানোর মতো পর্যাপ্ত বই পাঠাগারে ছিলো না।

পরে বই পড়ার প্রতি তার আগ্রহ দেখে বিএম কলেজের দর্শনের শিক্ষক কাজী গোলাম কাদির মোহিত হন এবং তিনি কলেজের পাঠাগার থেকে তাকে বই ধার দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবেই প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি আর কৌতূহলী মনের কারণে নানা প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দার্শনিক, যুক্তিবাদী ও মুক্তচিন্তার অধিকারী মানুষ হয়ে ওঠেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি সত্ত্বেও তিনি বেশ কিছু বই লেখেন। তার লেখনীর মধ্য দিয়ে তিনি বহুল প্রচলিত নানা বিশ্বাস ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে নির্ভীক যুক্তিসংগত মত প্রকাশ করেন। ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ, এমনকি অনেক সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীরও চক্ষুশূল হন। কিন্তু তার রচনাগুলো চিন্তাশীল মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।

bangla-academy-honour-araj-ali-matubbar বাংলা ১৩৯২ সালের ১লা বৈশাখ নববর্ষে বাংলা একাডেমী আরজ আলী মাতুব্বরকে আজীবন সদস্য পদ প্রদান করে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে বাংলা একাডেমি। ছবিতে সর্বডানে আরজ আলী মাতুব্বর।

বাংলা ১৩৯২ সালের ১লা বৈশাখ নববর্ষে বাংলা একাডেমী আরজ আলী মাতুব্বরকে আজীবন সদস্য পদ প্রদান করে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে বাংলা একাডেমি। ছবিতে সর্বডানে আরজ আলী মাতুব্বর।

ধর্ম, জগত ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা তার লেখায় উঠে এসেছে, যা থেকে তার প্রজ্ঞা, মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। তার লেখালেখিতে যে দার্শনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটে তা সবাইকে বিস্মিত করে। সমাজের নানা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসকে তিনি যুক্তি দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন।

প্রথা বিরোধী এ লেখককে তার বইগুলো প্রকাশে অনেক বাধা পেরুতে হয়েছিলো। ১৯৭৩ সালে তার প্রথম বই ‘সত্যের সন্ধানে’ প্রকাশ হয়। লেখালেখির সূচনার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ১৫ খানি পাণ্ডুলিপি রচনা করে গেছেন।

গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এই বইগুলো ছাড়াও রয়েছে আরো কয়েকটি পাণ্ডুলিপি। এগুলোর নাম হচ্ছে- সীজের ফুল (কবিতা), সরল ক্ষেত্রফল (গলিত), জীবন বাণী (আত্মজীবনী), ভিখারীর আত্মকাহিনী (আত্মজীবনী), কৃষকের ভাগ্য গ্রহ (প্রবন্ধ), বেদের অবদান (প্রবন্ধ), পরিচয়, আমার জীবন দর্শন।

তদানীন্তন পাকিস্তানে তার কয়েকটি বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন। পেয়েছেন হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কর্তৃক বরণীয় মনীষী হিসেবে সম্মাননা। তার সারা জীবনের উপার্জন দিয়ে জমি না কিনে তৈরি করেছিলেন গ্রামের মানুষের জন্য পাঠাগার।

নদীভাঙনে জমি হারিয়ে কাঁদেননি, কিন্তু সংগ্রহ করা বই নদীতে ভেসে যাওয়ায়, ছেলে হারানোর শোকে শোকার্ত হয়েছেন এ চাষি। আজীবন মানব কল্যাণে নিয়োজিত আরজ আলী মাতুব্বর মৃত্যু পরবর্তীকালে তার মৃতদেহটিও যাতে জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয় সেজন্য তিনি বরিশাল মেডিকেল কলেজকে তাঁর দেহদান করে যান। আর মরণোত্তর চোখ দান করে যান দৃষ্টিহীনের চোখে আলো ফোটানোর লক্ষ্যে।

শারীরিক অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে চুল, দাড়ি, নখ ও কয়েকটি দাঁত। এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার স্বপ্নের সাধনার লাইব্রেরি ভবনের সীমানার মধ্যে উঁচু বেদী আকারে নির্মিত পাকা সমাধির মধ্যে একটি কাঁচের বয়ামে করে এগুলো রাখা হয়। এরপর থেকে তিনি জীবনের শেষ কটি দিন পরম প্রশান্তি বোধ করেছেন।

নানা গুণে গুণী এই মানুষটি ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ ৮৬ বছর বয়সে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। যে গ্রামে তার মায়ের কবর দেওয়ার জন্য মানুষ পাওয়া যায়নি, সেই ক্ষুদ্র লামচরির এক অশিক্ষিত কৃষক আরজ আলী মাতুব্বরকে মৃত্যুর পর শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নেমেছিল মানুষের। সেদিনই প্রমাণ হয়ে গেছে, আরজ আলী মাতুব্বর বড় হতে হতে ছাড়িয়ে গেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানাও।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দুঃস্থদের ভিজিডি কার্ডের চাল খাচ্ছে বিত্তবানদের কবুতর!
উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় ২য় স্থানে বাংলাদেশ, ভারত ৩য়
যুক্তরাজ্যের রামসগেটের মেয়র হলেন পিরোজপুরের গৃহবধূ
মঠবাড়িয়ায় স্থগিত উপজেলা নির্বাচন ১৮ জুন
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনসহ ২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]