Current Bangladesh Time
বুধবার জুন ১৯, ২০১৯ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » রোজায় ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা
২৭ মে ২০১৭ শনিবার ৭:৫২:৪৫ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

রোজায় ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা


রোজায় ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল জলিল আনসারী
বিভাগীয় প্রধান
ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
[email protected]

 

আমাদের দেশে প্রায় সত্তর লক্ষ ডায়াবেটিস রোগী। এছাড়াও নানারকমের থাইরয়েড রোগী, অপেক্ষাকৃত বিরল হরমোনজনিত রোগী যেমন এডিসন ডিজিস, কুশিং ডিজিস, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস, পিটুইটারী গ্রন্থির নানা রোগ, মেয়েদের ডিম্বাশয় বা ওভারীর হরমোনজনিত রোগ, পুরূষদের টেষ্টিস গ্রন্থির রোগ ইত্যাদী। সব মিলিয়ে এত সংখ্যা প্রায় সব পরিবারেই দুএকজন হরমোনজনিত রোগী আছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট আমাদের দেশে সকল প্রাপ্তবয়স্ক লোকই রোজা রাখে।এসময় হরমোনজনিত রোগীদের চিকিৎসায় কিছু সাবধানতা, পরিবর্তন ও ক্ষেত্রবিশেষে রোজা না রাখার পরামর্শ দিতে হয়।

এত অধিকসংখ্যক ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগীদের চিকিৎসায় হরমোনবিশেষজ্ঞ ছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসকদের সহায়তা প্রয়োজন হয় । ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগী ও পরিবারের সদস্যরা রোজার সময় কিভাবে ঔষধ সেবন করবে, রোজা থাকা কতটা ঝুকিপূর্ণ, কি খাদ্য গ্রহন করা উচিৎ ইত্যাদী সমস্যায় পড়ে যান। এজন্য রমজান শুরুর বেশ পূর্ব হতেই প্রস্তুতি নেয়া ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু বিষয় জেনে নেয়া প্রয়োজন।

অতীতে রোজার সময় ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্ধ ছিল যার কিছুটা অদ্যাবধি বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোজার সময় রোগী ও চিকিৎসকদের কি করা উচিৎ এ সব নিয়ে বেশ কয়েকটি সন্মেলন হয়েছে যার বিস্তারিত সবার জানা নেই। তার আলোকে রোগী ও তার পরিবারকে রোজার সময় কি কি বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ তা জানা প্রয়োজন। রমজানের সময় ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল,চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক অনেক প্রোগ্রাম হবার প্রচলন রয়েছে। রোগীদেরকে সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

যদিও রোজা শুবু হবার বেশ পূর্বহতেই এ ব্যাপাওে রোগীদেও চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা প্রয়োজন কিন্তু অনেকের পক্ষেই তা করা সম্ভব হয় না। ডায়াবেটিক ও হরমোনজনিত রোগীদের প্রথমেই জেনে নেয়া প্রয়োজন যে রোগীর বর্তমান অবস্থায় রোজা থাকা আদৌ ঝুকিমুক্ত কিনা।

যাদের ডায়াবেটিস অল্প ঔষধে এবং খাদ্যনিয়ন্ত্রনের মাধ্যমেই ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে তাদের রোজা থাকায় স্বাস্থ্যঝুকি তো নেইই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে রোজা রাখায় ডায়াবেটিস ও অন্যান্য কিছু স্বাস্থ্যসুবিধাও হতে পারে। আবার কোন কোন ডায়াবেটিস রোগীর রোজা থাকা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।

ডায়াবেটিসের সাথে যে সব রোগীর কিডনী মারাত্মকভাবে আক্রান্ত, লিভারের মারাত্মক সমস্যা রয়েছে, যাদের বারবার রক্তের গ্লুকোজ মাত্রাতিরিক্ত কমে যায় এবং কমে গেলেও তেমন কোন উপসর্গ হয় না, সাম্প্রতিককালে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে, ইনসুলিন ছাড়া অন্য ঔষধে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হয় না, গর্ভবতী মহিলা ও স্তন্যদানকারী মা ,যাদের রক্তের গ্লুকোজ খুব বেশী উঠানামা করে ইত্যাদী ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীকে রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতদসত্বেও যারা রোজা রাখতে বদ্ধপরিকর তাদেরকে নি¤েœ বর্নিত নিয়ম অনুসরন করতে হয়।

রমজানের পূর্বে যে ঔষধ সকালে ব্যবহার করতে হোত তা সেই পরিমানেই ইফতারের সময় সেবন করা যাবে।রোজার পূর্বে বিকালে বা সন্ধাকালে যে ঔষধ ব্যবহার করা হতো তার পরিমান ৩০/৪০ ভাগ কমিয়ে সেহরীর সময় গ্রহন করতে হয়। সেহরীর সময় ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের সালফোনিলিউরিয়া গ্রুপের ঔষধের পরিমান না কমালে বিকালে রক্তের গ্লুকোজ কমে গিয়ে মারাত্মক জটিলতা হতে পারে।

উপরে উল্লিখিত নিয়মে ঔষধ শুরু করে প্রতিদিন নিয়মিত সকালে, বিকালে এবং রাত্রে রক্তের গ্লুকোজের পরিমান মেপে পরবর্তীতে ঔষধের মাত্রা ঠিক করে নিতে হয়। দিনের বেলা রক্তের গ্লুকোজ মাপলে রোজার ক্ষতি হয় কিনা তা

চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত দেবার বিষয় নয় । তবে অধিকাংশেরই ধারনা এই যে দিনের বেলা রক্তের গ্লুকোজ মাপলে রোজার ক্ষতি হয় না। চিকিৎসকদের পরামর্শ এই যে রক্তের গ্লুকোজ কমে গিয়েছে এরকম মনে হলে গ্লুকোমিটার দিয়ে দিনের বেলা রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ। গ্লুকোজর মাত্রা ৪(চার) এর নীচে নামলে বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মত উপসর্গ হলে রোজা ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ। রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই রোজা থাকা সঙ্গত।

রোজার সময় ইফতার ও সেহরীর মূল খাবারে মিষ্টি জাতীয় খাবারের চেয়ে আশযুক্ত খাবার যেমন শাকসব্জি,ভাত,রুটি, ডাল ও মাছ মাংশ, দুধ ইত্যাদী খাবার খাওয়া ভাল। কোন খাবারই একবারে বেশী খেতে নেই। প্রচুর পরিমান তরল খাবার গ্রহন করাও প্রয়োজন।

দিনের বেলা অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম না করা ভাল। রাত্রের প্রথমভাগে কোন এক সময় হাটাহাটি ও প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করে নেয়া ভাল। অন্যান্য হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা রমজানে কি ভাবে করা ভাল সে বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

হরমোনজনিত রোগসমূহের মধ্যে রোজা পালনে অত্যধিকঝুকিপূর্ন রোগ যেমন থাইরটক্সিক ক্রাইসিস, ইনসুলিনমা, এডিসন ক্রাইসিস, অতিমাত্রার হাইপোথাইরয়েডিসম, টিটানী, পিটুইটারী গ্রন্থির আকস্মিক কার্যকারিতা লোপ, এডরেনাল টিউমার জনিত উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদী ক্ষেত্রে রোজা পালন অত্যধিক ঝুকিপূর্ণ চিকিৎসা করে ঝুকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রোজা না রাখা উচিৎ। আবার সুনিয়ন্ত্রিত হাইপোথাইরয়েডিসম ও অন্যান্য সঠিকভাবে সনাক্তকৃত থাইরয়েডের রোগী, হাড়ক্ষয়জনিত রোগী, হরমোনের কারনে অবাঞ্ছিত লোম, অতিরিক্ত ওজন, সাধারন গলগন্ড ইত্যাদী হরমোনজনিত রোগীর রোজা থাকায় তেমন কোন ঝুকি না থাকায় শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শানুযায়ী ঔষুধের মাত্রা ও সেবনের সঠিক সময় ঠিক করে রোজাপালন করা যাবে।

থাইরয়েড হরমোনের আধিক্যে থাইরটক্সিকসিস নামক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা পালন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক ঔষধের মাত্রা ও সেবনের সময় বিচক্ষনতার সাথে নির্ধারন করবেন । হরমোন ও মেটাবলিক কারনে অনেক বিরল রোগ সম্পর্কে সাধারন রোগী ও সাধারন চিকিৎসকেরও সচেতনতার অভাব থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ গ্রহন করা উচিৎ। এখানে উল্লেখ্য যে কিছুসংখ্যক সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ছাড়া হরমোনজনিত রোগের বিশেষজ্ঞ দেশের সর্বত্র পর্যাপ্ত না থাকায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহনে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।

অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞগন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ নির্ণয়ে ও চিকিৎসায় প্রায়শঃই প্যাথলজী, সার্জারী, রেডিয়লজী, অনকোলজী ও নিউক্লিয়ার মেডিসিনসহ আরও অনেক বিভাগের সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। রমজানে এসব বিভাগের সাথে সমন্বয় করে থাইরয়েড রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা প্রয়োজন ।
থাইরটক্সিসিস রোগ নির্ণয়ের প্রথমদিকে সপ্তাহখানেক রোজা না রাখাই ভাল। চিকিৎসা গ্রহন করে অনেকটা সুস্থ হলে রোজা রাখা যেতে পারে তবে ঔষধে কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে।

হাইপথাইরয়েড রোগীদের মূল ঔষধ থাইরক্সিন ইফতার ও সেহরীর মাঝামাঝি সময়ে সেবন করা ভাল। রোজার সময় মানবদেহে থাইরয়েড হরমোনের যে পরিবর্তন হয় তার কোন স্বাস্থ্যগত প্রভাব আছে কিনা তাহা অনাবিস্কৃত, আরও গবেষনা প্রয়োজন।

যে সকল রোগী এডরেনাল গ্ল্যান্ডের রোগের জন্য করটিসল জাতীয় হরমোন বা ষ্টেরয়েড গ্রহন করে থাকেন তারা রোজা রাখলে বিকাল বেলায় হাইপোটেনসন, হাইপোগ্লাইসেমিয়া সহ শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারেন। এজন্য সেহরীর সময় দীর্ঘ্যসময় কাজ করে এরূপ ষ্টেরয়েড দেয়া ভাল।

রোজায় পিটুইটারী হরমোনের কিছুটা পরিবর্তন হলেও যারা পিটুইটারী ফেইলুরের জন্য ঔষধ সেবন করেন তার পরিমান অপরিবর্তিত রেখে ইফতারী ও সেহরীর মধ্যে সব ঔষধ সেবন করে ঝুকিমুক্তভাবেই রোজা পালন করতে পারবেন।

যারা ইনসুলিনমা নামক রোগে বারবার রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার মত রোগে আক্রান্ত তাদের রোজা থাকা ঠিক তো নয়ই বরং কখনও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সাথে মিষ্টিজাতীয় কোন খাবার খেয়ে ঝুকিমুক্ত হতে হবে।

কোন হরমোনজাতীয় রোগে কি নিয়ম মেনে রোজা থাকা যায় করা তা রোজা শুরুর বেশ আগেই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেয়া ভাল ।

আগে থেকেই চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ কওে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক ডায়াবেটিক ও হরমোনজনিত রোগীই ঝুকিমুক্তভাবে প্রায় সারামাসই রোজা থাকতে পারবেন।

 


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দম ফেলার সুযোগ নেই বরিশালের পার্লারে নরসুন্দরদের
হৃদরোগ ঠেকাবে ব্যায়াম
বরিশালে সেরা রাঁধুনী তিন জন বাছাই
বরিশালে সেরা রাঁধুনী বাছাই ১১ ডিসেম্বর
গরুর মাংশের ১৯ রকম পদ
অনুরোধেই বেজে উঠে বাউল সোহারাবের এক তারা
কুলে আছে দশ পুষ্টিগুণ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]