Current Bangladesh Time
সোমবার নভেম্বর ২০, ২০১৭ ৭:২৪ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » কলাপাড়া, পটুয়াখালী, পটুয়াখালী সদর » কুয়াকাটা সৈকত বিপন্ন!
১২ জুলাই ২০১৭ বুধবার ২:৩১:৫৮ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

কুয়াকাটা সৈকত বিপন্ন!
অনলাইন ডেস্ক


পূর্ণিমার প্রভাবে বিধ্বস্ত কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য্য!কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ দিন দিন দূষিত হয়ে পড়ছে। সৈকতের বালুচরের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা মৃত বর্জ্য, ছোট দোকানিদের নিত্যদিনের ময়লা-আবর্জনা সৈকতে যত্রতত্র ফেলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সৈকত সৌন্দর্যও হারাচ্ছে।

সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য কুয়াকাটায় ছুটে আসে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। অথচ এই সৈকত সুরক্ষায় কারও তেমন নজর নেই বললেই চলে।

কুয়াকাটা সৈকতএদিকে সাগরের অব্যাহত ভাঙনে মূল সৈকত ভেঙে এখন ভাঙনের মুখে এক কিলোমিটার দূরে থাকা সেই মূল ওয়াপদা (বাঁধ)। দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতে এই বর্ষা মওসুমে পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানো এখন নির্ভর করছে জোয়ার-ভাটার ওপরে।

প্রায়ই সৈকতে নামতে পারেন না দর্শনার্থীরা । সাগরের জোয়ারে কুয়াকাটা ওয়াকিং বিচ তলিয়ে থাকায় বনাঞ্চলের মধ্যে বসেই দেখতে হয় সাগরের ঢেউয়ের খেলা। আর ভাটার সময়ে ওয়াকিং বিচে ময়লা-আবর্জনা ও সৈকতসংলগ্ন গাছের গুঁড়ির এলোমেলোভাবে পড়ে থাকায় ভ্রমনের আনন্দে বাধ সাদে।

কুয়াকাটা ইকোপার্ককুয়াকাটা সৈকত ঘুরে দেখা যায়, সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকের প্রায় দুই কিলোমিটার মূল সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাগরের ভাঙনে বিলীন হওয়া নারিকেল, ঝাউগাছ ও গাছের গুঁড়ি। পশ্চিম দিকের সৈকতে ভেঙে পড়ে আছে সাগরের ভাঙনে বিলীন এলজিইডির ডাকবাংলোর সিমেন্ট ও রডের খণ্ড ও লেম্বুর চর বনাঞ্চলের গাছের গুঁড়ি।

মূল সৈকতে নামার রাস্তা না থাকায় ফার্মস অ্যান্ড ফার্মসের ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩-৪ শ’ ফুট ঘুরে সৈকতে নামতে হয়। সেই রাস্তাও অনেক সময় বন্ধ থাকে ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস ও পিকনিক পার্টির রাখা মাইক্রোবাস রাখার কারণে।

কুয়াকাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘আগে সাগর দেখতে ও গোসল করতে দেড়-দুই মাইল বালুর মধ্যে হাঁটতে হইতো। আর অ্যাহন তো রাস্তায় দাঁড়াইয়া সাগর দ্যাহা যায়। যে হারে সাগরে ভাঙছে তাতে আর কয় দিন পর হয়তো বাড়ি বইয়াই দ্যাহা যাইবে।’

পর্যটকরা বলেন, এখন শুধু কুয়াকাটায় সাগর আছে, সৈকত নেই। আর যে সাগরে সৈকত নেই সেখানে পর্যটকেরা ভ্রমণে গিয়ে হোটেলে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই নেই।

কুয়াকাটার হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। কুয়াকাটাকেন্দ্রিক হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তিকেন্দ্রিক উন্নয়ন হলেও কুয়াকাটা সৈকত তলিয়ে গেছে উন্নয়ন আশ্বাসের সাগরে। এ কারণে প্রতি বছর সাগরে কোটি কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পদ বিলীন হলেও সৈকত উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

kuakata-beach কুয়াকাটা সৈকত

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটা সৈকত ভাঙন রোধে বছরের পর বছর ধরে তারা শুধু আশ্বাসই শুনছেন। কিন্তু মাইলের পর মাইল এলাকা বিলীন হলেও এখনো জানতে পারছেন না কবে কাজ শুরু হবে। আর যে পর্যটনকেন্দ্রে সৈকত নেই সেখানে পর্যটকেরা কোথায় ঘুরে বেড়াবে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে ভাঙন রোধে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন রোধে গ্রোয়েন বাঁধ ও সৈকতে পর্যটকদের জন্য ওয়াকিং ও ডাইভিং রোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। হয়তো আগামী অর্থবছরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারে।

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
বাবা ভেবেছিলেন ছেলে আর ফিরবে না
শেবাচিমে রোগীর স্বজন-চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারি
বেতাগীতে লাভ জনক কৃষি পণ্য সুপারি
মালয়েশিয়ায় সংগ্রামী জীবন ঝালকাঠির নাসিরের
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে চাকরির সুযোগ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]