| দুমকির ৪ চরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা
 পুটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি বিচ্ছিন্ন চর (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
দুমকি, ৬ ডিসেম্বর (মোঃ মজিবুর রহমান/আমাদের বরিশাল ডটকম): পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পার্শ্ববর্তী বাউফল ও বাকেরগঞ্জের আন্ত:উপজেলার সীমানা নির্ধারণ জটিলতার জের ধরে এ তিন উপজেলার সীমান্তবর্তি ৪টি চরের ধান কাটা নিয়ে বিরোধ এখন তুঙ্গে। দুমকি উপজেলার বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় পাঁচশতাধিক ভূমিহীন কৃষকের আবাদকৃত প্রায় দেড় সহাস্ত্রাধিক একর জমির আমন ধান প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও জোড় করে কেটে নেয়ার তৎপড়তা চালাচ্ছে বাকেরগঞ্জ ও বাউফলের প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের লাঠিয়াল বাহিনী। অপরদিকে চরের বন্দোবস্ত পাওয়া চরের প্রকৃত মালিক ভূমিহীন কৃষকরাও তাদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় মরিয়া হয়ে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়েছে। দুপক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অশান্ত হয়ে ওঠেছে সন্তোষদি , চরগরবদি, বাহেরচর ও আলগির চরাঞ্চল। ধান কাটা নিয়ে বিরোধে বড় ধরনের সহিংসতার আশংকা বিরাজ করছে এখন সবার মাঝে।
সূত্র জানায়, দুমকি উপজেলার লোহালিয়া, পায়রা ও কদমতলা নদীর তীরবর্তী সন্তোষদি, চরগরবদি, উত্তর মুরাদিয়া, আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর, ঝাটরা, পশ্চিম আংগারিয়া, লেবুখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লেবুখালী, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগি গ্রামের অন্তত: দেড় সহাস্ত্রাধিক পরিবার পায়রা-লোহালিয়ার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে। এপারের জমির বিশাল অংশ ভেঙে ওপারে বাকেরগঞ্জের দুধলমৌ, দক্ষিন সাদিস, বাউফলের হোগলায় বিশাল চরের সৃষ্টি হয়। বিগত ৮৮ সাল থেকে ৯৫ সালের মধ্যে দুমকির সর্বস্ব হারানো প্রায় পাঁচশ’ পরিবারকে ওই জমি বন্দোবস্ত দেয় তৎকালীন সরকার। এতে বাকেরগঞ্জ ও বাউফল উপজেলার দুধলমৌ, দক্ষিন সাদিস, আমরখালী, হোগলা এলাকার চর দাবিদার একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। জমি দখল ও ধান কাটা নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবৎ উভয়ের মধ্যে রত্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, খুন-জখমেরও সৃষ্টি হয়।
প্রত্যেক মৌসুমে এসব চরের জমির প্রকৃত মালিকরা ধান চাষ করলেও পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ ও বাউফলের ওই জনগোষ্ঠীরা ধান লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। এ নিয়ে এবার যে কোন মূল্যে নিজেদের ধান নিজেরা ঘরে তুলবে বলে কৃষকরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে বলে চরগরবদি, সন্তোষদি, বাহেরচর ও আলগির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে দুধলমৌ, দক্ষিন সাদিস, আমরখালী ও হোগলাবাসীরা জানিয়েছে, তারা এপারের ধান কোন মূল্যেই ওপার যেতে দেবে না। ফলে পায়রা-লোহালিয়া নদীর তীরবর্তি দুই উপজেলার কৃষকরা এখন ধান কাটার প্রস্তুতির পাশাপাশি লাঠি, ঢাল, সড়কি, রামদার পাশাপাশি ধারালো সব অস্ত্রের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের সন্তোষদি গ্রামের জয়নাল হাং, আ: খালেক, মজিবর ফকির, কবির খাসহ একাধিক কৃষক জানান, এবার ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তা কাটা যাবে। কষ্ট করে রোপণের পর তা অন্যরা নিয়ে যাবে, তা আমরা কখনোই হতে দেব না।
এদিকে দুমকির চরাঞ্চলের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত প্রকৃত জমির মালিকদের ফসল রক্ষা ও সহিংসতা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুমকির উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান। সন্তোষদির চরাঞ্চলে বাউফলের হোগলা এলাকার অবৈধ দখলদারবাহিনীর লোকজন ধান কাটতে গেলে তিনি বাউফলের ইউএনও ও থানা পুলিশকে খবর দেন। বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে কোনরকম সহিংসতা এড়িয়ে লাঠিয়ালদের প্রতিরোধ করে ধান রক্ষা করেছে। তিনি আরও জানান, ধানকাটা মৌসুমে বিরোধীয় চরে পুলিশের কড়া নজরদাড়িতে রাখা হয়েছে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/দুমকি/মর/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক | |