Current Bangladesh Time
বুধবার নভেম্বর ২২, ২০১৭ ১:১০ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » বরিশাল, বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ, সংবাদ শিরোনাম » পানির নিচে ৩০ ঘণ্টার পরেও জীবিত সোহাগ!
২১ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার ৯:৩৬:২৮ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

পানির নিচে ৩০ ঘণ্টার পরেও জীবিত সোহাগ!
অনলাইন ডেস্ক


পানির নিচে ৩০ ঘণ্টার পরেও জীবিত বরিশালের সোহাগ!

ছবি প্রথম আলো

এমভি মুসা নূর নামের মালবাহী নৌযানে (বাল্কহেড) ততক্ষণে বালু বোঝাই করা হয়েছে। হাতের কাজ সেরে ইঞ্জিনরুমে ঢুকে পড়েছেন সোহাগ। একফাঁকে মুঠোফোনে কথাও বলেছেন মায়ের সঙ্গে। গত ১০ বছরে এই কক্ষেই বেশি সময় কেটেছে তাঁর। ১১ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গন্তব্য ছিল নারায়ণগঞ্জ বন্দর।

১৭ অক্টোবর সোহাগ হাওলাদারের সঙ্গে কথা শুরু হয়েছিল ওই সকালের বর্ণনা দিয়ে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের রাহুতকাঠি গ্রামে সোহাগের বাড়ি। যদিও মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারে না সোহাগ ফিরে এসেছেন।

তাকে নিয়ে প্রথম আলো একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।

সংবাদে সেদিনের স্মৃতিচারণা করে সোহাড় বলেন—‘চলতে চলতে একসময় মনে হলো জাহাজের সামনের অংশ কোনো কিছুতে আটকে গেছে। তখন আমি জাহাজ পেছন দিকে নেওয়ার (গন ব্যাগার) নির্দেশ পাই। গন ব্যাগার দিয়ে আমি ইঞ্জিনরুম থেকে ওপরে উঠে আসি। এ সময় জাহাজটি একদিকে হেলে পড়ছিল।’ তখন সকাল ১০টা। বন্দর উপজেলার ২ নম্বর ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির ডকইয়ার্ডের সামনে ছিল এমভি মুসা নূর।

ওপর থেকে ইঞ্জিন বন্ধ করার ঘণ্টাধ্বনি পান সোহাগ। সঙ্গে সঙ্গে আবার ইঞ্জিনরুমে গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে দরজা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ঢুকছে। পানি ঠেলেই বের হওয়ার চেষ্টা করেন সোহাগ, কিন্তু কিছুতেই বের হতে পারলেন না। সাড়ে ১৬ হাজার বর্গফুট বালুভর্তি এমভি মুসা নূর ধীরে ধীরে ডুবে যায় শীতলক্ষ্যার পানিতে। সেদিন নৌযানে কর্মী ছিলেন মোট ছয়জন। সোহাগ হাওলাদার ছাড়া পাঁচজনই সাঁতরে তীরে ওঠেন। এরপর? সোহাগ হাওলাদার অজানায় দৃষ্টি রাখেন। শুধু বলেন, ‘আমার আর কিছুই মনে নেই।’

এরপর সেদিন বিকেলেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল নিখোঁজ সোহাগ হাওলাদারকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পরও উদ্ধার না হওয়ায় স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণের প্রস্তুতি নেন। ডুবুরি দিয়ে খুঁজতে থাকেন মরদেহ। আনা হয় কফিন, চা-পাতা, সাদা কাপড়। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলল উদ্ধার তৎপরতা। কিন্তু খুঁজে পাওয়া গেল না সোহাগের মরদেহ। সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো উদ্ধার অভিযান।

এদিকে পরদিন সোহাগের মরদেহ উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়েছিল অনেকে। তবে হাল ছাড়েননি স্বজনেরা। রামবাসী প্রস্তুতি নেন গায়েবানা জানাজার। কিন্তু বিকেল চারটায় থেমে গেল সব প্রস্তুতি। শোকের কান্না রূপ নিল আনন্দের অশ্রুতে। কারণ, তখন সোহাগের বাড়িতে পৌঁছে গেছে ডুবুরি জাহাঙ্গীরের কথা—‘বেঁচে আছে।’

এরপর শুরু হয় তাঁর উদ্ধারকাজ। জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, ‘আমি ইঞ্জিনরুমে গিয়ে দেখি সামনে ও পেছনে দুটি দরজাই আটকানো। প্রথমে গিয়ে পেছনের দরজা ভাঙার চেষ্টা করি। পরে ব্যর্থ হয়ে সামনের দরজা ভাঙি।’ দরজা খোলার পর সেটা বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। জাহাঙ্গীর আবার ওপরে ওঠেন। বড় দড়ি নিয়ে ফের নামেন পানিতে। দড়ি দিয়ে দরজা একটি হুকের সঙ্গে বাঁধেন জাহাঙ্গীর আলম সিকদার। ঢুকে পড়েন রুমের ভেতরে। জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, ‘সেখানে কোনো পানি ছিল না। শুধু হাওয়া ছিল। আমি ভাবছি, মৃতদেহ হয়তো পানিতে ভেসে থাকবে। ভেতরটা ছিল খুব অন্ধকার। ডিজেলের গন্ধ।’ আধা ঘণ্টা পর খুঁজে পান সোহাগ হাওলাদারকে।

খুঁজে পাওয়া সোহাগ যে তখনো জীবিত, বুঝে উঠতে পারেননি জাহাঙ্গীর আলম সিকদার। তিনি বলেন, তাঁর শরীরে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাত সরিয়ে দেন। আর বলেন, আল্লাহ। অবিশ্বাস্য মনে হয় জাহাঙ্গীর আলমের। অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন তিনি। সোহাগের কাছে জানতে চান, ‘জীবিত আছ?’ উত্তর আসে, ‘হ্যাঁ।’

জাহাঙ্গীর আলম অভয় দিয়ে সোহাগ হাওলাদারকে বলেন, ‘ভয় পেয়ো না, তোমারে উদ্ধারের চেষ্টা করতেছি।’ ওপরে উঠে অন্য ডুবুরির অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে আবার চলে যান সোহাগের কাছে। কিন্তু ভয়ে কাঁপছিলেন সোহাগ। মাস্ক পরতে চাইছিলেন না। জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, ‘তাকে বললাম, দেখো, আমি মানুষ। আমার দাড়ি ধরালাম। বুক মেলালাম।’

এভাবেই তাঁর সঙ্গে কথোপকথন চলল ৫০ মিনিট। সংবিৎ খুঁজে পান সোহাগ। রাজি হন মুখোশ পরতে। জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলছিলেন, ‘বেল্ট লাগিয়ে তাকে আস্তে আস্তে ওপরে ওঠালাম। ভেতরে অনেক লোহালক্কড় ছিল। ব্যথা যাতে না পায়, সে জন্য মাথায় এক হাত রেখে ওপরে তুললাম।’ এর মধ্যেই পেরিয়ে গেছে ৩০ ঘণ্টা।-প্রথম আলো

 

 

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
বাবা ভেবেছিলেন ছেলে আর ফিরবে না
শেবাচিমে রোগীর স্বজন-চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারি
বেতাগীতে লাভ জনক কৃষি পণ্য সুপারি
মালয়েশিয়ায় সংগ্রামী জীবন ঝালকাঠির নাসিরের
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে চাকরির সুযোগ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]