Current Bangladesh Time
বুধবার নভেম্বর ২২, ২০১৭ ১:০০ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » আমতলী, বরগুনা, বরগুনা সদর, সংবাদ শিরোনাম » সিডরে নিখোঁজ ৯ জনের পরিবারে এখনো মাতম
১৪ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার ৪:৫৩:৩১ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

সিডরে নিখোঁজ ৯ জনের পরিবারে এখনো মাতম
জাকির হোসেন, আমতলী


সিডরে নিখোঁজ আমতলীর ৯ জনের পরিবারে এখনো মাতমবরগুনার আমতলীর ঘটখালী গ্রামে সিডরে নিখোঁজ ৯ জনের পরিবারে এখনো কান্নার মাতম চলছে। কিছুতেই থামছে না তাদের কান্না। আলতাফ এবং দোলোয়ার নামে দুই ছেলে হারিয়ে এখনো চোখের পানিতে দিন কাটে ষাটোর্ধ মা মালেকা বেগমের।

সিডরের আগে ঘটখালী গ্রামের ১৪ জন দিনমজুর সংসারের অভাব ঘোচাতে সুন্দর বনের কচিখালী এলাকায় ধানসি কাটতে গিয়ে সিডরের রাতে ৯ জন নিঁখোজ হন। এখনো তাদের কোন কোন সন্ধান মেলেনি। সংসারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যাক্তিদের হারিয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটে এখন এসকল পরিবারের সদস্যদের।

আজ মঙ্গলবার (০১৪ নভেম্বর) সকালে ঘটখালী গ্রামে সরেজমিন ঘুরে এবং সিডরের হাত থেকে বেঁচে আসা মজিদ খা জানায়, এই গ্রামের দরিদ্র ছোবাহান মোল্লা, ইউসুব, খলিল, হোসেন হাওলাদার, রত্তন ঘরামী, আলতাফ খা, জব্বার ঘরামী, মনিরুল খা, দেলোয়ার খা, আহসান, রিপন, সোহেল ও কালাম নামে ১৪ জন মিলে একটি ট্রলার ভাড়া করে সংসারের অভাব ঘোচাতে সিডরের ২ দিন আগে সুন্দর বনের কচিখালী চরে গিয়েছিলেন ধানসি কাটতে।

ধানসিই যেন সিডরের রাতে কাল হয়ে এসেছিল তাদের জীবনে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি শুরু হলে ১৪জন মিলে ট্রলারের মধ্যেই অবস্থান নেয় সকলে। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ৩০ -৩৫ হাত উচ্চতার জলোচ্ছাস আছরে পড়ে ট্রলারের উপরে।

মুহুর্তের মধ্যে ট্রলার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই নিখোঁজ হয়ে যাই। পরের দিন ঞ্জান ফিরে দেখি চরের একটি ছইলা গাছের ডালের সাথে ঝুলে আছি। এর পর কয়েক জন জেলে এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় খুলনায় সেখানে একদিন থাকার পর পায়ে হেটে ৩ তিন পর বাড়ি আসি।

পরের দিন আহসান, রিপন ও কালাম বাড়ি ফিরে আসলেও ১০ জন নিখোঁজ থাকে। ৯ বছর পর গত বছর সোহেল নামে আরএকজন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে। সে কোথায় কিভাবে নিঁখোজ ছিল কিছুই বলতে পারে না। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৯ জন। কথা গুলো বলছিলেন আর বার চোখ মুছলিনে মজিদ।

তিনি বলেন, জীবনে আর বাড়ি ফিরতে পারবো তা কখনো ভাবিনী। বেচে আসা অন্য ৩ জন আহসান, রিপন ও কালাম।

কালাম জানান, ঢেউয়ের তোরে ভেসে গিয়ে আমরা ৩ জন সুন্দর বনের গাছের সাথে আ্টকে পড়ায় বেচে যাই। তবে বাইচ্যা আছি ঠিকই কিন্তু এহন ঠিক অইতে পারি নাই। কোন কাম কাইজ ঠিক মত এহন করতে পারি না। কোন হানে গেলেই সিডরের সেই তান্ডবের কথা মনে পরে। তহন গা সিউরে ওঠে। এহন মরার মত বাইচ্যা আছি।

সিডরে নিখোঁজ ঘটখালী গ্রামের দুই ভাই দেলোয়ার খা ও আলতাফ খানের মা ষাটোর্ধ মালেকা বেগম এখনো দুই ছেলের জন্য চোখের পানিতে দিন কাটান। কিছুতেই তার কান্না থামছে না।

সাংবাদিক পরিচয় দেওয়াতেই তিনি গগন বিদারী আর্তনাদ করে বলেন, মোর পোলা দুইডারে ফিরাইয়া আইননা দ্যান। মুই এহন ক্যা বাইচ্যা আছি। অগো মরার আগে অল্লায় মোরে নেয় নাই ক্যা। ওআল্লা মোরে এহন মাইর‌্যা হালাও।

দেলোয়ার ও আলতাফের রয়েছে স্ত্রী এবং ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। দাদা আলী আজিম খার সংসারে এখন তাদের ঠাই হয়েছে। অভাবী সংসার কিছুতেই চলছে না তাদের লেখা পড়াসহ সংসারের খরচ মেটানো জানালেন দাদা আলী আজিম খা।

দেলোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, সিডরের পর বিভিন্ন এনজিওর লোকজন খোজ নিলেও এখন আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।

নিখোঁজ রত্তন ঘরামীর স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, খুব অসহায় অবস্থায় আছি দুই ছেলে সাব্বির ও সাজ্জাদ। বড় ছেলে আই এ পড়ে ছোট ছেলে ৭ম শ্রেণিতে। তাদের লেখা পড়ার খরচ দিতে পারি না। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই।

নিখোঁজ মনিরুলের মা ছালেহা বেগম জানান, অভাবী সংসারের খাওয়ার লইগ্যাই পোলাডায় কাম করতে জাইয়া নিখোঁজ অইছে। এহন পোতের দিকে চাইয়া থাহি। কথা গুলো বলছিলেন আর বার বার কাপরের আচল তুলে চোখ মুছছিলেনে।

নিখোঁজ ছোবাহান মোল্লা, ইউসুব, ও হোচেন হাওলাদারের পরিবারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল তারা অভাবের তারনায় ছেলে মেয়ে নিয়ে কাজের সন্ধ্যানে ঢাকায় চলে গেছে। ইট ভাটা কিংবা বাসা বাড়িতে ঝি এর কাজ করে তাদের এখন জীবিকা চলে।

ঘটখালী গ্রামের সমাজ সেবক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, সিডরের পর সরকারী বেসরকারী ভাবে কিছু পেলেও এখন আর কেউ নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খোজ নেয় না। সংসারের আয়ের এক মাত্র ব্যাক্তিদের হারিয়ে অনেকেই অভাবের তারনায় এখন এলাকা ছেরে কাজের জন্য ঢাকা পারি জমিয়েছে। অভাবী এসকল পরিবারের সদস্যদের সরকারী ভাবে পুন:বাসনের দাবী জানান তিনি।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে বরগুনা জেলায় ১হাজার ৩শ’৪৫ জন মানুষ মারা যায়। নিখোঁজ হয় ১৫৬ জন। লন্ড ভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকার বিস্তির্ন জনপদ। বিরান ভূমীতে পরিনত হয় গোটা উকূল। সেই স্মৃতি ধারন করে বেচে আছে আমতলীসহ গোটা উপকূলবাসী।

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
বাবা ভেবেছিলেন ছেলে আর ফিরবে না
শেবাচিমে রোগীর স্বজন-চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারি
বেতাগীতে লাভ জনক কৃষি পণ্য সুপারি
মালয়েশিয়ায় সংগ্রামী জীবন ঝালকাঠির নাসিরের
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে চাকরির সুযোগ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]