Current Bangladesh Time
মঙ্গলবার জানুয়ারী ২৩, ২০১৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পটুয়াখালী, পটুয়াখালী সদর, বরগুনা, বরগুনা সদর, সংবাদ শিরোনাম » অকাল বৃষ্টিতে উপকূলের কৃষকের মাথায় হাত
১১ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার ৫:০৪:৩১ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

অকাল বৃষ্টিতে উপকূলের কৃষকের মাথায় হাত
নিউজ ডেস্ক


বাউফলে বৃষ্টিতে কৃষকের মাথায় হাতসাগরে নিম্নচাপের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে টানা চারদিনের মতো বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।

গত শুক্রবার থেকে টানা চারদিনের অকাল বৃষ্টিতে গোটা উপকূলজুড়ে কৃষকের পাকা আমন ধানসহ সবজি চাষীদের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

কৃষকরা জানান, অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি আমন মৌসুমে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আমন এবং ইরি ধানগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে।

১৫ থেকে ২০ দিন পর যে ধান কৃষকরা গোলায় নিতে পারতো তা এখন মাটি এবং পানির সাথে মিশে গেছে। বৃষ্টির কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে ইদুর এবং পোকার উপদ্রব। ফলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হলেও অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় কৃষক।

কৃষক বসির হাওলাদার জানান, তিনি এ বছর দশ একর জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করেছেন। বৃষ্টির কারণে তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একই উপজেলা কাছিয়াবুনিয়ার তরমুজ চাষী সাখাওয়াত হোসেনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, এই বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিখাতে ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। কোনো কোনো এলাকার ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবার কোনো এলাকার ধান কাটা এখনও উপযোগী হয়নি। আবহাওয়া এভাবে চলতে থাকলে তরমুজ, খেসারি ডাল, ফেলন ডাল এবং সরিষার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন রবিশষ্য রোপণকারী কৃষকরা। সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সরেজমিন মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাউফলে এ বছর ৪ হাজার হেক্টর খেসারি ডালের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আলু সবে মাত্র কিছু কিছু চাষিরা রোপণ শুরু করায় মুল লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়নি।

উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চররায়সাহেব এলাকার জসিম হাওলাদার ও গনি হাওলাদার নামের দুই কৃষকের ২৫ একরের একটি তরমুজ ক্ষেত সম্পূর্ন পানিতে তলিয়ে গেছে। শুয়ে পড়েছে আমন ধানের ক্ষেত। পানিতে তলিয়ে গেছে খেসাড়ি ডালে ক্ষেত।

চরকালাইয়া ও উত্তর কালাইয়া গ্রামের পংকজ সরকার, মাহবুল সরকার ও রমেশ সরকারসহ প্রায় ১০ থেকে ১২জন কৃষকের ২২ একর জমির আলু ক্ষেত পানিতে পচে গেছে। একই এলাকার আফজাল ও ছালাম মিয়াসহ অনেক কৃষকের খেসারি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত। এ ছাড়াও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকার চাষি শংকর হাওলাদার জানান, আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকরা এত পানিতে নেমে ধান কাটতে অনিহা প্রকাশ করছেন। দুই একদিনে যদি পানি না নামে তাহলে হয়ত বেশি ধান ক্ষেত পচে যাওয়া সম্ভাবনা থাকবে। সবজির মধ্যে মূলা ও ধনিয়া পাতার ক্ষেত বেশি নষ্ট হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সরোয়ার জামান জানান, অকাল বৃষ্টিতে পাকাধান ৫ শতাংশ, অন্যান্য রবিশষ্যের শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে খেসারি ডালের যা প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য কৃষকদের মুগডাল চাষাবাদের আগ্রহী করার জন্য কাজ করবে কৃষি বিভাগ।

তিনি আরো জানান, বৃষ্টির পানি শুকানোর পর রবিশষ্যের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে এরফলে রবিশষ্যের ভাল ফলন নিয়েও চিন্তা রয়েছে।

এছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা, কাকচিড়া, কাঞ্চুরহাট, কামার হাট, চরদুয়ানী, কাঠালতলী, ছোটপাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, তিন দিনের বৃষ্টিতে কৃষকের কাচা-পাকা ধান লুটিয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকেরা ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে পড়েছেন চরম শঙ্কায়।

বৃষ্টিতে ক্ষেতের পাকা ধান মাটির সাথে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘরে তুলতে পারছে না পাকা ধান। আধা পাকা যে ধান রয়েছে, তা চিটা হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। বৃষ্টি বেশি হলে আলুসহ অন্যান্য শস্যেরও ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে। অসময়ের এমন বৈরি আবহাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ১৫০ শতাংশ জমিতে ধান রোপন করেছি। এর মধ্যে ২০ শতাংশ জমির ধান ঘড়ে তুলতে পেরেছি। বাকি ধান বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার বেশির ভাগ জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যে ধান মাটিতে পড়ে গেছে সেগুলো অর্ধেকের বেশি চিটা হয়ে যাবে। এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে সবজি পচে যাচ্ছে।

উপজেলার আমড়াতলা গ্রামের মো. মোস্তফা জানান, তার প্রায় ৬০ শতাংশ জমির অধিকাংশ ধান টানা-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে পানির মধ্যে নুয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়া ধান চিটা হয়ে যাবে।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, পাথরঘাটায় সাড়ে ১২শ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের (মোটা) ধান চাষাবাদ হয়েছে। বৃষ্টিতে আপাতত বড় কোনো ক্ষতি না হলেও বর্তমানে ৩০ ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে গেছে।

আরো পড়ুন..
বেতাগীতে বৃষ্টিতে ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
দেশের সাংস্কৃতি গ্রাস করছে বিদেশী চ্যানেল -চিফ হুইপ
ঘুষ নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচার করেছিলেন সেই মোতালেব
জেল খালে অপরিকল্পিত সেতু, দখল-দূষণে ২৪ খাল
‘মনোমুগ্ধ’ এক টুকরো বাংলাদেশ
মে মাসের শেষে বরিশাল সিটি নির্বাচনের সম্ভাবনা
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]