দুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ত্রাহি অবস্থা
 দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
দুমকি, ১৯ জানুয়ারী (মোঃ মজিবুর রহমান/আমাদের বরিশাল ডটকম): পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রমে ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের পদশূন্য, এক্স-রে মেশিন অচল, প্যাথলজিতে রিয়েজেন্ট নেই, প্রয়োজনীয় ঔষধ নেই। মাত্র একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড, দায়িত্ব পালন করছেন ইমার্জেন্সি, আউট ডোর-ইনডোরে। সব মিলিয়ে ৩১শয্যার উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। ১৮ জানুয়ারী বুধবার সকালে হাসপাতালটির এ করুণ হাল দেখা গেছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় উপজেলা হাসপাতালের করিডোরে দেখা গেল ১০/১২ জন লোকের জটলা। এগিয়ে গিয়ে শুনাগেল মারাত্মক ইনজুরির এ রোগী এসেছে চিকিৎসা নিতে কিন্তু চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যচ্ছে না। সিকিউরিটি গার্ড বাবুলের উচ্চ কন্ঠে বলতে শোনা গেল টি.এইচএ (ডা: মীর শহীদুল হাসান)সহ অন্যান্য ডাক্তাররা সবাই ট্রেনিংএ গেছেন। ইমার্জেন্সিতে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড ডা. জাহিদ গুরুতর জখমী রাজিয়া বেগমের আঘাত পাপ্ত মাথায় সেলাইসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, টিএইচএ’র রুমে তালা ঝুলছে। চেম্বার খোলা থাকলেও ডা. মাজেদা বেগমের চেয়ার শূণ্য। ফার্মেসীর জানালা খোলা থাকলেও দরজা বন্ধ, প্যাথলজির দরজা খোলা লোক শূণ্য, ওটি ও এক্স-রে বিভাগে তালা ঝুলছে। মেডিকেল সহকারী ডা: জাহিদের সাথে কথা বলে জানাগেল, কয়েকদিন যাবৎ তিনি একাই টিএইচএ, আরএমও এবং মেডিকেল এসিস্ট্যান্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অন্যান্য চিকিৎসকরা কোথায় আছেন জানতে চাইলে মেডিকেল সহকারী ডা: জাহিদ বলেন, সবাই পটুয়াখালীতে ট্রেনিং নিচ্ছেন। অন্যান্য কর্মচারীরা কোথায় এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আছে, হয়তো চায়ের দোকানে চা-নাস্তা করতে গেছে। হাসপাতাল অরক্ষিত রেখে সবাই একযোগে চা-নাস্তা করতে গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা নেইতো- তাই চা দোকানে তারা আড্ডা মারছে।
দোতলার পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ১৫টি বেডের মধ্যে ৮/৯টি বেডই শূন্য। ৩টি বেডে ৩জন রুগী শুয়ে আছেন। অন্য ৩টি বেড ওই ২জন রুগীর লোকজন থাকছেন। মহিলা ওয়ার্ডের অবস্থাও অনুরূপ। মাত্র ৩টি বেডে রুগি ভর্তি আছে।
৩নং পুরুষ বেডের ভর্তি পেটে ব্যাথার রুগী মন্নান মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে ভর্তি হয়ে ভুল হয়েছে, ডাক্তার আসে না, তিন দিন আগে একবার দেখে গেছে আর ওই ডাক্তারের দেখা পাই নাই। একজন নার্স দিনের বেলা থাকেন, কিন্ত রাতের বেলা থাকেন না। হাসপাতাল থেকে কোন ঔষধ পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।
খাবার সম্পর্কে তিনি বলেন, সকালে ২টাকা দামের একটি রুটি ও কলা, দুপুর ও রাতে একপ্লেট ভাত দেয়, তরকারিতে হয় না। চিকিৎসা সেবা না থাকার পরেও আছেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘কি করমু বাবা, গরীব মানুষ, টাকা-পয়সা নাই, ঔষধ না দিলেও দুগ্গা ভাততো দেয়, এ্যারলগ্যিই (এর জন্য) আছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা ও টিএইচএ ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন মুঠোফোনে জানান তিনি পটুয়াখালীতে একটি ট্রেনিং হলে আছেন। হাসপাতালের চিকিৎসার বেহাল দশা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের হাসপাতালগুলো সিভিল সার্জনের মন-মর্জিতে চলে। এখানে ৯টি পদের মধ্যে মাত্র ৪জন মেডিকেল অফিসার আছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রুগীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান অত্যন্ত দুরহ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ, এক্স-রে মেশিন সংস্কারসহ যাবতীয় বিষয়ে সিভিল সার্জনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলোও কোন কাজ হচ্ছে না।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/দুমকি/মর/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |