বরগুনায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমূখর পরিবেশে প্রচারণা
বরগুনা, ১৯ জানুয়ারী (মনির হোসেন কামাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনা জেলার সর্ব দক্ষিন প্রান্তে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন তালতলী থানা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ২ জানুয়ারী নিকারের সভায় উপজেলা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন গত বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হলেও সীমানা জটিলতার কারনে তালতলীর নব-গঠিত ৭টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে ৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন সীমানা জটিলতা ও নামকরণ সমস্যার কারনে অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা। বাকী ৪টি ইউনিয়ন বড়বগী, নিশানবাড়ীয়া, কড়ইবাড়ীয়া, সোনাকাটা ইউনিয়নের নির্বাচন আগামী ২১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে।
এ ৪টি ইউনিয়নে ২৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারণ সদস্য আসনে ১৫১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করছেন। ৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৯৮। এদের মধ্যে নারী ১৬ হাজার ৫৪০ এবং পুরুষ ১৬ হাজার ৫৮। এদিকে ৬ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে ভোটাররা চাচ্ছেন একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করে নির্বাচিত করতে।
নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করে প্রার্থী ও সমর্থকদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালালেও উৎসব মূখর পরিবেশেই প্রচারণা চলছে। নির্বাচনী আনন্দ এখন ঘরে ঘরে। প্রার্থীরা ছুটছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। আর ভোটাররা ছুটছে প্রার্থীর বাড়ি। চা-পান খাওয়ার পাশাপাশি হিসেব নিকেশ চলছে পুরোদমে। সবাই জয়ী হবার স্বপ্ন দেখছেন। প্রত্যন- অঞ্চলে মিছিল-মিটিং চলছে। বিকল্প পদ্ধতিতে চলছে প্রচারনার মহড়া। প্রার্থীরা চাচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করতে, আর ভোটাররা চাচ্ছে একজন সৎ, যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে। তবে যাই হোক সর্বশেষ ফলাফল দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২১ জানুয়ারী পর্যন্ত।
হোটেল, রেস্তেরাঁ থেকে শুরু করে সর্বত্র বইছে নির্বাচনী আমেজ। চায়ের আড্ডায় কাজের মাঝে ভোটারদের আলোচনার বিষয় একটি আর তা হচ্ছে কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান। যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিই ভোটারদের পছন্দনীয় প্রার্থী। ভোটের পাল্লায় রাজনৈতিক দলের বিবেচনার পাশাপাশি ভোটাররা প্রার্থীর বিগত দিনের কার্যক্রমের চুলচেরা বিশ্লেষণে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করছে না। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা স্ব-স্ব পক্ষে কর্মী সমর্থন নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বসে নেই সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার প্রার্থী ও সাধারণ ওয়ার্ডের প্রার্থীরা। কাক ডাকা-ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তারা পেছনের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করছেন না।
কোন কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আবার ভোট লাভের আশায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি বিশেষকে নগদ অর্থ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী সমানে সমান। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় দলের রয়েছে একাধিক প্রার্থী।
তালতলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল হক আনারস প্রতীক, থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিঞা (আলম মুন্সী) কাপ-পিরিচ প্রতীক ও থানা যুবদলের সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন। আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী মোঃ শাহজাহান বেপারী দেয়াল ঘড়ি এবং কুয়েত প্রবাসী বিএনপি সমর্থক জাকির হোসেন খলিফা তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদন্দ্বিতায় কোন অংশে কম নেই।
কড়ইবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী থাকলেও দু’জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এরা হলেন কড়ইবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জলিল শরীফ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মাস্টার। অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপি নেতা মাওলানা মানজুরুল আলম, বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লা, সাবেক মেম্বার আলতাফ হোসেন আকন, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেম্বার বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল।
নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিএনপিসহ ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আবদুস সাত্তার হাওলাদার (মাস্টার) বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা দাবি করেন। তবে অন্যরাও তেমন পিছিয়ে নেই। এই ইউনিয়নে অপর প্রার্থীরা হলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মহিবুল্ল্লাহ গাজী, নব্য আওয়ামীলীগ সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী, থানা জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান হাওলাদার, বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বর শাহজাহান হাওলাদার, মশিউর রহমান লেলিন ও জামায়াত নেতা জালাল আহম্মেদ পিয়াদা।
সোনাকাটা ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ফরাজী মোঃ ইউনুচ বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে ভোটাররা আশাবাদী। ক্লিন ইমেজ হিসেবে পরিচিত ফরাজী মোঃ ইউনুচ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এই ইউনিয়নে অপর প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোঃ কবির হোসেন আকন, নব্য আওয়ামীলীগ নেতা খলিলুর রহমান ফরাজী ও গ্রিস প্রবাসী মোঃ নূরুল ইসলাম।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরগুনা/মহো/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |