অনৈতিক কাজের অভিযোগে চিত্রনায়িকা কেয়া আটক, ৫০০ টাকায় মুক্ত
বিনোদন ডেস্ক:: অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে চিত্রনায়িকা সাবরিনা ইতি কেয়াসহ ১০ জন নারী ও পুরুষকে আটক করেছে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল। ২২ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার গুলশান নিকেতনের এক নম্বর সড়কের ১৫/১৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে পুলিশ। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের তদবিরে পুলিশ শুরুতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিষয়টি মিডিয়ায় জানাজানি হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত নায়িকা কেয়াকে আটক করার খবরটি স্বীকার করে নেয় পুলিশ। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার কেয়াসহ আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করে মুক্তি দেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ২২ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় গুলশান থানা পুলিশের একটি দল নিকেতনের এক নম্বর সড়কের ১৫/১৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ সেখান থেকে চিত্রনায়িকা কেয়াসহ ১০ জন নারী ও পুরুষকে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটক করে।
এদিকে গ্রেফতারের পর নায়িকা কেয়াকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে থানায় ফোন আসতে থাকে এবং কেয়ার মা মেয়েকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আসেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকেও কেয়ার জন্য তদবির করা হয়। কিন্তু বিষয়টি মিডিয়ায় জানাজানি হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ নায়িকা কেয়াকে গ্রেফতার করার খবরটি স্বীকার করে নেয়।
এরপর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল বারিক বাদী হয়ে নায়িকা সাবরিনা ইতি কেয়াসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে ডিএমপি অধ্যাদেশ ১০০/৭৪ ও ১৯৩৩ সালের ৬নং আইনের নীতিহীন ব্যবসা দমন আইনের ৮ ধারায় থানায় মামলা (নং ৪৪) দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাজ্জাদ হোসেন (৪৫) ও সেলিনা ইয়াসমিন পপি (৩৮) বিভিন্ন সময় বাসা পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে যুবতী-যুবকদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করে আসছে। এদেরকে বাসায় রেখেই ব্যবসা করে আসছিলেন সাজ্জাদ ও পপি।
কেয়া, সাজ্জাদ, পপি ছাড়াও এ সময় আটক করা হয় সাবিনা বেগম, খুকু, অরপা, মর্জিনা আক্তার, নাসরিন আক্তার বিউটি, আমেনা খাতুন রুনা ও সোহেলকে। নারীদের সবাই আধুনিক সাজে সজ্জিত, স্মার্ট ও সুন্দরী।
অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন নায়িকা কেয়া। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কঠিন বাস্তব’ ছবিতে আমিন খানের সঙ্গে প্রথম যখন অভিনয় করেন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪। এরপর টানা প্রায় ডজন দুয়েক ছবিতে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রে কেয়া প্রয়াত নায়ক মান্না, রুবেল, আমিন খান, রিয়াজ, ফেরদৌস আর শাকিব খানের বিপরীতে একসময় অভিনয় করেছেন।
সুন্দরী এই নায়িকা ‘তিব্বত স্নো’ বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে তৈরি করেন ক্রেজ। তারপর একে একে তিব্বত লিপজেল, সাগুপতা, জিএমজি এয়ারালাইন্স, বসুধা হাউজিংসহ বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরেন।
এর আগে জুবায়ের নামের এক ধনকুবেরের হাত ধরে তিনি পাড়ি দেন আমেরিকা। কিন্তু দু’বছর ঘুরার আগেই সেই সম্পর্কে ইতি টেনে দেশে ফিরেন কেয়া। আমেরিকা থেকে দেশে ফিরার পর কেয়া মিডিয়ায় নিয়মিত কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন। বেশক’টি ছবিতেও তিনি কাজ করেন এবং চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু আবারও কিছুদিন পর ঢাকার কাকরাইলের বাবুল নামের এক গাড়ি ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে আবার চলে যান স্বেচ্ছা নির্বাসনে। অবশ্য তার দ্বিতীয় বিয়েও টিকেনি। জোট সরকারের আমলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও গড়ে উঠেছিল কেয়ার ঘণিষ্ঠতা।
শোবিজ থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া কেয়া অবশ্য নতুন করে হালে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। বেশ কিছুদিন বিরতির পর আবারও নতুন করে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। নতুন নায়ক আবিরের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ শুরু করেন আবুল খায়ের বুলবুলের পরিচালনায় ‘ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম’ ছবিতে। এ ছাড়াও কেয়ার হাতে থাকা উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে রকিবুল আলম রাকিবের ‘জান তুমি প্রাণ তুমি, বাবুল রেজার ‘কাঁটাদাগ’, রাজু আকবরের ‘রক্তে ভেজা মাটি’, কমল সরকারের ‘এক টাকার ছেলে কোটি টাকার মেয়ে’, প্রভৃতি।
কিন্তু অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে বেরিয়ে আসতে পারেননি কেয়া। অনৈতিক কমকাণ্ডের অভিযোগে এবার তাই হাজতের অন্ধকারে তাকে কিছু সময়ের জন্য মুখ থুবড়ে পড়তে হলো।
|