আমতলীর সুবন্দি বাঁধ, লাখো মানুষের মরণ ফাঁদ
 সুবন্দি বাঁধের কারণে কচুরীপানায় ভরে গেছে চাওড়া খাল। ইনসেটে সুবন্দি বাঁধ (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
মনির হোসেন কামাল :: সুষ্ঠু পানি নিস্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় আমতলী উপজেলার সুবন্দি বাঁধ এখন লাখো মানুষের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। বাঁধের কারনে কৃষি ও গৃহস্তালি কাজে খালের পানি ব্যবহার করতে না পারায় ‘চাওড়া’ খালের দু’পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দিশেহারা হয়ে পরেছে। পানির প্রবাহ না থাকায় খালটি কচুরীপানায় ভরে গেছে এবং পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। গবাদী পশুও খালের পানি পান করছে না। ঘরে ঘরে চর্মরোগ এবং পচা দুর্গন্ধের কারনে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার চাওড়া, হলদিয়া. কুকুয়া ও সদর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের উপর দিয়ে এ ‘চাওড়া’ খাল প্রবাহিত। ত্রিভুজ আকারে রামনাবাদ, টিয়াখালী ও পায়রা নদীর সাথে চাওড়া খাল ও শাখা খালের সংযোগ।
চাওড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ মহসিন আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, অপরিকল্পিত বাধ ও স্লুইজ গেট নির্মান এবং স্লুইজগেটগুলো অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রন করায় পানি নিস্কাশন সঠিকভাবে হচ্ছে না। উপরন্তু গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড রাতারাতি চাওড়া খালের সুবন্দি নামক স্থানে একটি বাঁধ দেয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পানির প্রবাহ না থাকায় খালটি কচুরী পানায় ভরে গেছে এবং কচুরী পানা পঁচে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। ফলে এ খালের পানির উপর সরাসরি নির্ভরশীল আমতলী সদর ইউনিয়নের ছুরিকাটা, নাচনাপাড়া, আড়ুয়া বৈরাগী, ভায়লাবুনিয়া, মহিষডাঙ্গা, চাওড়া ইউনিয়নের লোদা, চলাভাঙ্গা, কাউনিয়া, চন্দ্রা পাতাকাটা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া, উত্তর তক্তাবুনিয়া ও রাওগা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা হয়ে পরেছে।
রাওঘা গ্রামের শাহআলম মৃধা জানান, খালের পানি ব্যবহার তো দুরে থাক স্পর্শ করলেও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ পানিতে হাত পা ধোয়ায় চন্দ্রা গ্রামের কৃষক আবদুস ছত্তারের দু’হাত পায়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে। একই গ্রামের রোশনা বেগম জানান, গৃহস্তালি কাজে তারা এ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। প্রায় ৩ কিমি দুর থেকে তাদের রান্না বান্নার পানি আনতে হয়।
চাওড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার জানান, চাওড়া খালের সাথে ৩টি বৃহৎ নদীর সংযোগ থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত বাধ, স্লুইজ গেট ও ইন লেট নির্মানের কারনে এ এলাকার মানুষের জীবন এখন বিপন্ন প্রায়।
পানি নিস্কাষনে স্থায়ী সমাধান এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে সুবন্দি বাঁধটি কেটে দেয়া প্রয়োজন। সেচ, পানি নিস্কাষন সমসা এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে এ এলাকার কৃষি ও হাজার হাজার কৃষক বাঁচানোর জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান ও সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাম শম্ভু, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম নেতা এনএসএস’র নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, সুবন্দি বাঁধের কারনে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। তিন ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর স্বার্থেই চাওড়া খালের সুবন্দি বাঁধ কেটে দেয়া প্রয়োজন।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরগুনা/মহো/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |