প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দরঃ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে বিমান চলাচল
 বরিশাল বিমানবন্দর – ফাইল ফটো
বরিশাল ডেস্ক :: দীর্ঘ চার বছর পর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর। বহু প্রতিক্ষিত বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে আগামী মাস থেকে চালু হচ্ছে উড়োজাহাজ চলাচল। বেস্ট এয়ার ওয়েজ নামের একটি বেসরকারী উড়োজাহাজ কোম্পানীকে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে উড়োজাহাজ সার্ভিস পরিচালনা করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানীটির কর্তৃপক্ষ আগামী ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এ রুটে বিমান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন বরিশাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, বেস্ট এয়ার বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে উড়োজাহাজ সার্ভিস পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারী মাস থেকে তারা বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করবে বলে বেস্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে। যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বেস্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ মার্চ মাসের আগে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আকাশপথে চলাচলে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, বরিশালের বেশীরভাগ মানুষ বর্তমানে লঞ্চে ও বাসে চলাচল করেন। লঞ্চ যাত্রীদের বিমানে চলাচলের জন্য আকৃষ্ট করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার। তাছাড়া প্রতিদিন সকাল ও বিকেল দুই বেলা ঢাকা ও বরিশাল প্রান্ত থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করলে ও আকাশপথে চলাচলের ভাড়া নিয়ন্ত্রনে রাখলে যাত্রীরা আকাশপথে চলাচলে আগ্রহী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেস্ট এয়ার ওয়েজের বরিশাল অফিসের সমন্বয়কারী হাসানুল হক আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, গত বছরের ১৮ এপ্রিল তারা কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি বেস্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ এটিআর -৭১ মডেলের ৩টি যাত্রীবাহী ও ১টি কার্গো ক্রয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চলতি মাসেই বিমানগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে। সে অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে তারা উড়োজাহাজ সার্ভিস পরিচালনা শুরু করতে পারবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, প্রথম অবস্থায় বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে তাদের ৬৮ থেকে ৭২ আসনের একটি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে বেশি আসনের উড়োজাহাজ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বেস্ট এয়ারের সমন্বয়কারী জানান, বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে যাত্রী প্রতি আড়াই থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বরিশাল বিমানবন্দর। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান চলার মাধ্যমে এ বিমান বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালের শেষের দিকে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় জাতীয় পতাকাবাহী বিমান চলাচল। মাঝে এয়ার পারাবাত ও জিএমজি এয়ারলাইনস ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে চলাচল করলেও তাও লোকসানের অজুহাতে একসময় বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চালু হয় ৩৭ সিটের বেসরকারি সংস্থার ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। তাও একই কারণে ওই বছরের ৫ মে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে কোন উড়োজাহাজ বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেনি।
এ সম্পর্কিত আরো খবরঃ
বরিশাল বিমানবন্দরঃ সবই আছে শুধু বিমান নেই
বাবুগঞ্জে অবহেলিত ও অরক্ষিত বরিশাল বিমানবন্দরঃ ভবিষ্যতে চালুর ব্যাপারে জনমনে সন্দেহ
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |