পিরোজপুরে ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিসহ আহত ৩৫
 পিরোজপুরে ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষের সময় পুলিশের অ্যাকশন (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
পিরোজপুর, ৪ জানুয়ারী (মাহামুদুর রহমান মাসুদ/আমাদের বরিশাল ডটকম): পিরোজপুরে ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, এ.এসপি সার্কেল আকরাম হোসেনসহ ২৫-৩০ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের একাংশের বের করা আনন্দ র্যালীতে পুলিশ বাঁধা দিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের এক নেতার ইঙ্গিতে পুলিশ ছাত্রলীগের এ কর্মসূচীতে বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আহত নেতাকর্মীরা।
৪ জানুয়ারী বুধবার সকালে পিরোজপুরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ পৃথক পৃথক কর্মসূচী ঘোষনা করে। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের এক গ্রুপ শহরের স্বাধীনতা মঞ্চ থেকে আনন্দ র্যালী বের করে মসজিদ মোড়ে পৌছালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ র্যালিতে বাঁধা দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ র্যালিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান লিটন, সহ-সাধারন সম্পাদক শুভ্রজিৎ হালদার বাবু, সমকাল ও চ্যানেল আইর জেলা প্রতিনিধি ফসিউল ইসলাম বাচ্চুসহ বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী আহত হলে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এ. এসপি সার্কেল আকরাম হোসেনসহ তিন পুলিশ সদস্য ও একজন পথচারী আহত হয়। পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আরও বেপরোয়াভাবে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় ঘন্টাব্যাপী দু পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের লাঠির আঘাতে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান আম্মা লিটন, সহ-সাধারন সম্পাদক শুভ্রজিৎ হালদার বাবুর মাথা ফেটে যাওয়ায় এবং পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত অন্য নেতাকর্মীদেরকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শহরের প্রত্যেক মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শুভ্রজিৎ হালদার বাবু আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের শান্তিপূর্ন র্যালিতে বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এতে আমাদের ৩০ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছে।
তবে পুলিশের এ এসপি সার্কেল আকরাম হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন দুই গ্রুপ আলাদা কর্মসূচী নেয়ায় পুলিশ দুই গ্রুপকে শান্তিপূর্নভাবে কর্মসূচী করার জন্য এক জায়গায় হতে দেয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ইটের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/পিরোজপুর/মার/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |