আশ্রয় কেন্দ্র নেইঃ সাগর পাড়ের পাঁচ হাজার মানুষের দুর্যোগ ঝুঁকি চরমে
 আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এভাবেই সাগর পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে পাঁচ হাজার মানুষ (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
কলাপাড়া থেকে মেজবাহউদ্দিন মাননু :: সর্বগ্রাসী সামুদ্রিক ঝড় সিডরের তান্ডবের পর চারটি বছর পেরিয়ে গেলেও সাগরের গ্রাসে চরম ঝুঁকির মুখে বসবাসকারী কলাপাড়া উপজেলার পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর ঘেষা তিনটি গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক মানুষের জন্য দুর্যোগকালীণ সময়েল জন্য নির্মিত হয়নি কোন আশ্রয় কেন্দ্র। এসব গ্রামের মানুষ এখনও আকাশের কোনে মেঘ দেখলে বাড়িঘর ছেড়ে পাশের গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়। চর-চাপলী, কাউয়ার চর ও চরকাউয়া নামের তিনটি গ্রামে অন্তত তিন হাজার পরিবারের বসবাস এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করছে। প্রলয়ংকারী সুপার সাইক্লোন সিডরে এই চরের সাত জন মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু এসব মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় শঙ্কিত রয়েছে এখানকার হাজার হাজার মানুষ।
এছাড়াও এ তিনটি গ্রাম থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দুরের জীর্ণদশার একমাত্র সাইক্লোন শেল্টারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সেটি ভেঙ্গে ফেলার কারনে আরও একদফা ঝুকিঁ বেড়ে গেছে চরের এসব মানুষের।
২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্নিঝড় সিডর পরবর্তি চার বছরে এডিবি’র অর্থায়নে, বিদেশী দাতা সংস্থা জাইকা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০০৫/২০০৬ অর্থ বছরে সাইক্লোন সেল্টার টাইপ স্কুল নির্মান করে । কিন্তু দূর্যোগে উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি গ্রামে কোন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সমাজ সেবক হুমায়ুন জোমাদ্দার জানান, ‘আমাদের এলাকা সাগরের কাছে হওয়ায় এখানকার মানুষের জানমালের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী। ঘূর্নিঝড় সিডরে এখানে সাতজন মারা গেছে। সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার দরিদ্র পরিবারের ঘর-বাড়ি ভেসে গেছে। শত শত গবাদিপশু মারা গেছে। তখন ব্যবহার অনুপযোগী একমাত্র সাইক্লোন সেল্টারটিতে ঝুঁকি নিয়ে মনিুষ আশ্রয় নিয়েছিল। এখন ঝড় হলে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় রইল না।’
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী পরিচালক মুন্সী নুর মোহাম্মদ আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘ওই এলাকা আসলেই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, ওই স্থানে সাইক্লোন শেল্টার নির্মানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/কলাপাড়া/মেমা/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |