Current Bangladesh Time
শুক্রবার নভেম্বর ২২, ২০১৯ ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা, বরিশাল, বরিশাল সদর » একজন জিয়া ও তার আদর্শের বিএনপি…
২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার ১২:০০:২৪ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

মন্তব্য কলাম

একজন জিয়া ও তার আদর্শের বিএনপি…
সৈয়দ মুন্না


একজন জিয়া ও তার আদর্শের বিএনপি...

জিয়া পচাত্তরের পনেরই আগস্টের ঘটনার পর মাত্র চার ঘন্টার ব্যবধানে প্রধান সেনাপতির পদ দখল করে ঠিকই, কিন্তুু চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করার কোন উদ্যেগ গ্রহণ করলেন না। শাফায়াত জামিল তাকে অনুরোধ করলেও তাকে গৃহ যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেন। জিয়ার এই নিস্পৃহতার কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্যে উর্ধতন কতৃপক্ষ তাকে নির্দেশ দিলেও তিনি তা পালন করেন নি। এ ব্যাপারে তৎকালীন সময়ের সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার কর্ণেল এম, এ, হামিদ লিখেছেন, হত্যাকারী মেজরদের উৎখাত আর চেইন অব কমান্ড এর দাবী নিয়ে এবার এক প্লাটফর্মে এসে দাড়ালেন শাফায়াত, খালেদ, তারা প্রকাশ্যে হুমকী ধামকী শুরু করলেন, তারা জিয়া কে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

জিয়া বলেন ওয়েট এন্ড সি। আমি তাকে সেনা নিবাসের আকাশে ঝড়ের সংকেত উপলব্ধি করতে বারবার অনুরোধ করি। কিন্তু বারবার জিয়ার একই জবাব, ওয়েট এন্ড সি, এক মাঘে শীত যায় না’। ( তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান ও কিছু না বলা কথা।) জিয়া শাফায়াত জামিলের সৈন্য দ্বারা নিজ গৃহে বন্দী হন নভেম্বরের দুই তারিখে, খালেদ মোশারেফ পরবর্তিতে এই অভ্যুত্থানের দায় ভাগ গ্রহণ করেন। বন্দী বলতে জিয়াকে অন্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিজের ঘরেই অবস্থান করালেন।

বসার ঘরের টেলিফোন লাইন কেটে দিলেও শোবার ঘড়ের মুল লাইন সচল ছিল। তা দিয়ে খালেদা জিয়া জিয়ার ঘনিষ্ঠ জনদের সাথে যোগাযোগ করেন। জিয়াউর রহমান সরাসরি তাহের কে ফোন করে বলে যে, “তাহের, আমাকে বন্দী করা হয়েছে, তুমি আমাকে বাচাঁও।” বঙ্গভবন থেকে রশিদ জিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে, তিনি ( জিয়া) কথা বলেন নি অথচ জিয়া কর্নেল তাহেরের সাথে কথা বলেছেন নভেম্বরের পাঁচ তারিখ।

ছয় তারিখ কর্নেল তাহের তাকে (জিয়া) ঘর বন্দী দশা থেকে বাইরে বের করে আনেন। এসব ঘটনা মোটেই সহজ করে দেখার বিষয় নয়। এখানে ভাববার মতন অনেক কিছুই আছে। ৭ই নভেম্বর ২০০৫ এ বেগম জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দার টিভিতে ইন্টারভিউতে বলেন, ” ৭ই নভেম্বর সার্বিক অপারেশন ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ইন্টেলিজেন্স অপারেশন। এর আগে কখনো কেউ এত নিপুন দক্ষতায় এরকম জটিল অপারেশন করতে পারেনি। ভেতরের ব্যাপার আমি আরো অনেক কিছু জানি।” কি ছিল ভেতরের সেই ব্যাপার? ‘অনেক কিছু’ বলতে তিনি কিই বা বোঝাতে চেয়েছেন? খুনি রশিদের টু ফিল্ডের সৈন্যরা জিয়াকে বন্দীশালা থেকে উদ্ধার করে।

কর্নেল হামিদ লিখেছেন, ” টু ফিল্ডে যেয়ে দেখি সর্বত্র অস্রধারী সৈন্য গিজ গিজ করছে। বললাম জিয়া কই? কর্নেল আমিনৃল হক জিয়ার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, স্যার স্টেশন কমান্ডার এসে গেছেন। জিয়া হাসলো। বললো, হামিদ। কেমন আছো? তারপর ঘাড় কাত করে একটু নিচু স্বরে বলল, কথাটা মনে আছে? এক মাঘে…..! ” ( তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান এবং কিছু না বলা কথা)। রাত আড়াইটায় কর্নেল তাহের আসেন জিয়ার কাছে। দুজনার মধ্যে একান্ত আলোচনা এবং উত্তপ্ত আলোচনার পর তাহের জিয়াকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যেতে চেয়েছিল ভাষন দেবার জন্যে।

জিয়া কিছুতেই ঘড় থেকে বের হতে রাজি হল না। বরং ঘরে বসেই তিনি ভাষণ রেকর্ড করলেন। যা ভোর বেলায় প্রচারিত হয়েছিল। এই ভাষনে জিয়া বলেন, সেনা বাহিনীর অনুরোধে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন। তার এই স্বঘোষীত উচ্চাভিলাষ পরবর্তি সময়ে প্রবল আপত্তির মুখে বাতিল হয়। গোলাম মুরশিদ তার বইতে লিখেছেন, ” ৭১ এর ২৭ মার্চে জিয়া প্রথমে নিজেকে রাস্ট্রপতি হিসেবে ঘোষনা দিয়েছিলেন, পরে শুধরে নিয়েছিলেন। এবারেও তিনি নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষনা দেন।

পরে উপ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন।” ( মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর)। জিয়ার সাথে তাহেরের ১২ দফা ছাড়া আর কি চুক্তি ছিল সেটা তারাই ভাল জানে। তাই মধ্যরাতে দুজনার বনিবনা না হওয়াতে কর্নেল তাহের হিংস্বাত্বক পথে অগ্রসর হয়। প্রতক্ষ্যদর্শি কর্নেল হামিদ লিখেছেন, ” বিকেল আনুমানিক চারটায় টৃ ফিল্ডে জিয়ার কিছে গেলাম। বারান্দায় উঠতেই দেখি, কর্নেল তাহের মুখ কালো করে বসে আছে। বললাম, কি ব্যাপার তাহের? মুখ এতো গম্ভির কেনো? তাহের বলল,স্যার আপনারা কথা দিয়ে কথা রাখবেন না, মন খারাপ হবে না? আমি তার কথার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝলাম না।

কর্নেল আমিন মুচকি হেসে আমাকে বারান্দায় নিয়ে গেল। বলল, বুঝলেননা স্যার, ব্যাপারটা তো সব তাহেরের লোকজনই ঘটিয়েছে। এখন জিয়াকে মুঠোয়ে নিয়ে বারগেইন করছে। এখন তো সে জিয়াকে মেরে ফেলতে চায়।এখন বুঝতে পারলাম, আশে পাশের এলোমেলো গোছের উর্দিপরা লোকজন নিয়মিত সৈন্য নয়, এরা জাসদের বিপ্লবী বাহিনীর নিয়মিত সদস্য। ভেতরে যেয়ে দেখি জিয়া সৈনিকদের দেয়া দাবী দাওয়ার একখানা কাগজ পড়ছে। তার মেজাজ মোটেই ভাল না। বলল, ব্যটাদের আমি ভাল করে দাবি মিটিয়ে দেব। বুঝলাম, তাহের এবং জিয়ার মাঝে বড় রকমের মত বিরোধ হয়ে গেছে।ক্ষমতার সিংহাসনে বসার সন্ধীক্ষনে দুই বাদশাহ্ এক সিংহাসন।

ক্ষমতার দ্বন্দে দুজনই পরস্পরের মুখোমুখি। রক্তক্ষয়ী সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠল। তাহের জেনারেল জিয়ার কাধে বন্দুক রেখে, তাকে ব্যাবহার করে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জিয়া তার চেয়ে অধিক উচ্চাকাংখি ও চালাক হওয়ায় তাহেরের উদ্যোগ ব্যার্থ হয়।

চরম মুহুর্তে লক্ষ্যস্থলে পৌছে তাহের যখন দেখলেন, তার হাত থেকে ক্ষমতার মসনদ হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন শুরু হয় অফিসার নিধন অভিযান। চরম ও সর্বশেষ পন্থা হিসেবে। ৭ ও ৮ নভেম্বর রাত ছিল বিভীষিকার রাত। এই নির্মম পদক্ষেপ সেনা নিবাসে ব্যাপক ভয় ভীতির সৃস্টি করলেও জিয়াকে ক্ষমতার আসন থেকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হয় তাহের।” ( তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান এবং কিছু না বলা কথা)।

কর্নেল হামিদ লিখেছেন, একদিন জিয়া বলল, আমি ঢাকা থেকে সিগন্যাল ইউনিটকে অতি সত্তর সরাতে চাই। বললাম,এতে অসন্তোষ বাড়বে। এসব কিছুদিন পড়ে করলেও চলবে। সে কিছুতেই শুনলো না। বলল, দেখো আমি কিভাবে তাদের সোজা করি। আর্মি হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে সিগন্যাল ইউনিটকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে বলা হল। এ নিয়ে সেনা নিবাসে বেশ উত্তেজনার সৃস্টি হল। প্রথমে তারা যেতে অস্বীকার করলো। শেষ পর্যন্ত সু কৌশলে প্রীতিভোজ, চা চক্র, ইত্যাদির মাধ্যমে কাজ সেরে নেয়া হল। তারা অসন্তুস্ট হল বটে, তবে জিয়ার নির্দেশ মানতে তাদের ছলে বলে কৌশলে বাধ্য করা হল।

সৈনিকরা জিয়ার মতি গতি নিয়ে সন্দেহ প্রবন হয়ে উঠল। এবার ল্যান্সার ইউনিটের সৈন্যদের নির্দেশ দেয়া হল ঢাকা থেকে বগুড়ায় মুভ করার জন্যে। জিয়া এটাকে টেকনিক্যাল মুভ বললেও সৈনিকদের বুঝতে বাকি রইলো না জিয়ার উদ্দেশ্য। তারা জিয়ার নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলো। ট্যংক গুলো সচল করে তারা লড়তে প্র্রস্তুত হয়ে গেল।

২২ শে নভেম্বর। ক্যন্টনমেন্টের অবস্থা খুবই নাজুক। যে কোন মুহুর্তে গোলাগুলি শুরু হয়ে যেতে পারে। বেগতিক দেখে জিয়া সেনানিবাসের অডিটোরিয়ামে জরুরী সভা আহ্বান করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে জিয়া বলেন, আপনারা আমায় মানছেন না। আমি আর আপনাদের চীফ থাকতে চাইনা। এই বলে সবার সামনে স্টেজে কোমর থেকে বেল্ট খুলে মেঝেতে ফেলে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হল।

সামনের সারিতে বসা জেসিও রা ছুটে এলেন, স্যার করছেন কি, করছেন কি? তারাতারি মাটি থেকে বেল্ট তুলে আবার পড়িয়ে দিল। সবাই হাত মিলালো। কোলাকুলি করলো। এই সুযোগে জিয়া একখানা কোরান শরীফ (যা আগে থেকে ব্যাবস্থা করে রাখা ছিল) এনে সব জেসিওকে ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করালো যে তারা তার কথা মানবে, শান্তি শৃংখলা বজায় রাখবে। জিয়া নিজেও পবিত্র কোরআন ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন।

জিয়া চাতুর্য পুর্ন এই নাটক টনিকের মত কাজ করল। ল্যান্সার ইউনিটের সৈনিকেরা বগুড়ায় মুভ করল। জিয়া এখন শক্ত প্লাটফর্মের উপর দাড়িয়ে। এখন জিয়া ভিন্ন মুর্তি। জিয়া কঠোর ভাবে জাসদ পন্থি বিপ্লবীদের ও বিপ্লবী সৈনিকদের দমন করতে নির্দেশ দিলেন। শুরু হল ধর- পাকড়।” ( তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান এবং কিছু না বলা কথা)।

গোলাম মুর্শিদ লিখেছেন, ” তিনি (জিয়া) ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও ধুর্ত। খুব ঠান্ডা মাথায় সব সিদ্ধান্ত নিতেন। পাকিস্থানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে কোন ঝুকি না নিয়ে অন্যের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে পারতেন তিনি। নিজের সত্যিকার ইচ্ছে কাউকে বুঝতে দিতেন না। কালো চশমায় চোখ দুটিকে আড়াল করে রাখতেন। আর প্রয়োজন হলে উত্তেজিত না হয়েই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন এবং পারতেন হুকুম দিতে। নিজের লক্ষ হাসিলের জন্যে পরম উপকারিকেও নির্দয় ভাবে খতম করে দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না।’ ( মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর)।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম সেক্টরের জিয়ার এক সহযোদ্ধা জিয়া সম্পর্কে বলেছেন,” জিয়া ছিলেন নৃশংস প্রকৃতির মানুষ। তিনি এক হাতে মানুষ খুন অন্য হাতে খাবার খেতে পারতেন।” ( এন্থনী মাসকার্ণহাস: এ লিগেসি অব ব্লাড। পরশ সাহা: বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি)।

কর্নেল হামিদ লিখেছেন, “জিয়ার সেই কঠোর নির্দেশের পর জাসদের বিরুদ্ধে দেশ ব্যাপি যে অভিযান চালানো হয়, তাতে হাজার হাজার জাসদ কর্মি গ্রেফতার হয়। সেনা নিবাসে বহু বিপ্লবী জাসদ পন্থি সৈনিকদের আটক করা হয়। গ্রেফতার হন কর্নেল তাহের। ১৯৭৬ সালের ২১ শে জুলাই ফাসির কাষ্ঠে ঝুলে প্রাণ বলি দিয়ে চুকিয়ে যান হিসেব নিকেশ।

ক্ষমতায় আরোহন করার পর জিয়া সৈনিকদের প্রতি প্রদত্ত কোন প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করেননি। বরং পরবর্তিতে তাদের উপর নৃশংস ভাবে দমন নীতির স্টীম রোলার চালিয়ে জিয়া হত্যা করেন দুই হাজারের অধিক সৈন্য ও বিমান সেনা। জেল জুলুম আর চাকরিচ্যুতি ঘটে আরো হাজার দুয়েক সৈনিকের।

ঢাকায় রহস্যময় বিমান সেনা বিদ্রোহে সরকারি হিসেবেই মাত্র দুই মাসে ফাসিতে ঝুলানো হয় ১১৪৩ জন সৈনিক কে। পাঁচটি কারাগারে এক সাথে সাত থেকে আট জন করে পর্যায়ক্রমে ফাসিতে ঝোলানো হয়। ফাসি ছাড়াও এলোপাথারি ফায়ারিং এ মারা যায় শত শত সৈনিক। এছাড়াও অমানবিক নির্যাতন বহু সৈন্যের মৃত্যু ঘটে। এ ব্যাপারে সেনা বা বিমান বাহিনীর কোন প্রতিষ্ঠিত আইন কানুন মানা হয়নি। অসংখ্য স্বজন হারা সেনা পরিবারের কান্না বিজরিত এক অভিশপ্ত দিবস হল ৭ ই নভেম্বর। হাজার হাজার নিরপরাধ আত্মার আর্তনাদ আজও কেদে ফিরে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশে বাতাসে। তাদের স্বজনরা আজো খুজে ফিরে তাদের প্রিয়জনের লাশ। কেউ শুনেনি তাদের ফরিয়াদ। তারা পায়নি বিচার।” ( তিনটি সেনা অভ্যুথ্থান এবং কিছুনা বলা কথা)।

১৫ ই আগস্টে বঙ্গবন্ধু র হত্যাকান্ডের চার ঘন্টার মধ্যেই জিয়া প্রধান সেনাপতি হন। কর্নেল তাহের মোস্তাকের পরিবর্তে জিয়াকে প্রেসিডেন্ট করতে ফারুক রশিদ কে পিড়াপিড়ি করেছিল, ওরা রাজি হয়নি। জাতিয় চার নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ক্ষুব্দ শাফায়াত তিনি খন্দকার মোস্তাককে খুনি দায়ি করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করান। প্রেসিডেন্ট পদে বসেন বিচারপতি সায়েম।

৩রা নভেম্বর পাল্টা সহিংস ঘটনার মধ্যে দিয়ে আবার জঙ্গিবাদের বিজয় ঘটে। এবার ওসমানি সাহেব প্রেসিডেন্ট সায়েমের পরিবর্তে মোস্তাককে আবার প্রেসিডেন্ট পদে চাইলে তাহের ও জেনারেল খলিলুর রহমান এর বিরোধিতা করেন। ফলে সায়েম প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকেন। এরপর জিয়া নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন। এটাও খলিলুর রহমানের আপত্তির কারণে তা কার্যকরি হয়নি। ফলে জিয়াকে উপ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েই থাকতে হল। থেকেছেন ও। জিয়া কোন কিছুতেই তাড়াহুড়ো করতেন না। তার চলার মন্ত্রই ছিল wait and see. এবং “এক মাঘে শীত যায়না”।

জিয়া রাস্ট্রিয় ক্ষমতা অধীস্টের জন্যে পচাত্তরের পনেরই আগস্ট হত্যাকান্ড, জাতিয় চার নেতা হত্যাকান্ড, জাসদের প্রধান কর্নেল তাহের হত্যাকান্ড, দুই হাজারের ও অধিক সৈন্য ও বিমান সেনা হত্যাকান্ড নির্বিচারে ঘটিয়েছিলেন ধরাছোয়ার বাইরে থেকে এই স্বাধীন বাংলাদেশে। তারপরই তার কাংখিত ক্ষমতা অর্জন করে আর এই ক্ষমতাকে স্থায়ি করতে এবং জিয়ার কৃত অপকর্মের যত ইতিহাস ও জাতির জনকের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আজীবনের লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস সমুহ তা মুছে দিতে জিয়া একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সফলতাও পেয়েছিলেন জিয়া। মুছে দিতে পেরেছিলেন বাংলার প্রকৃত ইতিহাস। আর তিনি হয়ে উঠলেন প্রখ্যাত খালকাটা জিয়া। তিনি যে রাতের আধারে গলাও কাটতেন তা আর জানতে দিলেন না কাউকে। সেই জিয়ার আদর্শেই আজো চলছে বিএনপি।

 

 

 

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। আমাদেরে বরিশাল ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য আমাদের বরিশাল ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
কলাপাড়ায় মুখোমুখি আ.লীগের দুই পক্ষ
অপপ্রচারে কান দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী
বাজি ধরে সাঁতারে নেমে নিখোঁজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার
পরীক্ষা দিয়ে লাশ হয়ে ফিরল টুম্পা
মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]