Current Bangladesh Time
শুক্রবার মে ২৪, ২০১৯ ৫:২৮ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পর্যটন, পাঠকের লেখা » কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশ
৭ মে ২০১৮ সোমবার ৫:১৮:৪৬ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

ভ্রমণ কাহিনী

কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশ
কক্সবাজার ঘুরে এসে রাহুল রাজ


কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের জলে ভিজে, নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো…’ মৌসুমি ভৌমিকের এই গানের কথা মনে পড়ে যায় কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে আসার সাথে সাথেই। দু চোখ যতদূরে যায় শুধু নীল জলরাশি। হাজার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে লোনা জলের ঢেউ গুলো পাড়ে আছড়ে পড়ার দৃশ্যে পাষাণ হৃদয়ও মুগ্ধ হবে। বালুকাময় ১২০ কিলোমিটারের এই সমুদ্র দেখে বুঝতে আর বাকি থাকল না কেন এই সমুদ্রকে পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত বলা হয়।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫৯ কি.মি। পাহাড়ি রাস্তার এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। পাহাড়, সাগর, দ্বীপ, নদী ও সমতল ভূমির এক অনন্য মিলন মোহনা কক্সবাজার। স্বাস্থ্যকর স্থান কক্সবাজার জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম পূর্বে বান্দরবান ও বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমানা বিভক্তকারী নাফ নদী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। নয়নআভিরাম এ জেলার আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গ কি.মি.।

দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কল্যাণে কক্সবাজার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে হিসাবে পরিণত হয়েছে। এ জেলার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী, কুতুবদিয়া দ্বীপ, রম্যভূমি রামু, রামু লামার পাড়া বৌদ্ধ ক্যাঙ, কলাতলী, ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিম-ছড়ির ঝরনা, বৌদ্ধ মন্দির, ইতিহাস খ্যাত কানা-রাজার গুহা, রাখাইন পল্লীদেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসু পর্যটককে আকৃষ্ট করে।

কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশবালুর উপর দিয়ে হাটতে এই জেলার নাম করণের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, এই জেলা ককসবাজার প্যানেওয়া ’ নামেও পরিচিতি ছিল। যার সাহিত্যিক নাম ‘হলুদ ফুল’। এর অপর একটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো পালংকি। আধুনিক ককসবাজারের নামকরণ করা হয়েছে প্রখ্যাত বিট্রিশ নৌ-অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স এর নামানুসারে। যিনি একজন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার আর্মি অফিসার ছিলেন। তিনি ১৭৯৮ সালে মৃত বরণ করেন।

জেলার নাম করণের কারণ জানার পর দৃষ্টি কাড়ে সমুদ্রকে কেন্দ্র করে এখানকার হাজার মানুষের নিত্য দিনের জীবিকা নির্বাহরে উপায়। কেউবা আধুনিক ক্যামেরা নিয়ে আগ্রহের সাথে বলছে, ছবি তুলবেন? এই স্মৃতিকে আপনি সাথে নিয়ে যেতে পারবেন। লক্ষ্য করলাম পর্যটকেরা অনেকেই এই সব সৌখিন আলোক চিত্রদের ক্যামেরা বন্ধী হচ্ছেন। কিছু সময়ের ভিতরে ছবি প্রিন্ট করে তুলে দেওয়া হচ্ছে পর্যটকের হাতে। ঘোড়া বা বালু বাইক নিয়ে অনেকেই সমুদ্রের পাড় দিয়ে ছুটে চলেছেন।

কেউ ব্যস্ত সমুদ্রের নীল জলে স্পিড বোড ভাসাতে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা সমুদ্রের ঝিনুক কুড়িয়ে তৈরি করেছে বিভিন্ন গহনা, গৃহ সাজাবার জিনিস। পাড়ে বসে সমুদ্রের সতেজ বাতাস সেবনের জন্য রয়েছে ঘণ্টা হিসাবে সৌখিন কেদারা সেখানে মাথা রাখতেই ছোট ছেলেদের দল ছুটে এসে শরীর ম্যাসাজ করে দিতে চাইবে। ঘণ্টা হিসাবে সেই ম্যাসাজে আপনার ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যাবে। আব্দুর কাদের নামের এক কিশোর জানান, শরীর ম্যাসাজ করে দিনে পাঁচ শত থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। মূলত পর্যটক মৌসুমেই এখানকার স্থানীয় ছেলে- মেয়েরা এই কর্মে নিজেদের নিয়োজিত করে।

কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশসমুদ্রের জলে গোসলের পর টাকার বিনিময়ে পোশাক পরিবর্তনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন চেঞ্জিং রুম। পর্যটনদের আকর্ষণ করতে রয়েছে বার্মিজ বাজার। মূলত বার্মা থেকে আনা পণ্যের মিলনের জন্য এই বাজারের নাম বার্মিজ বাজার। সমুদ্রের পাড়ে যাবার রাস্তার দু’পাশে গড়ে উঠেছে অনেক রকমারি খাবারের দোকান। যেখানে, নানান আকারের সামুদ্রিক চিংড়ি, কাকঁড়া, নানা ধরনের মাছ থেকে শুরু করে অক্টোপাস পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত খাবারের মেনু রয়েছে এখানে। পছন্দ মত খাবার মুহুর্তেই সামনে হাজির করে আপানর রসনাবিলাসী মনকে মাতিয়ে তুলবে।

সমুদ্র দেখার পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশ দেখার কৌতুহল থাকলে ঝাউতালার রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড দেখে আসতে পারেন।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত সামুদ্রিক মাছের এ্যাকুরিয়াম শো তৈরির মধ্য দিয়ে সমুদ্রের তলদেশের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে এখানে। মাথাপিছু তিনশত টাকা প্রদানে পর্যটকেরা সমুদ্রের তলদেশের দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

সমুদ্রকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অগণিত হোটেল, মোটেল, গেষ্টহাউজ ও নিবাস কেন্দ্র। এই সমুদ্রকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিদিন আসছে হাজারও পর্যটক এবং এই সব দর্শকের মাধ্যমেই জীবিকানিবহ করছে হাজারো মানুষ।

কক্সবাজারের নীল জল নীল আকাশজেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ককসবাজারের ইতিহাস মুঘল আমরে শুরু হয়েছে। বর্তমান ককসবাজারের পাশ দিয়ে মুঘল শাসন কর্তা শাহ সুজা আরাকান প্রদেশে যাওয়ার পথে এ অঞ্চলের পাহাড় ও সাগরের মিলিত সৌন্দর্য অবলোকন করে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি তার সেনা-সামন্তকে এখানে ঘাঁটি করতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেনা বহরের এক হাজার পালকি (ঢুলি) এখানে অবস্থান নেয়। এক হাজার ঢুলি (পালকি) এর নাম এর নামকরণও হয় ডুলাহাজারা যা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন।

মুঘল আমলের পরবর্তীতে এ অঞ্চল টিপরা এবং আরাকানদের দখলে চলে যায়। তারপর পর্তুগীজ’রা কিছু সময় এ অঞ্চলে শাসন করে। অত:পর ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিরাম ককসকে এ অঞ্চলের দায়িত্ব-ভার দেয়া হয়।

তিনি এখানে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। যা ‘ককস সাহেবের বাজার’ এবং পরবর্তীতে ককসবাজার নামে পরিচিত পায়। ১৮৫৪ সালে ককসবাজার মহকুমায় পরিণত হয়। ব্রিটিশ শাসন-পরবর্তীতে ককসবাজার পূর্ব-পাকিস্থানের অংশ হয়। ক্যাপ্টেন এ্যাডভোকেট ফজলুর করিম ককসবাজার পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হন এবং সাগর সৈকতের পাশ দিয়ে বনায়নের সূচনা করেন যা কিনা পর্যটনের বিকাশ ও সাগরের জোয়ারের হাত থেকে ককসবাজার কে রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তিনি পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হল স্থাপন করেন। অবশেষে ১৯৮৪ সালে ককসবাজার মহুকুমা ককসবাজার জেলায় উন্নীত হয়। বর্তমানে ককসবাজার বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে।

এই জেলায় ৮ টি উপজেলা, ৭১ টি ইউনিয়ান, ৯৯২ টি গ্রাম, ৫ টি পৌরসভা, ৮ টি থানা এবং ১৮৮ টি মৌজা রয়েছে।

সমুদ্রের পাড়েই রয়েছে পর্যটক পুলিশ। কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তরার জন্য তাদের রয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। দেশি পর্যটকদের সাথে বিদেশি পর্যটকেরাও নির্বিঘ্নে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ করে ক্লান্তি থেকে অবসর নিতে ব্যস্ত থাকে।

অনেক স্থানে সমুদ্রের পাড় দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ হোটেল এবং অনমুদিত আবাসিক প্রকল্প। যাতে একদিকে এই দীর্ঘ সমুদ্রের সৌন্দর্য ক্ষতি হচ্ছে অন্য দিকে অনেক মানুষ এইসব আবাসিক প্রকল্পে প্রতারিত হচ্ছে।

বিশ্বের উন্নত দেশের সমুদ্র সৈকতের অনুরূপ সুযোগ সুবিধা কক্সবাজারে সৃষ্টি করতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশের পর্যটক শিল্প বিপ্লব আসবে বলে ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞরা।

ছবি: লেখক

বি:দ্র: এ বিভাগে লিখতে পারেন আপনিও। লেখা পাঠানোর ঠিকানা [email protected]


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দুঃস্থদের ভিজিডি কার্ডের চাল খাচ্ছে বিত্তবানদের কবুতর!
উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় ২য় স্থানে বাংলাদেশ, ভারত ৩য়
যুক্তরাজ্যের রামসগেটের মেয়র হলেন পিরোজপুরের গৃহবধূ
মঠবাড়িয়ায় স্থগিত উপজেলা নির্বাচন ১৮ জুন
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনসহ ২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]