Current Bangladesh Time
শুক্রবার এপ্রিল ৩, ২০২০ ৬:০৮ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা, বরিশাল, বরিশাল সদর » একাত্তরে পূর্ব পাকিস্থানে এসে ভারত কেন পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?
১৪ মে ২০১৮ সোমবার ২:৫১:৩২ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

মন্তব্য কলাম

একাত্তরে পূর্ব পাকিস্থানে এসে ভারত কেন পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?
সৈয়দ মুন্না


একাত্তরে ভারত কেন পূর্ব পাকিস্থানে এসে পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?

ছবি: সংগ্রহীত

শত্রুর শত্রু হল মিত্র। মিত্র আর বন্ধু ভিন্ন কথা। সহযোগিতা করতে মিত্রও হওয়া লাগেনা বন্ধুও হওয়া লাগেনা। রাশিয়া কিন্তু আমাদের বন্ধু দেশ ছিল। পাকিস্থান ২৫ শে মার্চ বাঙ্গালীর উপর অযথা নৃসংশ হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ এ পাকিস্থান কে শত্রু হিসেবে চিন্হিত করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে বাঙ্গালী এবং ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ শেষ হয় এ যুদ্ধ এবং বিজয় লাভ করে বাঙ্গালী।

ভারত পূর্ব পাকিস্থান কে আক্রমন করে ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ। এর পূর্বে ৩০ জানুয়ারী ১৯৭১এ শ্রীনগর থেকে গঙ্গা নামক একটি ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে লাহোরে নিয়ে যায় পাকিস্থান। বিমান ছিনতাই এর এ সন্ত্রাসী ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে ভারতীয় সরকার ভারতের উপর দিয়ে পাকিস্তানের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

শুধু তাই নয় ৩০ নভেম্বর ১৯৭১ এ পশ্চিম ভারতের পাঞ্জাব, কাশ্মির, অমৃতসর, পাঠানকোট ও শ্রীনগর, আম্বালা, আগ্রা, লুধিয়ানা, বার্মার, জয়সলমির, যোধপুর, জমনগর এর বিমান ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনে কোন ঘোষনা ছাড়াই আবার বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এছাড়া কাশ্মীরে ভারতীয় অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী তিন ধাপে এই অপারেশন পরিচালনা করে।

সন্ধ্যা ৫ টা ৪০ মিনিটে ৩৬ টি বিমান ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পাকিস্থান থেকে। প্রথম ধাপে পাঠানকোট ও দ্বিতীয় ধাপে অম্রিতসরে বিমান থেকে বোমা বর্ষণ শুরু হয়। তৃতীয় ধাপের অপারেশন ৬ টা থেকে ১০.৩০ পর্যন্ত চলে। আম্বালা, আগ্রা, লুধিয়ানা, বার্মার, জয়সলমীর, যোধপুর, জমনগর, শ্রীনগর প্রভৃতি স্থানে আক্রমণ করে পাক বিমান। এর মধ্যে লুধিয়ানা ও বার্মার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এরই জের ধরে ৩রা ডিসেম্বর ভারত পাকিস্থানকে শত্রু হিসেবে চিন্হিত করে পূর্ব পাকিস্থানে আক্রমন করে পরাস্থ করতে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একাত্তরের এদিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তাদের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এতে তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে ছয়টি ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ভারতের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্তজুড়ে তাদের গোলন্দাজ বাহিনী গোলাবর্ষণ করে চলেছে। তাই ভারতকে যুদ্ধে যেতেই হচ্ছে।”ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিটিং এ খবর দিয়ে এদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানান, ইন্দিরা তাঁর ভাষণের আগে বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস করাতে কাল লোকসভার বিশেষ অধিবেশন বসছে। রাষ্ট্রপতি গিরি জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

পূর্ব পাকিস্থান তখনো বাংলাদেশ হয়নি তাই বাঙ্গালীরাও নিয়মানুযায়ী পূর্ব পাকিস্থানি হিসেবে অভিহিত ছিল। সে হিসেবে ভারতের যুদ্ধটা বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধেও ছিল। যেহেতু বাঙ্গালীরা পূর্ব পাকিস্থানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে ২৬ শে মার্চ থেকে যৌক্তিক সংগ্রাম রত অবস্থায় এবং তা চলমান। তাই ভারত পাকিস্থানিদের সাথে বাঙ্গালীদের কেও যুদ্ধের মাঠে শত্রু হিসেবে চিন্হিত না করে মিত্র হিসেবে ঘোষণা দিলে, বাঙ্গালীরও মিত্র হিসেবে পরিগনিত হয় ভারত। এবং ভারতের সামরিক বাহিনী হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মিত্র বাহিনী।

ভারত পূর্ব পাকিস্থানের বিরুদ্ধে বিজয় লাভকরে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। যেহেতু ভারত পূর্ব পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পূর্বে কোনরুপ স্বাধীনতার ঘোসনা দেয়নি তাই তারা পূর্ব পাকিস্থানী শত্রুদের পরাস্ত্র করে পাকিস্থানি ৯৩ হাজার সৈন্যকে যুদ্ধ বন্দী করে ভারতে নিয়ে একটি সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ১৯৭২ এ ৩ রা জুলাই সেসব ৯৩ হাজার সৈন্যদের পাকিস্থানের হাতে তুলে দেয় ভারত। আর বাঙ্গালীর পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ রাত্রী দ্বীপ্রহরে পাকিস্থানিদের হাতে গ্রেফতারের পূর্ব মুহুর্তে অর্থ্যাৎ ২৬ শে মার্চেই রাস্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষনা করে পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুকুম দেন।

এবং সে স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচারের জন্যে ও বলেন এবং তা বিভিন্ন জনে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রচার ও করেন। তাই ভারত ও বাঙ্গালীরা উভয়েই পূর্ব পাকিস্থানের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করলেও পূর্ব পাকিস্থানে একমাত্র অধিকার পায় বাংলাদেশ এবং ভারত মিত্র বাহিনীর আখ্যা নিয়ে ৭২ এর ১৭ ই মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের চাপে পরে পরবর্তিতে তার জন্মদিনের উপহার স্বরুপ ও সম্মানার্থে ভারতীয় কতৃপক্ষ তাদের সৈন্য ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে একরকম বাধ্য হয়।

 

 

বি:দ্র: প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। আমাদের বরিশাল ডটকম এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য আমাদের বরিশাল ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ব্রিজ ভাঙায় ভাগ্য খুলছে জনপ্রতিনিধিদের!
বাউফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
কৃষকদের হয়রানি করলে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী
রিফাত হত্যা : ভিডিও ডাউনলোডের পেন ড্রাইভ সনাক্ত
সাগর-রু‌নির হত্যার তদন্তে পু‌লি‌শের ব্যর্থতা বলা যা‌বে না: আইজিপি
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com