সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বরিশালের ফটো সাংবাদিক টিটু
 ফটো সাংবাদিক শহিদুজ্জামান টিটু - ফাইল ফটো
বরিশাল ডেস্ক :: বরিশালের উদিয়মান ফটো সাংবাদিক ও রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শহিদুজ্জামান টিটু (৩৫) রাজধানী ঢাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ১১ মে শুক্রবার দুপুর ১ টায় ঢাকার রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো জ ১১-১২৮৩) চাপায় তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, এক পুত্রসহ অসংথ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
বরিশালে কর্মরত ফটো সাংবাদিকদের তোলা ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন শহিদুজ্জামান টিটু। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা এবং ছবি প্রদর্শনীর কাজের জন্য ৮ মে মঙ্গলবার তিনি স্ব-পরিবারে ঢাকায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতেই তার বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার কথা ছিল।
জানা গেছে, শহীদুজ্জামান টিটু কিছুদিন আগে প্রকাশিতব্য নতুন দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় চাকরির জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। ১১ মে শুক্রবার তিনি গুলশান ১ নম্বরে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার কার্যালয়ে চাকরির খোঁজ নিয়ে রিকশায় করে শাহবাগে ফিরছিলেন। রিকশায় তার সাথে ছিলেন তাঁর বন্ধু ঢাকার একটি দৈনিকের সহ-সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস। রিকশাটি রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে আসলে ইউনাইটেড পরিবহনের মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী দ্রুতগামী একটি বাস তাদের বহনকারী রিক্সাটিকে পিছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। হটাৎ ধাক্কায় টিটুর সাথে খাকা জান্নাতুল ফেরদৌস ফুটপাতের উপর এবং টিটু ছিটকে রাস্তায় বাসের চাকার সামনে পড়ে যান। চালক বাসটি না থামিয়ে শহীদুজ্জামানের ওপর দিয়ে চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে টিটুর মাথা চূর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘাতক বাসটির যাত্রীদের সহায়তায় চালক নাইমসহ বাসটিকে (ঢাকা মেট্রো জ ১১-১২৮৩) আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ফটো সাংবাদিক টিটু’র মামাশ্বশুর মাসুদ পারভেজ বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শহিদুজ্জামান টিটুর অকাল মৃত্যুর খবর বরিশালে এসে পৌছালে শোকের ছায়া নেমে আসে বরিশালের সংবাদ কর্মী ও তার পরিচিতজনদের মাঝে। সাথে সাথে সংবাদ কর্মীরা নগরীর কালিবাড়ী রোড এলাকায় তার বাসভবনে ছুটে যান। মোঃ বদরুজ্জামানের ছেলে শহীদুজ্জামান টিটু দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। বিবাহিত জীবনে স্ত্রী রুমা ও শিশু সন্তান তাসিমকে রেখে গেছেন তিনি। টিটু প্রথম স্থানীয় দৈনিক শাহনামায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর পরে পরিবর্তন, আজকের বার্তা ঘুরে বর্তমানে মতবাদ পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ফটো সাংবাদিক শহিদুজ্জামান টিটুর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন- সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহীন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল, সাধারন সম্পাদক লিটন বাশার, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আলী জসিম, সাধারন সম্পাদক নজরুল বিশ্বাস, বরিশাল ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ, রুর্যাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম জহির, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল শাখার সভাপতি দীরেন্দ্রনাথ সমদ্দার, সাধারন সম্পাদক মোঃ হাসান সরদার জুয়েলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ফটো সাংবাদিক শহিদুজ্জামান টিটুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন আমাদের বরিশাল ডটকমের সংবাদকর্মীরা।
অপরদিকে টিটুর মৃত্যুতে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে বরিশালের ফটো সাংবাদিকরা। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- কালো ব্যাজ ধারন, ১২ মে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত একঘন্টা কর্মবিরতী ও ১৩ মে রোববার দোয়া মোনাজাত।
-
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরিশাল/ডেস্ক/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |