Current Bangladesh Time
সোমবার মার্চ ২৫, ২০১৯ ৪:২৬ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » ঝালকাঠি, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি » জীবা আমিনায় ক্ষুব্ধ ঝালকাঠিবাসী
১১ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার ৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

জীবা আমিনায় ক্ষুব্ধ ঝালকাঠিবাসী
অনলাইন ডেস্ক


জীবা আমিনায় ক্ষুব্ধ ঝালকাঠিবাসীঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিঠি) আসনে বিএনপি প্রার্থী ‘রাজাকারকন্যা’ জীবা আমিনা খানের নির্বাচনী প্রচারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার নানা শ্রেণির লোকজন।

সোমবার প্রতীক বারাদ্দের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি নেত্রী জীবা আমিনা খানের পক্ষে ধানের শীষের প্রচারে জেলা শহরে মাইকিং শুরু হয়েছে।

জেলা শহরের পৌর খেয়াঘাট এলাকায় একাত্তরের বধ্যভূমির আশপাশে মাইকিং করায় মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের নৃশংসতার কথা মনে করিয়ে দেয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

এলাকাবাসী বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে জীবা আমিনার বাবা ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে ঝালকাঠির হিন্দু অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণহত্যা চালানো হয়। এই গণহত্যার সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলো ঝালকাঠি শহরের পৌর খেয়াঘাট বধ্যভূমি।

সোমবার দুপুরে এই বধ্যভূমি এলাকায়ও জীবা আমিনা পক্ষে মাইকে প্রচার চালানো হয়। খবর পেয়ে ঝালকাঠি বধ্যভূমি সংরক্ষণ সংগঠন ‘হৃদয়ে একাত্তর’ জরুরি বৈঠকে বসে।

‘হৃদয়ে একাত্তর’ সংগঠনের সভাপতি হাসান মাহামুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিজয়ের মাসে পৌর খেয়াঘাট বধ্যভূমি এলাকায় রাজাকারকন্যার পক্ষে মাইকিং হৃদয় বিদারক, বড় কষ্টের।

“তাই জীবার পক্ষে এ এলাকাটিতে মাইকে প্রচার বন্ধ রাখতে আমারা সংগঠনের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাব। সে বিষয় নিয়ে জরুরি বৈঠক করে সাংগঠনিকভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঝালকাঠির প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোয়ার হোসেন খান বলেন, “পাকিস্তানের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে ঝালকাঠির হিন্দু অধুষিত ভীমরুলি, শতদশকাঠী, জগদীশকাঠী, ডুমুরিয়াসহ ১০/১২টি গ্রামে একাত্তরে নির্মম গণহত্যা হয়। হাজারো হিন্দু বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নারী নির্যাতন এবং লুটপাটসহ নির্মম নির্যাতন চলে এ অঞ্চলে।

“তারই কন্যা জীবার পক্ষে এই বিজয় মাসে প্রচারণার শব্দ আমাকে সেদিনের কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজাকারের সন্তান নির্বাচনের প্রার্থী ভাবতে বড় কষ্ট লাগে।”

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমএ বায়জীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সর্বশেষ ২০১৪ সালেও ঝালকাঠি থেকে সাংগঠনিকভাবে আমরা আক্তার ব্যারিস্টারের নাম পাঠিয়েছি। আক্তার ব্যারিস্টারের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় একাত্তরে ঝালকাঠির হিন্দু অধ্যুষিত বিলাঞ্চলে পাকবাহিনীর হাতে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা ও নির্যাতন হয়েছে।”

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদ পাকিস্তানের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। এ মুসলিম লীগ নেতা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ঝালকাঠি আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল বারেকের কাছে পরাজিত হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভীমরুলী, শতদশকাঠী, ডুমরিয়া ও জগদীশপুর গ্রামের একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আক্তার ব্যারিস্টারের নির্দেশে হিন্দু প্রধান গ্রামগুলোতে নয় মাস গণহত্যা চলে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের ১ নম্বর সহসভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য জীবা আমিনা খানের বাবা আক্তার উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রভাবশালী রাজাকারের তালিকায় তার নাম রয়েছে। তিনি শান্তি কমিটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি সপরিবারে সৌদি আবর চলে যান।-বিডিনিউজ

 

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস
এক মিনিট অন্ধকারে থাকবে বরিশাল
ঝালকাঠির ৪ উপ‌জেলা নৌকার
বরিশালে ২টিতে আ. লীগ, ১টিতে স্বতন্ত্র জয়ী
ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]