Current Bangladesh Time
বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ ১০:৫১ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » আমতলী, বরগুনা, বরগুনা সদর, সংবাদ শিরোনাম » ভূয়া ছুটিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ১৬ মাস, নিয়েছেন বেতন-ভাতাও
৮ জুলাই ২০১৯ সোমবার ৫:৫০:৩৬ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

ভূয়া ছুটিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ১৬ মাস, নিয়েছেন বেতন-ভাতাও


barguna-news-map বরগুনা হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগে একজন গ্রেফতার সংবাদ মানচিত্র

জাকির হোসেন, আমতলী ::: এক বছর চার মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা তুলেছেন আমতলী উপজেলার দক্ষিণ কেওয়াবুনিয়া সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছা। ভূয়া ছুটির কথা বলে ইতোমধ্যে ১ বছরের বেতন ভাতা তুলে নিয়েছেন ওই শিক্ষিকা। বিষয়টি জানা জানির পর ৬ মাসের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন উপজেলা শিক্ষা অফিস।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আলম বিষয়টি গোপন রেখে শিক্ষিাকা মেহেরুরন নেছাকে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়টি গোপন রেখে মাসিক রির্টানে উপস্থিত দেখিয়ে দের বছরের মধ্যে এক বছরের বেতন ভাতা তুলে নিতে সহায়তা করেছেন। জানাজানির পর ৬ মাসের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয় হাজিরা খাতায় চিকিৎসা জনিত ছুটি লেখা থাকলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কোন ছুটির আবেদন নেই। বিদ্যালয়ে ভুয়া ছুটি দেখিয়ে ওই শিক্ষিকা এক বছর চার মাস ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি শিক্ষা অফিস জানার পর ১ জানুয়ারি থেকে ছয় মাস ধরে তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে।

জানাগেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কেওয়াবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছা ২০১০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকেই তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে মাসে দু’একদি ক্লাশ করে হাজিরা খাতায় বাকি দিনের স্বাক্ষর করতেন বলে জানা গেছে। আর এ কাজে সহযোগিতা করতেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ অভিযোগ অপর শিক্ষকদের।

শিক্ষিকা মেহেরুন নেছার বিদ্যালয়ের হাজিরা সিটের তথ্যে দেখাগেছে, গত বছর ২০১৮ সালের ৫ মার্চ থেকে ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত তিনি ৬ মাসের ভূয়া চিকিৎসা জনিত ছুটি নেন। মেহেরুন নেছা চিকিৎসা জনিত ছুটি নিলেও বিদ্যালয়ে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে এ ধরনের ছুটির কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। আবার ছুটির মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিজ হাতে হাজিরা খাতায় জাল স্বাক্ষর দিয়ে ওই শিক্ষিকাকে উপস্থিত দেখিয়েছেন এমন অভিযোগ ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের। ছয় মাসের ছুটি শেষ হতেই আবার শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাসের চিকিৎসা জনিত ভূয়া ছুটি দেখান। ৩১ ডিসেম্বর তার ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। এ বছর তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান না করে ১ জানুয়ারী থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুন:রায় চিকিৎসা জনিত ছুটি দেখান। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত তিনি এক বছর চার মাস চিকিৎসা জনিত ছুটি দেখিয়েছেন।

বিদ্যালয় হাজিরা খাতায় চিকিৎসা জনিত ছুটি লেখা থাকলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার কোন ছুটির আবেদন নেই। এভাবে ওই শিক্ষিকা এক বছর চার মাস ধরে বিদ্যালয়ে ভূয়া ছুটি দেখিয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ বছর ৩০ জুন তার ভূয়া ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু ৭ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত কোন কারন ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম।

আমতলী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছা ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট কোন চিকিৎসা জনিত ছুটির আবেদন করেননি। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের মাসিক রিটার্ন ফরমে তার (সহকারী শিক্ষিকা) স্বাক্ষরসহ প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। ওই অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই শিক্ষিকার ১ বছরের বেতন ভাতা ছাড় দিয়েছেন।

এদিকে সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছা ভুয়া চিকিৎসা জনিত ছুটি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আমতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান এ বছর জানুয়ারী মাসে অবগত হন। পরে তিনি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। শিক্ষা অফিসার তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আলম ও সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছাকে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কেন অনুপস্থিত তার জবাব চেয়ে শোকজ করেন। কিন্তু শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা শোকজের কোন জবাব দেননি। এরপর থেকে শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত ছয় মাস ধরে তার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,ওই শিক্ষিকার স্বামী ও তার নামে পটুয়াখালী ও বরিশালে জহিরুল- মেহেরুন নাসিং হোম নামে দুটি প্রতিষ্টান রয়েছে। ওই দুই প্রতিষ্টানের একটি শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা দেখভাল করেন। এ কারনে তিনি বিদ্যালয়ে ভুয়া চিকিৎসা জনিত ছুটি দেখিয়ে এক বছর চার মাস অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ মেহেরুন নেছার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।(ফোন নম্বর -০১৭৪০৫৭০৮৮২)।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম ওই শিক্ষিকার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিগত বছর মার্চ মাসে সে অসুস্থ্য হয়ে পরেন। এরপর তার স্বামী এসে নিয়ে গেছেন। পরে আমাকে জানিয়েছেন সে চিকিৎসা জনিত ছুটিতে আছেন। এরপর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসেননি। সে বিদ্যালয়ে না আসায় তাকে দু’বার শোকজ করা হয়েছে। শোকজেরও কোন জবাব দেননি তিনি। পরে বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানোর পরে তিনি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে তার বেতনভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন।

চিকিৎসা জনিত ছুটির মধ্যে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও অনুপস্থিত লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি আরো জানান, ওই শিক্ষিকার নিকট অনুমোদিত ছুটির কাগজ চাইলে তা তিনি আমাকে দেখাতে পারেননি। আজ নয় কাল দেব এভাবে ঘুরাতে থাকেন।

সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা চিকিৎসাজনিত কোন ছুটির আবেদন করেননি। ছুটি ছাড়াই ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ কারনে বিগত ছয় মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, কোন ছুটি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারনে ওই শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে সুপারিশ করা হবে।

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি জানিনা। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল বিমানবন্দরের পরিসর বাড়ছে
আইএইচটির ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
রিফাত হত্যার অভিযোগ গ্রহণ, ৯ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
পটুয়াখালীর সড়কে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
বেতাগীতে ডেঙ্গুতে বৃদ্ধর মৃত্যু
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]