AmaderBarisal.com Logo

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে উত্তরপত্র জালিয়াতি চক্রের সন্ধানে তদন্ত কমিটি


আমাদেরবরিশাল.কম

২২ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন

education-board-barisal বরিশাল শিক্ষা বোর্ড শিক্ষাবোর্ড
ফাইল ছবি

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতের (প্রথমপত্র) উত্তরপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ১৮ শিক্ষার্থীকে তিন বছরের জন্য বহিস্কার করেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ তিন বছর তারা কোনো ধরনের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। তবে এ ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা এখনও রহস্যাবৃত রয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বোর্ডেরই একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থীদের সাদা উত্তরপত্র সরবরাহ করেছে। তাদের খুঁজে বের করতে রোববার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, উত্তরপত্র কেলেঙ্কারির রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে।

বোর্ড সূত্র জানায়, উত্তরপত্র কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বরিশাল) ড. মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রধান করে গঠন করা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বরিশাল বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. লিয়াকত হোসেন ও বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খান। কারা উত্তরপত্র কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বোর্ডের পরীক্ষা শাখার অফিস সহকারী গোবিন্দ চন্দ্র পালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই চলতি বছরের এইচএসসির ফল প্রকাশিত হয়। তবে বিজ্ঞান বিভাগের ১৮ পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, উচ্চতর গণিত প্রথমপত্র বিষয়ে প্রধান পরীক্ষকের তৈরি উত্তরপত্রের সঙ্গে ১৮ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র হুবহু মিলে যাওয়ায় তাদের ফল প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ওই ১৮টি উত্তরপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিমকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তদন্ত করে দেখতে পায়, উচ্চতর গণিতের প্রথমপত্র বিষয়ে ১৮টি খাতায় বিশেষ চিহ্ন দেওয়া ছিল। উত্তরপত্র জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ৮ আগস্ট ওই ১৮ পরীক্ষার্থীকে তিন বছরের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী তিন বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

এদিকে বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার আগে বোর্ডের প্রশাসনিক শাখা  থেকে প্রবেশপত্র, উত্তরপত্র, অতিরিক্ত উত্তরপত্রসহ ২৬ ধরনের সরঞ্জাম পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র আসে বোর্ডের পরীক্ষা শাখায়। বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা শাখায় তিনজন কর্মকর্তাসহ ১৯ জন কর্মরত আছেন। সূত্রমতে, পরীক্ষকদের কাছে উত্তরপত্র বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন অফিস সহকারী (বরখাস্ত) গোবিন্দ চন্দ্র পাল। পরীক্ষা শাখার একজন সেকশন অফিসার (এসও) ও উচ্চমান সহকারীর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষকদের উত্তরপত্র বিতরণের নিয়ম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অফিস সহকারী গোবিন্দ চন্দ্র পাল কোনো অনিয়ম করে থাকলে ওই কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে। পরীক্ষা শাখার কোনো কর্মকর্তা এ জালিয়াতির দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। সূত্রমতে, অতীতেও একাধিকবার বোর্ডে এমন অঘটন ঘটেছে। তখন বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস বলেন, বহিস্কার ১৮ পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই বোর্ড থেকে সাদা উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। পরীক্ষকের কাছে গেছে বোর্ড থেকে চুরি করে নেওয়া খাতাগুলো। তিনি বলেন, ১৮ জনের অন্যান্য বিষয়ের খাতাও জব্দ করা হবে। বোর্ড চেয়ারম্যান মনে করেন, এ ঘটনায় কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে।

তদন্ত কমিটির সদস্য বরিশাল বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, তারা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। – সমকাল



সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।