![]() রামনাবাদ পাড়ের বিউটিদের জীবনের চাকা আর ঘুরছে না
২৫ June ২০১২ Monday ৭:৫৬:৫৬ PM
![]() রাক্ষুসে রামনাবাদ গিলছে বেরিবাঁধ আর তার ঠিক পাশে বিউটিদের ভিটা (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম) মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া :: পড়শি গ্রামের ভাই’র বাড়ি থেকে এক কেজি চাল ধার এনে তা রান্না করছিলেন বিউটি বেগম। স্বামী আনোয়ার সরদার কাজের খোঁজে খুব সকালেই রামনাবাদ পাড়ের গ্রামটিতে চলে গেছেন। একই অবস্থা ১৩ বছরের ছেলে মনিরের। কিছুদিন আগে রামনাবাদ নদীর গিলে খাওয়া বাঁধের মেরামত কাজ করেছেন এই পরিবারের কর্মক্ষম বাবা আনোয়ার ও তার ছেলে মনির। রামনাবাদেও এখন আর মাছ জোটেনা, তাই এই পরিবারটির জীবিকার চাঁকা এখন আটকে গেছে। ২৫ জুন সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় কথা হয় বিউটি বেগমের সঙ্গে। সে আরও জানায় আগের রাতেও এক কেজি আটা ধার করে চালিয়েছেন। তাও একটি এনজিও সংস্থা ওই পরিবারকে দিয়েছিল মাও শিশু স্বাস্থ্য প্রোগ্রামের জন্য। দুপুরে কি হবে তা আর জানা নেই। প্রায় দশটি বছর ধরে রামনাবাদপাড়ে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করে আসছেন এই হতদরিদ্র পরিবারটি। রাক্ষুসে রামনাবাদ যতবার বাঁধটি গিলে খেয়েছে ততবার ঝুপরি ঘরটি পাল্টেছেন তারা। রামনাবাদের বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ প্রতিবছর মেরামত কিংবা সংস্কার হয়। নকশা অনুযায়ী কাজ না করেই এসব কাজের তিন চতুর্থাংশ অর্থ লোপাট করে ফেলে প্রভাবশালীরা। বিক্ষুব্ধ রামনাবাদ এখন হরিলুটেরাদের জন্য আশ্বীর্বাদ হয়ে আছে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করতে হচ্ছে প্রতি বছর। আর জরুরী ভিত্তিতে দায়সারাভাবে একাজ করে হাতিয়ে নেয়া হয় সরকারের কোটি কোটি টাকা। প্রায় অধিকাংশ পরিবার রামনাবাদের ভাঙ্গনের কারণে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এসব পরিবারের এখন আর জীবিকার চাকা ঘুরছেনা। এদেরই একজন বিউটি বেগম ও আনোয়ার সরদার দম্পতি। সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত এই পরিবারটির ভাগ্যে বিশেষ ভিজিএফ কিংবা সরকারের অন্য কোন সহায়তা জোটেনি। বিউটির সোজাসাপটা কথা, ‘সিডর আইলার তান্ডবে ঘরতো দুরের কথা, ভাত খাওয়ার থালাও ছিল না।’ এমন নিঃস্ব শত শত পরিবার রামনাবাদ নদীর দীর্ঘ প্রায় ১২ কিলোমিটারজুড়ে বসবাস করে আসছে। দারিদ্র্য এদের ঘাড়ে চেপে বসেছে পাহাড় সমান ওজনে। বিউটি জানালেন, অভাব আর এলাকায় কাজ না জোটায় তাদেরই পড়শি সুখি বেগম ও দুলাল গাজী দম্পতি তাদের সন্তানদের নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। পালিয়ে যাওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, দাদনের ভার। প্রায় লাখ টাকা দাদন নিয়ে রামনাবাদ নদীতে মাছ ধরে জীবনের চাকা ঘোরাতে চেয়েছিলেন সুখি ও দুলাল দম্পতি। কিন্তু এক সময় পরাজয় মেনে পালিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। এমনসব মানুষের সংখ্যাও কম নয়। অন্তত এক শ’ পরিবার। নিজের ধারনার উপরেই বললেন বিউটি- একেতো মাছ পড়েনা, তার উপরে কামলা (কাজ) মেলে না। এসবের পরেও বাঁধের পাশে আকড়ে থাকছেন তার মতো শত শত পরিবার। কিন্তু রাক্ষুসে রামনাবাদ আবার নতুন করে ধ্বংসের তান্ডবে মত্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় তিন শ’ ফুট বেড়িবাঁধ গিলে খেয়েছে। তাই নতুন করে এসব পরিবারে ঠিকানা হারানোর শঙ্কা কাজ করছে। জীবনের চাঁকা ঠেলতে গিয়ে বিউটি ও আনোয়ার এতোটা কাহিল যে ১০ বছর আগে কুকুর কামড়ে দেয়া একমাত্র ছেলে মনিরকে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ভ্যাকসিন দেয়াতে পারেননি। এ কারণে এখন মনির অনেক সময় অসুস্থ হয়ে যায়। পারেনি মনিরকে লেখাপড়া করাতে। অপর মেয়ে মানসুরার (১০) লেখাপড়াও প্রায় তিন মাস আগে বন্ধ করে দিয়েছেন। দারিদ্র্যতা এভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে রামনাবাদ পাড়ের বিউটিদের। এরা নিজেরা জানেন না কোথায় তাদের ভবিষ্যত পথচলার পথটি। তবে এইটুকু ঠিকই জানেন, আগে সিসি ব্লক দিয়ে নকশামতো বাঁধ পুনর্বাসনের কাজ করলে রামনাবাদ পাড়ের এসব হতদরিদ্র মানুষ অন্তত আবাসস্থলের দুশ্চিন্তা কাটাতে পারত। – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

