Current Bangladesh Time
বুধবার ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ ৫:১১ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » আমতলী, বরগুনা, বরগুনা সদর, ভোলা, ভোলা সদর, সংবাদ শিরোনাম » আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে উপকূলের মানুষ
৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার ৩:২৯:২২ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে উপকূলের মানুষ


আশ্রয়কে

অনলাইন ডেস্ক :: বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পের এলাকাটি ভাঙনকবলিত। এ আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা শাহানাজ তাঁর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা পলিটেকনিক আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছেন।

শাহনাজ বলছিলেন, ‘জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আসছি। শুনছি এই বন্যাডা সিডরের চেয়েও নাকি অনেক বড়। তাই বন্যা শুরুর আগেই মোরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আইছি।’

এভাবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য আঘাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে আসছে মানুষ। পরিবার–পরিজন নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে তারা।

পোটকাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন সোবাহান। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আইবে। মোরা আগেভাগেই আশ্রয়কেন্দ্রে আইছি। তবে মোগো গরু–ছাগল নিয়া আসতে পারিনি।’

পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা নূপুর রানী বলেন, ‘সিডরের সময় এমনই অবস্থা হইছিল।’

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাছ ধরার ট্রলার ও জেলে নৌকাগুলো উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার সব নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আমতলী: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমতলী-তালতলীতে ভারী বর্ষণ চলছে। উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষ আশ্রায় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে উপজেলা প্রশাসন ও ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী কর্তৃপক্ষ মাইকিং করেছে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রায় কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বরগুনা জেলা শহরের সাথে ফেরী যোগাযোগ ও আমতলী পায়রা নদী বন্দর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমতলী-তালতলীতে আজ শনিবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। আকাশ মেঘলা রয়েছে। হালকা বাতাস বইছে। আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ইতিমধ্যে উপকুলীয় এলাকার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

দুপুর ১টা পর্যন্ত আমতলী উপজেলার ৯৩ টি ও তালতলী উপজেলায় ৪৯ টি আশ্রায় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা। তরে বিকেল নাগাদ এ সংখ্যা লক্ষাধীক ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করেছেন তারা। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রায় কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের শুকনো খাবার সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা শুকনো খাবার সরবরাহ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন শনিবার দুপুরে বিভিন্ন আশ্রায় কেন্দ্র পরিদর্শন করে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

ভোলা: জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র নিরাপদে অবস্থান নিয়েছে। বিকেলের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা এলাকার সবাইকে সাইক্লোণ সেল্টারে নিয়ে আসা হবে বলে জেলা প্রশাসক মো: মাসুদ আলম সিদ্দিক আজ দুপুরে নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, জেলার চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ চরম দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এদের জন্য ৬৬৮ সাইক্লোণ সেল্টার খোলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাত থেকে মানুষজন নিরাপদে আসতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৫ লাখ পর্যন্ত মানুষকে আশ্রয় দেয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত চলছে। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগে যাতে কোন প্রাণহাণী না ঘটে সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা এবিএম আকরাম হোসেন বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমোদ্দিন, লালমোহন উপজেলায় ৭৫ হাজার করে টাকা ও ১০ মে:টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলায় ১ লাখ করে টাকা ও ২০ মে:টন চাল দেওয়া হয়েছে।

জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, সিপিবি’র ৬৮০টি ইউনিটে ৩টি করে সংকেত পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিট’র আওতায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের বসবাস। উপকূলজুড়ে সাধারণ জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য হ্যান্ড সাইরেন ও মেগা ফোনের মাধ্যমে আহবান জানানো হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদের মাইকেও প্রচার চালানো হচ্ছে নিরাপদে থাকার জন্য। গত রাত থেকেই মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে আজ দুপুরে সদরের ইলিশা ইউনিয়নের জংসন এলাকার মৌলভীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায় কাম সাইক্লোণ সেল্টারে দুপুরের খাবার বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক।

এছাড়া খোলা হয়েছে মোট ৮টি কন্ট্রোল রুম। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ১টি ও ভ্রাম্যমাণ ২৪টিসহ মোট গঠন করা হয়েছে ৯২টি মেডিকেল টিম। এসব টিম মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বুলবুল’র প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘূর্র্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ভোলায় শুক্রবার সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই সাথে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও সাগর ক্রমশই উত্তাল হয়ে উঠছে। অনেক জেলেদের নিরাপদে অবস্থান করতে দেখা গেছে।


সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বিপিএলে ‘বরিশাল’ না থাকায় বয়কটের ডাক
সেতু ভেঙ্গে খালে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
পদ্মা সেতুর পৌনে ৩ কিলোমিটার দৃশ্যমান
ছাত্রলীগের কথিত নেতাদের কান্ডে উত্তপ্ত ববি
শ্রমিক পিটিয়ে আ.লীগ নেতার হুংকার ‘কাউরে ধরলে ছাড়ি না’
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]