জিয়ানগরের ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ঘরগুলো কাজে আসছে না
 জিয়ানগরের ইন্দরকানী গ্রামে পরিত্যক্ত ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ঘর (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
আহাদ শিমুল, জিয়ানগর :: পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরে সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য নির্মিত ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ৫০টি ঘরের বেশীর ভাগই কোন কাজে আসছে না বলে দাবী ভুক্তভোগীদের। অপরিসর এসব ঘরের চারপাশে দেয়াল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের আওতায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে জিয়ানগরে ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ৫০ টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ।
আইলা বিধ্বস্ত এলাকার ঘূর্ণিঝড় সহনীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্প এর আওতায় ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ৫০ টি গৃহ নির্মাণ করা হয়। ১৫ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের গৃহে আরসিসি পিলারের উপরে ছাদ ও মেঝে পাকা করে নির্মানের জন্য ব্যয় হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ভুক্তভোগীদের দুর্দশার করুন দৃশ্য। উপজেলার বালিপাড়ার ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের উপকারভোগী মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের অবস্থা যেই লাউ সেই কদুর মত। যে ঘর পেয়েছি তা বসবাসের অযোগ্য। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই ঘরে বেড়া না থাকায় পানি ভিতরে ঢুকে সব কিছু ভিজে যায়। এই ঘর না পেলেও ভাল হত। ঘর পাওয়ায় এখন সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আবার ঠিকাদাররাও সঠিক ভাবে কাজ করেনি বলে অভিযোগ তার।
একইভাবে উপজেলার পাড়েরহাটের উপকারভোগী কবির হোসেন জানান, দেয়াল না থাকায় সল্প পরিসরের এই ঘরে বসবাস করতে অনেক কষ্ট হয়। আবার অনেক উপকারভোগীরা নিজেরাই খর কুটো, পলিথিন দিয়ে বেড়া তৈরী করে বসবাস করছে ওই ঘরে।
তবে এ ব্যপারে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মতিউর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘরের পরিমান বেশী করার জন্য এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ স্কীম করেছিলেন। আমি এ ধরনের ডিজাইনের বিপক্ষে। এ নিয়ে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বিমত পোষন করলেও তারা কোন গুরুত্ব দেয় নাই। ঘর প্রতি আরো ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে বরাদ্দ দিলেই সুন্দর করে বসবাস উপযোগি ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হত।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/জিয়ানগর/আশি/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |