বরিশালে দু’যুবককে আটক করা নিয়ে জনতা পুলিশ হাতাহাতি, থানায় মামলা
বরিশাল ডেস্ক :: বরিশালে দু’যুবককে আটক করা নিয়ে জনতা ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখা’র (ডিবি) সদস্যদের হাতাহাতি হয়েছে। ২৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নতুন বাজার জালিয়াবাড়ি পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি তারা ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করলে এলাকাবাসী তাদের বাঁধা দেয়। অপরদিকে এলাকাবাসী ও অভিযুক্ত দু’যুবক দাবি করেছেন, পুলিশ দু’যুবকের পকেটে ইয়াবা রেখে তাদের কাছে টাকা দাবি করে এবং টাকা না পেয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাঁধা দেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে দু’যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃত দুই যুবক হচ্ছেন- নতুন বাজার আবু মিয়ার হোটেলের মালিক আবুল হোসেনের ছেলে মৃদুল (২২) ও ভোলা সদর এলাকার শ্যামল দে’র ছেলে শান্তনু।
আটককৃতরা জানায়, মৃদুল তার পিতার হোটেলে বসা ছিল। সন্ধ্যায় ভোলা থেকে তার বন্ধু শান্তনু সেখানে আসে। রাতে দুজনে সিগারেট খাওয়ার জন্য হোটেল সংলগ্ন বালুর মাঠে যায়। এসময়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা’র (ডিবি) সদস্য আজমল তাদের দু’জনকে দাড়াতে বলে অপর ডিবি সদস্যদের ডাক দেয়। অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা এসে মৃদুলের প্যান্টের পকেটে কাগজে মোড়ানো ৭পিস ইয়াবা রেখে দেয় এবং উৎকোচ দিয়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তারা (মৃদুল ও শান্তনু) এর প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের অঅটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেখানে এলাকাবাসী জড়ো হয়। মৃদুলের বক্তব্য সত্য মনে হওয়ায় তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে তাদের উপর চড়াও হয় স্থানীয় জনতা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্যসবাই পালিয়ে গেলেও জনতার রোষানলে পড়ে বেধম মারধরের শিকার হন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা’র (ডিবি) কনস্টেবল চাঁন মিয়া।
এদিকে পুলিশের উপর জনতার হামলার খবর পেয়ে কোতয়ালী থানাসহ ডিবি পুলিশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য সেখানে হাজির হয়ে জনতার উপর লাঠিচার্জ করে চাঁন মিয়াকে ছাড়িয়ে নেয়। সেই সঙ্গে মৃদুল এবং শান্তনুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় তারা।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখা’র (ডিবি) উপ-পরিদর্শক শাখাওয়াত আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘মৃদুলের পকেটে ইয়াবা পাওয়ার পরই তাদেরকে আটক করা হয়েছে। সে একজন মাদকসেবী এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। তাদেরকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে ওই ঘটনা ঘটানো হয়।’
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহিদুজ্জামান জানান, আটককৃত মৃদুল ও শান্তনুর বিরুদ্ধে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা রাখার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। ডিবি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
অপরদিকে মৃদুলের বাবা স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আবু মিয়া জানান, ‘আমার ছেলে কলেজে পড়ার পাশাপাশি ব্যবসায় আমাকে সহায়তা করে। তার কাছে ইয়াবা থাকার বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা। অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে পুলিশ এই নাটক সাজিয়েছে। মাঝে থেকে আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেল।’
-
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরিশাল/ডেস্ক/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |