Current Bangladesh Time
বৃহস্পতিবার মে ২৮, ২০২০ ৭:১৮ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » রিপোর্টারের ডায়েরি, স্বাস্থ্য » চিকিৎসক এবং হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল!
৩ মে ২০২০ রবিবার ৬:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

চিকিৎসক এবং হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল!


সোহেল সানি ।

আমাদের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সেবক নয়,  প্রকারান্তরে এঁরা ‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল।’বাংলায় ভদ্রবেশী অপরাধী। মরণঘাতী করোনায় দেশ আক্রান্ত হবার পর ভদ্রবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা  স্বার্থান্ধ রূপ আমরা দেখছি। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে যে কজন চিকিৎসক জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন এবং যেসব চিকিৎসক করোনাক্রান্তদের সেবায়ব্রত রয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু চিকিৎসকের বড় অংশ নানা অজুহাত দেখিয়ে নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টায় রয়েছেন। সাংবাদিকতার সূত্র ধরেই আমরা জানি, একবার  চিকিৎসক হতে পারলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়না। সর্ব পরিসরে তাঁদের সর্বাপেক্ষা কদর। বৈবাহিক শুধু নয়, বৈষয়িক জীবনের সোনালী অধ্যায় রচিত হয়ে যায়। সরকারি মেডিকেলগুলো থেকে একেকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক বানিয়ে আনতে রাষ্ট্রকে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে করতে হয়। রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য নিরাপদ রাখতেই রাষ্ট্রের এই ব্যয়। চিকিৎসকরা কোনমতে সহযোগী, সহকারী বা পরিপূর্ণ অধ্যাপক হয়ে উঠলে আর কথা নেই। কত রকমের সুবিধা যে আছে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি। দেশের ঔষদ শিল্পের ওপরও তাদের রয়েছে বিরাট প্রভাব। ঔষধ কোম্পানি গুলোই চিকিৎসকদের আধুনিক জীবনব্যবস্থায় দ্বার উন্মোচন করে দেয়। ১ থেকে ১০ লাখ টাকা একেক চিকিৎসক হাতিয়ে নেন। বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই কোম্পানিগুলো দেখভাল করে থাকে। সুরক্ষা সরঞ্জাম মানে পিপিই নেই। চিকিৎসকরা কোম্পানিগুলোকে বলুন, তিনমাস “দিতে হবে না” পিপিই সাপ্লাই দিন। বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আপনারা জনস্বার্থে এতটুকু ছাড় দিন। আপনাদের দয়ামায়াহীন অবস্থায়চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক মহান গ্রিক চিকিৎসাবিদ  হিপোক্রেটিস বা অন্যতম জনক ইবনে সিনার আত্মাও হয়তো কেঁপে উঠছে। আপনারাই তো পড়েছেন,চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস মানবেতিহাসের ন্যায় প্রাচীন।  প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ঔষধ হিসেবে উদ্ভিদ (Herbalism), পশুর দেহের বিভিন্ন অংশ এবং খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে পুরোহিত, Shamans, বা চিকিৎসকরা এই উপকরণগুলোকে ঐন্দ্রজালিক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করতেন। সুপরিচিত কিছু আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাসমূহের কথা বলা যায়, যেমন, প্রাণবৈচিত্র্য (আত্মার অনিবার্য বস্তু সম্পর্কে ধারণা), আধ্যাত্মিকতা (দেবতাদের কাছে আপীল বা পূর্বপুরুষের আত্মার সাথে আলাপ করা), Shamanism (রহস্যময় ক্ষমতার সাথে ব্যক্তির পরিচিতি), এবং ভবিষ্যৎবাণী (জাদুর মাধ্যমে সত্যকে প্রাপ্তি)। চিকিৎসা নৃতত্ত্বের ক্ষেত্রগুলো মূলত স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি ও সমাজের চারপাশ কী করে সংগঠিত বা প্রভাবিত হয় এমন উপায়গুলো পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখে। প্রাচীন মহান গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসের পাশাপাশি প্রাচীন গ্রেকো- লাতিন সংস্কৃতির আরেকজন বিখ্যাত চিকিৎসক হলেন গ্যালেন। প্রাচীন চিকিৎসায় প্রমাণ গুলো পাওয়া যায়, মিশরীয় ঔষধ, বেবিলনিয়ান ঔষধ, আয়ুর্বেদিক ঔষধ (যা ভারতীয় উপমহাদেশে সুপ্রচলিত ছিলো), ক্লাসিক্যাল চীনা ঔষধ (যাকে আধুনিক ঐতিহ্যবাহী চীনা ঔষধের পূর্বসূরি বলে ধারণা করা হয়), প্রাচীন গ্রিক ঔষধ এবং রোমান ঔষধ থেকে। মিশরের ইমহোতেপ (৩য় সহস্রাব্দের বিসি) ছিল প্রথম পরিচিত চিকিৎসক। ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে প্রাচীনতম মিশরীয় চিকিৎসা পাঠ্যক্রমটি কাহুন-গাইনোকোলজিক্যাল প্যাপিরাস নামে পরিচিত যা মূলত গাইনোকোলজিক্যাল রোগের বর্ণনা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। ১৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এডউইন স্মিথ প্যাপিরাস সার্জারির উপর প্রথম কাজ করেছিলেন। আর ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে Ebers Papyrus কাজ করেছিলেন যা চিকিৎসা সম্পর্কিত পাঠ্যক্রমের অনুরূপ ছিলো। চীনে চিকিৎসা বিষয়ক প্রত্নতাত্ত্বিক যে প্রমাণ গুলো পাওয়া যায়, তা ছিলো ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন। তখন সেখানে শং রাজবংশের শাসন চলছিল। চীনে অস্রোপচারের জন্য বনজঙ্গল থেকে সংগৃহীত বীজ ব্যবহৃত হতো। Huangdi Neijing ছিলো চীনের চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য মাইলফলক, যা ছিলো দ্বিতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শুরু এবং তৃতীয় শতাব্দীতে লেখা একটি মেডিকেল পাঠ। ভারতে শল্যচিকিৎসক Sushruta প্লাস্টিকের অস্রোপচারের প্রাচীনতম রূপসহ অসংখ্য অস্ত্রোপচারের বর্ণনা দিয়েছেন। অস্রোপচারের সবচেয়ে পুরনো রেকর্ডগুলো পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কার মিহিনটলে অবস্থিত উৎসর্গীকৃত হাসপাতালে, যেখানে রোগীদের জন্য সুষম চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রীসে, গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যাকে পশ্চিমা চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম ঔষধের যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনিই হিপোক্রেটিক ওথ চালু করেন। যা এখনও প্রাসঙ্গিক এবং আজ অবধি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রোগকে তখনি প্রথম Acute, Chronic, Endemic and Epidemic হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। তা ছাড়া তাদেরকে “Exacerbation, Relapse, Resolution, Crisis, Paroxysm,Peak, and Convalescence হিসাবেও শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিলো। গ্যালেন ছিলেন প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সার্জন। মস্তিষ্ক ও চক্ষু অস্রোপচারসহ অনেক অদ্ভুত অপারেশন তিনি করেন। পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর এবং মধ্যযুগীয় যুগের সূচনার পরে পশ্চিম ইউরোপে ঔষধের গ্রিজ ঐতিহ্য হ্রাস পেতে থাকে। প্রথম সহস্রাব্দের দিকে প্রাচীন হিব্রু চিকিৎসা পদ্ধতির অধিকাংশই তওরাত থেকে আসে। যেমন হযরত মুসা (আঃ) এর পাঁচটি গ্রন্থ  যা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আইন। এবং রীতিনীতি ধারণ করে। আধুনিক ঔষধের উন্নয়নে হিব্রুদের অবদান বাইজেন্টাইন যুগে শুরু হয়েছিলো। ইহুদি চিকিৎসক আসফ এর মাধ্যমে। মধ্যযুগে মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের হাতে চিকিৎসা শাস্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা সবচেয়ে বিখ্যাত। তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের বিশ্বকোষ আল- কানুন ফিত- তীব রচনা করেন। যা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্বিবদ্যালয় ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠ ছিলো। আরবিতে ইবন সীনাকে আল- শায়খ আল- রাঈস তথা জ্ঞানীকুল শিরোমণি হিসাবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়। পশ্চিমে তিনি অ্যাভিসিনা নামে পরিচিত। তাকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম জনক বলা হয়।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন: পাঁচ করোনা রোগী নিহত
ছুটি বাড়ছে না, তবে গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
বরিশাল বিভাগে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২২ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৪১
ডা. জাফরুল্লাহর শরীরে প্লাজমা থেরাপি, খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com