Current Bangladesh Time
শনিবার আগস্ট ১৫, ২০২০ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা, সংবাদ শিরোনাম » করোনাকালে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব ঠেকাতে মশা দমনের বিকল্প নাই
২০ জুন ২০২০ শনিবার ১:৩৬:২৫ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

করোনাকালে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব ঠেকাতে মশা দমনের বিকল্প নাই


ড. মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়াঃ

সবত্র বৈশ্বিক কোভিড-১৯ এর দূর্যোগ চলছে। করোনা আতংকে আমাদের নাভিশ^াস উঠে গেছে এর মধ্যে আবার ডেঙ্গুর হাতছানি। বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশা। ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যা সত্যিই এলার্মিং। আমাদের হাসপাতালগুলো এখন করোনা রোগী নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। যদি এর সাথে ডেঙ্গু ভাইরাস যোগ হয় তাহলে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়াঁবে তা বলাই বাহুল্য। মরার উপর খড়ার ঘাঁ’র মতো অবস্থা হবে হয়তো। আমরা সচারাচর মশা নিয়ন্ত্রনের চেয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসায় বেশী মনোযোগ গিয়ে থাকি। কিন্তু এবার দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়ানক করোনা ভাইরাস আমাদেরকে তাড়া করছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগের প্রতিকারের চেয়ে মশার শক্ত প্রতিরোধ করাটাই শ্রেয় হবে। মশা নিয়ন্ত্রন ঠিকমতো করতে পারলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমবে এবং হাসপাতালে চাপ কম পরবে। তাই কর্তৃপক্ষকে মশা নিয়ে এখনই সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। মশা দমনে নিতে হবে আগাম, কার্যকরী ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

এখন প্রায় প্রতিদিইন বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি আমাদের চ্ারদিকে বিভিন্নভাবে (পুরাতন বালতি, টব, ডাবের খোসা, পলিথিন ইত্যাদি) জমে থাকছে। আর এই জমা পানিতে ২-৩ দিনের মধ্যেই জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা। গত বছর মশারা বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ডিম পেরে রেখেছিল আর সেগুলো ফুঁেট এখন লার্ভা বেরুচ্ছে এবং মশাদের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। সুতরাং বৃষ্টির পানিতে এভাবে লার্ভা জন্ম নেয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে হবে। লার্ভা জন্মানোর উৎসগুলো ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ সোর্র্স রিডাকশন করতে হবে। আর জন্ম নেয়া লার্ভা ধ্বংস করার জন্য লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আর এজন্য গনসচেতনতা বৃদ্ধিকরতঃ সাধারন মানুষের করনীয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ভরা বর্ষা মেীসুমে (আগামী ৩ মাস পর অর্থাৎ জুন-জুলাই-আগস্টে) মশা যাতে ব্যাপক আকার ধারন করতে না পারে তাই এখনই সচেতন হতে হবে। সেজন্য মশার সারভিলেন্স (ডিম, লার্ভা ও পূর্নাঙ্গ মশা) পরিচালনা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

লার্ভার উৎস ধ্বংসকরন (সোর্র্স রিডাকশন) কার্যক্রমে সাধারন জনগনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। লার্ভা জন্ম নেয়ার মুল জায়গাগুলো (বাসাবাড়ীর সামনে পানি জমে থাকে এরকম কিছু) কিংবা নির্মানাধীন বাড়ী, পরিত্যাক্ত বাসাবাড়ী, ডোবা, ছোট জলাশয় ইত্যাদি চিহ্নিতকরে লার্ভার উৎস নিয়মিত ধ্বংস করতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে কোথাও জমতে না পারে তাতে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহনসহ কঠিন মনিটরিং করতে হবে। গতবছর লার্ভার উৎস ধ্বংসকরনে কর্তৃপক্ষ নজর দিয়েছিল কিন্তু তা অনেক দেরীতে ততদিনে মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরেছিল। তাই এবছর যেন আর অবহেলা না হয়। লার্ভার উৎস ধ্বংসকরন বা সোর্র্স রিডাকশনের পাশাপাশি এই সময়ে লার্ভিসাইডিং (লার্ভার ধ্বংসকরন) কার্যক্রমে মুল নজর দিতে হবে। যেখানেই লার্ভা জন্মাবে সেখানেই লার্ভিসাইডিং (লার্ভার ধ্বংসকরন) কার্যক্রম চালাতে হবে। লার্ভিসাইডিং হচ্ছে মশা দমনের মুল অস্ত্র। তাই লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমে কার্যকরী লার্ভিসাইড ব্যাবহার করা অপরিহার্য। গতবছর লার্ভার ধ্বংসকরন কার্যক্রমে ভালো সুফলতা আসেনি। সম্ভবত সঠিক ও সময়োপযোগী লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়নি। করলেও এর সঠিক মাত্রা ও ব্যাবহারবিধি নিশ্চিত করতে হবে। প্রচলিত বা ব্যাবহৃত লার্ভিসাইডগুলো কতটা কার্যকর তা যাচাই করতে হবে। আর্ন্তজাতিক বাজারে এখন খুব কার্যকরী লার্ভিসাইড (বিটিআই, স্পাইনোসাদ ইত্যাদি) পাওয়া যাচ্ছে, প্রয়োজনে এগুলো যাচাইপূর্বক প্রয়োগ করতে হবে। অকার্যকর লার্ভিসাইডের প্রয়োগ বাদ দিতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, লার্ভার উৎস ধ্বংসকরন (সোর্র্স রিডাকশন) ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম অতোপ্রতোভাবে জড়িত। মশা নিয়ন্ত্রন সফল করতে চাইলে সবদিকেই সমান নজর দিতে হবে। তাছাড়া লার্ভা বা মশা উৎপাদনের কমন জায়গাগুলো চিহ্নিত করাও জরুরী। এজন্য এরিয়াভিত্তিক ম্যাপিং করতে হবে এবং সে অনুযায়ী লার্ভিসাইডিং করতে হবে। যত্রতত্র লার্ভিসাইডিং করা যাবে না।

এখন পূর্নাঙ্গ মশার উপস্থিতি সব জায়গায় থাকলেও এরা এলাকাভিত্তিক (শুধুমাত্র আক্রান্ত এলাকায়) ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করছে। তাই এসব এলাকার পূর্নাঙ্গ মশা মারতে বিশেষ এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম চালাতে হবে। তাছাড়া সারাদেশে মশা উৎপাত বন্ধ করতে রুটিনমাফিক এডাল্টিসাইডিং করতে হবে। এগ লেইং মশা চিহ্নিত করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ফগিং এ কার্যকরী কীটনাশক ব্যাবহার করতে হবে। শুধুমাত্র লোক ভোলানো যত্রতত্র ফগিং করলেই চলবে না। মশা মরছে কিনা বা কমছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। ফগিং ছাড়াও এখন অনেক উন্নত স্প্রেয়ার মেশিন রয়েছে (ইউ.এল.বি স্প্রেয়ার), প্রয়োজনে তা ব্যাবহার করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, লার্ভিসাইডিং এবং এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম সফল করতে হলে মশার জীবনচক্রের সাথে মিল রেখে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

করোনাকালীন সময়ে দেশের সরকারী/বেসরকারী প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান, অফিস, বিল্ডিং, স্থাপনা বা পরিত্যাক্ত স্থানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও তালাবদ্ধ। তাই এসব জায়গায় এখন লার্ভা জন্ম নেয়ার সুযোগ বেশী থাকবে। আর এসব জায়গায় এবার বিশেষ নজর দিতে হবে। সিটি করপোরেশন বা পৈীরসভার পরিছন্ন কর্মীরা এখন এই কাজটা করতে পারেন। অন্যদিকে ব্যাক্তিগত স্থাপনা বা বাসাবাড়ী পরিস্কার পরিছন্ন রাখার দ্বায়িত্ব স্ব-স্ব মালিককে বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। যেহেতেু আমরা এখন বাসাতেই বেশী সময় ধরে থাকছি তাই আমাদের প্রত্যেককে নিজ দ¦ায়িত্বে যার যার বাসা পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। মশার লার্ভা যাতে আমাদের বাসায় বা আঙ্গিনায় জন্ম নিতে না পারে সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন/পৈারসভার উপর নির্ভর করলে মারাত্বক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে আমরা এখন একটা কঠিন সময় পার করছি। ব্যক্তিগত প্রোটেকশন নেয়া এখন খুবই গুরুত্বপূর্ন এবং প্রাসঙ্গিকও বটে। আমরা আমাদের নিজেদেরকে এবং আমাদের বাসাবাড়ীগুলোকে নিজেরাই মশা থেকে সুরক্ষিত রাখতে আরো সতর্ক ও যত্নবান হতে পারি। বাসাবাড়ীতে বেশী সময় থাকার কারনে এডিস মশা দ্বারা আমাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিঁ বেশী থাকে। তাই এসময় ফুল-স্লিভস জামা পরিধান, ঘুমের সময় মশারী টানানো, দরজা-জানালায় নেট স্থাপন বা অপ্রয়োজনে না খোলা, বাজারের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রিপেলেন্ট ক্রিম, স্প্রে বা কয়েল ব্যাবহার করা যেতে পারে।

মশার নিয়ন্ত্রন নিয়ে সরকার এ বছর আগাম ভাবতে শুরু করেছে। নিঃসন্দেহে এটা ভালো সংবাদ। প্রচার মাধ্যমগুলোকে যথারীতি সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে। গতবছর প্রেস মিডিয়া ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপক কাভারেজ দিয়েছিল। তবে মশাকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রন করতে গেলে মিডিয়াগুলোকে এখন থেকেই আরো বেশী সোচ্চার হতে হবে। বিশেষকরে বৃষ্টির পানি জমতে না দেয়া বা লার্ভা না জন্মানোর বিষয়ে জনগনকে অবিহিত করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত খবর বেশী প্রচার করতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি যেন ২০১৯ সালের মতো পূনরায় ভয়ানক হতে না পারে এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সাধারন জনগনকেও একসাথে মশাকে প্রতিরোধ করতে হবে। ডেঙ্গু ভাইরাস যেন এ বছর আগ্রাসী ভুমিকায় অবতীর্ন না হতে পারে এজন্য আগাম মশা দমন ব্যাবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। করোনাকালীন এই সময়ে মশার সফল নিয়ন্ত্রনই পারে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।

লেখকঃসহযোগী অধ্যাপক (কীটতত্ত¡), পবিপ্রবি,পটুয়াখালী, বাংলাদেশ।
ভিজিটিং সায়েনটিস্ট, এনাসটাশিয়া মসকিটো কন্ট্রোল, ফ্লোরিডা, আমেরিকা।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
মুজিবাদর্শ ও শোক গাঁথা
আজ জাতীয় শোক দিবস
৩১ আগস্ট থেকে চালু বরিশাল বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম
রক্তাক্ত পঁচাত্তর: ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ!
মানুষের জন্য সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দেব: প্রধানমন্ত্রী
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com