AmaderBarisal.com Logo

পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাসহ স্থাপনা নির্মানে চায়না ভিত্তিক কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন


আমাদেরবরিশাল.কম

১ জুলাই ২০২০ বুধবার ৩:৪২:০৩ অপরাহ্ন


জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)ঃ

চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর সঙ্গে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দরের পন্য খালাসের জন্য প্রথম অত্যাধুনিক টার্মিনাল নির্মান চুক্তি সম্পন্ন করেছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার শেষ বিকালে পায়রা বন্দরের সভা কক্ষে এক হাজার ৩৪
কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ২০৩ টাকা ব্যায়ে অত্যাধুনিক প্রথম টার্মিনাল নির্মান হবে
বঙ্গোপসাগরের রাবনাবাদ নদের মোহনা ঘেঁষা কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামের মুল বন্দর এলাকায়। পায়রা বন্দরের সভা কক্ষে চায়নার ‘সিএসআইসি ইন্টার ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়রিং কোম্পানী লিমিটেড’ এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিঃ রিচার্ড চেং এবং পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল, (এল) এনইউপি, এনডিইউ, পিএসসি, বিএন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এসময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চায়না ‘সিএসআইসি ইন্টার ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়রিং কোম্পানী লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান মিঃ চেন জিচুং, ভাইস প্রেসিডেন্ট মিঃ ঝাও বাওহুয়াসহ অন্যান্যরা সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন ) কমডোর এম জাকিরুল ইসলাম, এনডিসি, পিএসসি, বিএন। চুক্তিবদ্ধ প্রকল্প পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন। ডিআইএসএফ প্রকল্প পরিচালক ক্যাপটেন মো. মনিরুজ্জামান প্রমূখ।

‘পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষাঙ্গিক সুবিধাদি নির্মান’ শির্ষক এই
প্রকল্পটির ডিপিপি ২০১৮ সালের ০৪ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোতিদ হয়। ডিপিপি
অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার নয়শত কোটি ৮২ লক্ষ ১০
হাজার টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ০১ লা জানুয়ারি ২০১৯ হতে ২০২১ সালের
৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে এবং এই কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মান হলে পায়রা বন্দর
থেকে বছরে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা যাবে বলে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মানের কাজটি চলতি বছরের ১৮ জুন সিসিজিপি কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ৩০ মাসের মধ্যে পায়রা বন্দরের এই উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করবে এই কম্পানী।

চুক্তি ভিত্তিক প্রথম টার্মিনাল নির্মান এই প্রকল্পের আওতায় তিন লক্ষ
পচিশ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড নির্মান, প্রশাসনিক ভবন নির্মান, বৈদ্যুতিক
সাব স্টেশন নির্মান, ওয়ার্কশপ নির্মান, ফায়ার স্টেশন নির্মান, সিএফএস শেড নির্মান,
হাই মাস্ট পুল নির্মান, গেট হাইজ নির্মান, ফুয়েল স্টেশন নির্মান, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার
রির্জাভার নির্মাণ, পাম্প হাউজ নির্মান, ইন্টারনাল ড্রেন ইউটিলিটি সার্ভিস ইত্যাদী
নির্মান করা হবে।

প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের প্ল্যানিং, ডিজাইন, ড্রইং, প্রাক্কলন ও
প্রকল্প চলাকালীন প্রকল্পের কাজের সাপারভিশনের জন্য কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কুনহোয়া- ডীইয়ং-হীরিম (জেভি) কে নিয়োগ করা হয়েছে।
এব্যাপারে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন ), এনডিসি, পিএসসি, বিএন- কমডোর এম জাকিরুল ইসলাম, কালের কন্ঠকে বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পায়রা বন্দরের এলাকায় সাজ সাজ অবস্থা দেখতে পাবেন। পায়রা বন্দরের ছয় লেনের রাস্তার সঙ্গে আন্ধারমানি নদেও ওপর আরো একটি ছয়লেনের অত্যাধুনিক ব্রিজ হবে এবং পায়রা বন্দরের এখন যে টার্মিনাল নির্মান হচ্ছে সেখানে রেলাই সংযোগ করা হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেক। ছয় লেনের রাস্তা এবং রেলের মাধ্যমে কন্টেইনারসহ সকল পন্য পরিবহন হবে দ্রæত সময়ের মধ্যে। পায়রা বন্দরের টার্মিনাল সম্পন্ন হলে সেখানে সারে নয় এবং ১০ মিটারের বড় জাহাজ আসবে। তখন চট্রগ্রাম বন্দরের মতই পায়রা বন্দর ব্যস্ত বন্দরে পরিনত হবে। পন্য খালাসে মাধ্যমে পায়রা বন্দর একটি ব্যস্ত বন্দরে পরিনত
হবে। পদ্মা সেতু, লেবুখালী ব্রিজ চালু হলে দেশ-বিদেশের সকল বানিজ্যিকি কার্যক্রম শুরু হবে পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র এটা আমার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বলছি। এই চুক্তির মাধ্যমে পায়রা বন্দরের একটি মাইলস্টোন সেট হলো, পায়রাবন্দর শুরু হওয়ার জন্য। আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে চাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য পায়রা বন্দর কার্যকর ভুমিকার রাখতে পারবে।

পায়রা বন্দরের চ্যানেল ড্রেজিং হয়েগেলে সাড়ে নয় মিটার থেকে ১০ মিটার ড্রাফট হয়ে যাবে। ড্রাফটের দিক দিয়ে চিটাগং পোর্টের সমান ড্রাফট হয়ে যাবে। বর্তমানে চিটাগং বন্দরে যে ট্রাফিক জ্যাম লেগেন থাকে পন্যবাহি জাহাজের, তাতে ব্যবসায়িদের ব্যাপক সময় ক্ষেপন এবং লোকসান গুনতে হয়।

চিটাগং জট দেখা দিলে ব্যবসায়িরা পায়রা বন্দর থেকে পন্য খালাস করবে দ্রæত সময়ের জন্য এবং সড়ক ও রেল পথে দ্রæত পন্য গন্তব্যে নিয়ে গিয়ে কানিজ্যিকি কার্যক্রম শুরু করে ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হবেন।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।