বখাটে কামরুলের শাস্তির দাবিতে লালমোহনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জসিম জনি, লালমোহন :: ভোলার লালমোহনে বখাটে কামরুলের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। ১৮ জুলাই বুধবার দুপুর ১টায় পৌর এলাকার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক কমিটির সদস্য ও ৫শ সহপাঠি ছাত্রীর অংশগ্রহনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ঘটনায় পিটিয়ে আহত করায় বখাটে কামরুলসহ ৭জনকে বিবাদী করে লালমোহন থানায় মামলা দায়ের করেছে স্কুল ছাত্রী ইশরাত জাহান পপির বাবা মোঃ আরিফুর রহমান।
মানববন্ধনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য একেএম জহুরুল ইসলাম জামাল মিয়া, প্রধান শিক্ষক আঃ হাইসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা পুলিশ সুপার ও লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে বখাটে কামরুলের শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
এদিকে কামরুলের পরিবারের দাবী, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মেয়েকে পুঁজি করে পপির পিতা-মাতা সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে ইভটিজিং এর মতো একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। মূলত কামরুল ও তার পরিবারকে ফাঁসানোর এ মিথ্যা অপপ্রচারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের মোঃ আরিফুর রহমান এর দুই মেয়ে ইশরাত জাহান পপি ও ফৌজিয়া নাজরিন অন্তর লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। তারা স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে একই এলাকার বকসী বাড়ির নাগরের ছেলে কামরুল ইসলাম উত্যক্ত করে আসছে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই দুই বোন এক সপ্তাহ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু গত ১৪ জুলাই শনিবার থেকে প্রথম সাময়ীক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তারা পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসে। ১৭ জুলাই সোমবার বখাটে কামরুল স্কুলের প্রবেশপথে এসে তাদের উত্যক্ত করার চেষ্টা করলে স্কুলের এক শিক্ষিকা তাকে শাস্তি দেয়। এ ঘটনায় কামরুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন পপি ও অন্তরের বাড়িতে এসে তাদের উপর হামলার চেষ্টা করে। এ ঘটনা স্কুলছাত্রী পপিকে নিয়ে তাদের বাবা-মা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একেএম নজরুল ইসলামকে জানাতে যায়। উপজেলা চেয়ারম্যানকে ঘটনা জানানোয় বখাটে কামরুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সন্ধ্যা ৭টায় অভিযোগ জানিয়ে স্কুলছাত্রী পপি ও তার বাবা-মা বাড়িতে ফেরার পথে বখাটে কামরুল, তার মামা মাকসুদ, এমরান, মামাতো ভাই রাসেল, আব্বাস ও আরিফ তাদের পথরোধ করে এবং অতর্কিত মারপিট শুরু করে। এসময় তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পপির বাবা আরিফুর রহমান ও মা রাশেদা খানম এর মাথা ফেটে যায়। এছাড়া তারা স্কুলছাত্রী পপিকেও পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমোহন সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/লালমোহন/জজ/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |