Current Bangladesh Time
বৃহস্পতিবার আগস্ট ১৩, ২০২০ ৩:২১ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » রিপোর্টারের ডায়েরি, সংবাদ শিরোনাম » মেনিফেস্টোতে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলে সরকারি অনুমোদন পেতে হয় আওয়ামী লীগকে!
১১ জুলাই ২০২০ শনিবার ৮:৫৭:২৭ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

মেনিফেস্টোতে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলে সরকারি অনুমোদন পেতে হয় আওয়ামী লীগকে!


সোহেল সানি:

আজ বিএনপির যখন করুন সাংগঠনিক অবস্থা দেখছি, তখন দৃষ্টি ফিরে তাকায় সেই বঙ্গবন্ধু হত্যাত্তোর বিভীষিকাময় বৈরী পরিস্থিতির দিকে। সংবিধিবদ্ধ সরকারি  অফিস আদালত থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও বঙ্গবন্ধু ভীতি দূর হচ্ছিল না তৎকালীন সামরিক শাসকগোষ্ঠীর।

রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখার জন্য  ঘরোয়া রাজনীতির পক্ষে একটা সার্কুলার দেয়া হল। ৭৬ এ জারি করা  ‘রাজনৈতিক দলবিধি আইন।’সেই বিধি মেনেই রাজনৈতিক রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে – আর তা জারির দিন হিসাবে বেছে নেয়া হল শোকাবহ আগস্টের চার তারিখ। 

  রাজনৈতিক দলবিধি  (পিপিআর) প্রকাশ করা হয় চার আগস্ট। কী নিষ্ঠুরতা, মাত্র এক বছর আগে এ মাসেরই ১৫ তারিখ প্রায় সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। হত্যা করা হয়। ইতিহাসের নির্মম প্রহসন আওয়ামী লীগ এ শোকের মাসেই আইন মন্ত্রণালয় বরাবরে দরখাস্ত করতে হবে।

দলের অধিকাংশ নেতাই কারাগারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ সম্পাদক মন্ডলীর অধিকাংশ নেতাই কারাগারে। উপায়ন্ত না পেয়ে মহিলা সম্পাদক সাজেদা চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সরকারি অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদনপত্র জমা দিলেন। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় আবেদনপত্রটি দলবিধি আইনের ১০ নম্বর ধারা পরিপন্থী বলে নাকচ করে দেয়। আবেদনটি ১০ নম্বর ধারা পরিপন্থী। এই ধারা অনুসরণ করে পুনরায় আবেদন করার কথা জানিয়ে দেয় আইন মন্ত্রণালয়।  বলা হয়,  মেনিফেস্টো ও গঠনতন্ত্র বা কর্মসূচি ভিত্তিক কোন পুস্তিকায় ‘ব্যক্তিপুজা,  ব্যক্তিবন্দনা অর্থাৎ মৃত কোনো ব্যক্তি বিশেষের নাম মেনিফেস্টোতে থাকতে পারবে না। এ অবস্থায় পক্ষে বিপক্ষে মত থাকলেও শেষ পর্যন্ত নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেন।

নতুন করে মেনিফেস্টো ছাপাতে হয়।  বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়েই। এরপর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী পুনরায়  সরকারি অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আইন মন্ত্রণালয় পিপিআর- ১০ ধারা পরীক্ষা নিরীক্ষার শেষে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসাবে অনুমোদন দেয়।

কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে এমন একটি দিন সরকার অনুমোদনের জন্য নির্ধারণ করে দেয়, যে দিনটি আরেকটি শোকের মাস। অর্থাৎ ‘৭৬ সালের  চার নভেম্বর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসাবে অনুমোদন লাভ করে। অথচ এর একদিন আগে ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মন্ত্রী  মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোল্লা জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।

মিজান চৌধুরীর ভাড়াকৃত বাড়ির ছাদে সামিয়ানা টাঙিয়ে প্রথম কাউন্সিল সভা ডাকা হয়। এর মধ্যে শুরু হয় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েমকে হটিয়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন। ‘৭৭এর ৫ নভেম্বর পূর্বঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ বাতিল করা হয়। এর আট দিন আগে ১৩ নভেম্বর মওলানা ভাসানী খোদাই খিদমতগারের এক সমাবেশে বলেন, জনগণের ৯০ ভাগই এখন আর নির্বাচন চায়না। অথচ,’৭৬ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েম ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন “জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।” ২২ মার্চ নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের খসড়াও তৈরি করা হয়েছিল। ভাসানীর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হলেও এক সপ্তাহের মুখে  ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানী ইন্তেকাল করেন।

আওয়ামী লীগের আগে অনুমোদন পায় খুনী মোশতাকের  ডেমোক্রেটিক লীগ। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হওয়ার পর থেকেই জিয়া বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য রাখেন। ‘৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েমকে সরিয়ে জিয়া এবার  রাষ্ট্রপতির পদটিই দখল করেন। ৩০ এপ্রিল ঘোষণা করেন ১৯ দফা। তারপর ৩০ মে গণভোট। ‘৭৮  ফেব্রুয়ারিতে জাগদল গঠন করে  ১১ অক্টোবর বলেন, তার রাজনীতির ভিত্তি হবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। ‘৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক দিয়ে মুক্তি বাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর পক্ষে নামে।কিন্তু  নির্বাচনে জয়ী হয়ে জিয়াউর রহমান ১২ জুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন।

তারপর ‘৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে  সংসদ নির্বাচন।    আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯ টি এবং আওয়ামী লীগ (মিজান) ৩টি  আসন পায়। জিয়ার বিএনপি নিয়ে নেয় ২০৭টি আসন।

এসবের আগে কিন্তু রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন  জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন বঙ্গভবনে।   আবদুল মালেক উকিল ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের  ১৪ নেতা যোগও দেন। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান, নৌপ্রধান মোশাররফ হোসেন খান ও বিমানবাহিনী প্রধান এম কে বাশার উপ প্রধান সামরিক হিসাবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মিজান চৌধুরীর ভাষ্যমতে, জেনারেল জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনের ওই বৈঠকে বলেন,” Who is a better Awami League than me? I have transmitted the directives of Bangabandhu from Chittagong Radio Station.” জেনারেল জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভেতরে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো।

 বঙ্গবন্ধু হত্যার পর – ২৩ আগস্ট জাতীয় চার নেতার সঙ্গে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার দুই সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদ ও এম কোরবান আলী, ৬ সেপ্টেম্বর অধুনালুপ্ত আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক  জিল্লুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদও গ্রেফতার হন।এর কিছুদিন পর  আমির হোসেন আমু,  মোজাফফর হোসেন পল্টুসহ আরও ২০ নেতা গ্রেফতার হন। 

 একে একে নেতারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। দলের ভাঙ্গন রোধে ‘৮১-তে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী  লীগের সভাপতি করা হয়। দিল্লি হতে এসে হাল  দলের। দীর্ঘ চারদশকের রাজনীতির প্রায় অর্ধেকটা সময়ই তিনি প্রধানমন্ত্রী। দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নত শিখরে।  উন্নত জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শ্রেষ্ঠ সময়, তখন প্রাণঘাতী করোনার হানা। শেখ হাসিনার হাতে নিশ্চয়ই  ঘুরে দাঁড়াবে দেশ।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল নগরে ডিবি পুলিশের ‘ব্লক রেইড’
যেকোন দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত: রীভা গাঙ্গুলি
বেপরোয়া আন্তঃজেলা-দূরপাল্লার বাস! স্বাস্থ্যবিধি মানার নেই কোন সদিচ্ছা
সিলেটে আটক জঙ্গির বাসায় মিলল শক্তিশালী বোমা, আরেকটি বাসায় চলছে অভিযান
বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন অনুমোদন দিল রাশিয়া
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com