ভোলায় মাছের বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা
ভোলা, ৫ আগষ্ট (অচিন্ত্য মজুমদার, আমাদের বরিশাল ডটকম): নিষিদ্ধ ঘোষিত পিরানহা মাছ ভোলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব বিষাক্ত মাছকে সামুদ্রিক মাছ রূপ চাঁদা পরিচয় দিয়ে সাধারন মানুষকে প্রতারিত করছে। না জেনে বিষাক্ত মাছ খেয়ে নানা রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশে এই মাছ চাষ, বিক্রয়, আমদানি ও পরিবহন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর পরও প্রকাশ্যে এসব পিরানহা বিক্রি হলেও আইনগত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ রবিবার সরেজমিনে ভোলার সদরের মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই চলছে পিরানহা মাছের রমরমা বাণিজ্য। প্রতি কেজি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। ক্রেতারাও না বুঝে এই মাছ কিনছেন। বিষাক্ত মাছ কেন বিক্রী করছেন জানতে চাইলে মাছ বিক্রেতা মোঃ নুরু মিয়ার জানান, পিরানহা মাছ বিক্রিকরা নিষেধ সেটা জানি। তবে এই মাছ বিক্রী করলে লাভ বেশি। আর ভোলা ও বরিশালের বিভিন্ন আড়ৎ এই মাছ প্রচুর পাওয়া যায়। এর সাথে প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকায় প্রকাশে বিক্রী করতে তেমন সমস্যা হয়না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক মাছ বিক্রেতা জানান, পিরানহা মাছ ভোলাই চাষ হয়। চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিনের কিছু মাছ চাষি এসব মাছ চাষ করছে। ওই মাছই ভোলার বিভিন্ন মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা মোঃ মিঠু বলেন, রূপচান্দা মাছ বলে এই নিষিদ্ধ মাছগুলি আমাদেও কাছে তারা বিক্রী করছে। চিকিৎসকরা জানান, পিরানহা মাছ খেলে পেটে পিড়া, ডায়রিয়া সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও বিষাক্ত এই মাছ খেলে শরীরে চর্ম রোগসহ কিডনী প্রদাহ দেখা দিতে পারে । গর্ভবতী মায়েরা বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম দিতে পারেন।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর হাসপাতালের সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ ফরিদ আহমেদ জানান, এ মাছ মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ মাছ খেয়ে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছারাও আরো অনেক সমস্য হতে পারে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার দাস বলেন, শীঘ্রই ভোলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালানো হবে এবং অসাধু ওই মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/মচপ)
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |