AmaderBarisal.com Logo

আমতলীতে স্কুলের ওয়াসব্লকে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঁঞ্চি ধসে পড়ল ওয়াসব্লক


আমাদেরবরিশাল.কম

২৭ জুলাই ২০২০ সোমবার ৩:৪০:০৬ অপরাহ্ন

জাকির হোসেন, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঁঞ্চি (টুনি) ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ওয়াস ব্লক ধসে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারনে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয়রা রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী করেছে।

জানাগেছে, উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহবান করে।৭ লক্ষ
টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ঠিকাদার
নুরজামাল। ব্লক নির্মানের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়।কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাঁধা
উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন।তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি।তৎকালিন উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সাথে আতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঁঞ্চি (টুনি) ব্যবহার করে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে।২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়।

ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেয়নি এমন দাবী প্রধান শিক্ষকের। ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় লেন্টিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে।ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

শনিবার ওই ওয়াসব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজের শুরু করলেই মুহুর্তের মধ্যে ওয়াসব্লকের লেন্টিন ও দেয়াল ধসে পড়ে। এরপরই লেন্টিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি।

তাৎক্ষনিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন।প্রধান শিক্ষক রড়ের পরিবর্তে রাশের কঞ্চি দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান।রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াসব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির লেন্টিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে,ওয়াস ব্লকের ভিতরে লেন্টিন ও দেয়াল ধসে পড়া
নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।লেন্টিনের মধ্যে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঁঞ্চি দেখা যায়।

স্থানীয় মুরাদ খান,দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খাঁন বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল রডের
পরিবর্তে বাঁশের কঁঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে।ঠিকাদার নুরজামালের বিচার
দাবী করছি।
রাজ মিস্ত্রি মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করা মাত্রই ওয়াস ব্লকের
লেন্টিন ও ওয়াল ধসে পড়েছে।পরে দেখতে পাই লেন্টিনের মধ্যে রাশের কাঞ্চি। তিনি আরো বলেন,ধারনা করা হচ্ছে সমুদয় ওয়াসব্লকে রডের পরিবর্তে বাশের কাঞ্চি ব্যবহার করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল ওয়াস
ব্লকের কাজের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন।ওই সময় আমি নিষেধ করলে আমার সাথে খারাপ আচরন করেন।আমি তার কাজের কোন প্রত্যায়ন দেয়নি। এখন দেখছি রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের কথা
অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ফাসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে আমি
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করেছি।ঠিকাদার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর
আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।