Current Bangladesh Time
সোমবার অক্টোবর ২৫, ২০২১ ৬:৩৪ অপরাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » জাতীয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংবাদ শিরোনাম » মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন
১০ জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার ৯:১০:১৬ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন


বিএফআরআই উদ্ভাবিত চতুর্থ প্রজন্মের নতুন জাতের ‘সুবর্ণ রুই’ আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবার জেনেটিক গবেষনায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

২০২০ সালে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ এক যুগ গবেষনার মাধ্যমে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) উদ্ভাবিত চতুর্থ প্রজন্মের নতুন জাতের ‘সুবর্ণ রুই’ আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিএফআরআই সদর দপ্তরের স্বাদু পানি কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চ্যূয়ালী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে অবমুক্তির ঘোষণা দেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ।

বিএফআরআই’র মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, বিএফআরআই’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জোনায়রা রশিদ।

অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তর ও হ্যাচারী মালিকদের হাতে ‘সুবর্ণ রুই’ মাছের পোনা ও ব্রুড মাছ হস্তান্তর করা হয়।

রুই মাছের নতুন ওই জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, স্থানীয় জাতের চেয়ে ২০.১২% অধিক উৎপাদনশীল, খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়। উন্নত জাতের নতুন উদ্ভাবিত রুই মাছ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হলে দেশে প্রায় আট টন মাছ অধিক উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জানান, স্বাদুপানির অন্যতম প্রধান মৎস্য প্রজাতি হচ্ছে রুই। বাংলাদেশে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই সবচেয়ে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছ। দেশে উৎপাদিত মাছের মধ্যে রুই মাছের উৎপাদন প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন।

রুই মাছের চাহিদা ও উৎপাদনের কথা মাথায় রেখে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। এই জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, স্থানীয় জাতের চেয়ে ২০.১২% অধিক উৎপাদনশীল, খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের নতুন জাতটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সুবর্ণ রুই’। এ মাছটি চাষী, হ্যাচারী মালিক ও উদ্যোক্তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। এতে সামগ্রিকভাবে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, বর্তমানে মৎস্যচাষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে হ্যাচারী উৎপাদিত পোনার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু, হ্যাচারীতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের কৗলিতাত্তি¡ক অব²য় ও অন্ত:প্রজননজনিত সমস্যা মৎস্যচাষ উন্নয়নে অন্যতম একটি অন্তরায়।

এই সমস্যা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটে কৌলিতাত্তি¡ক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের নতুন এই উন্নত জাত উদ্ভাবন হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও হালদা নদীর প্রাকৃতিক উৎসের রুই মাছ ব্যবহার করা হয়েছে। এ মাছের গায়ের রং লালচে হওয়ায় দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও অন্ত:প্রজনন সমস্যামুক্ত। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ জাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এমন সুখবর দিয়ে জানান, স্বাদুপানির অন্যতম প্রধান মৎস্য প্রজাতি হচ্ছে রুই। বাংলাদেশে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই সবচেয়ে বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পন্ন মাছ। বর্তমানে মৎস্য চাষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে হ্যাচারী উৎপাদিত পোনার উপর নির্ভরশীল। দুভার্গ্যজনক হলেও সত্য যে, হ্যাচারীতে উৎপাদিত রুই মাছের পোনার কৌলিতাত্ত্বিক অবক্ষয় (genetic deterioration) ও অন্ত:প্রজননজনিত সমস্যা (inbreeding depression) মৎস্য চাষ উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটে কৌলিতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের নতুন উন্নত জাত উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও হালদা নদীর প্রাকৃতিক উৎসের রুই মাছ সংগ্রহ করে ধারাবাহিক গবেষণায় ২০২০ সালে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্ম উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়।

নতুন জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো- স্থানীয় জাতের তুলনায় চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’ ২০.১২% অধিক উৎপাদনশীল। এ মাছের গায়ের রঙ লালচে হওয়ায় দেখতে খুবই আকর্ষণীয় এবং অন্ত:প্রজনন সমস্যামুক্ত।

জাত উন্নয়নের কৌশল প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ভিন্ন ভিন্ন নদী যেমন – হালদা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস থেকে সংগৃহীত স্থানীয় জাতের রুই মাছের মধ্যে দ্বৈত এ্যালিল ক্রসিং (di-allele crossing) এর মাধ্যমে ৯টি গ্রুপ থেকে প্রথমে বেইজ পপুলেশন (base population) তৈরী করা হয়। অত:পর বেইজ পপুলেশন থেকে সিলেকটিভ ব্রিডিং (mass selection) এর মাধ্যমে ২০০৯ সালে রুই মাছের উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের (F1) মাছ উদ্ভাবন করা হয়েছে – যা বেইজ পপুলেশন থেকে ৭.৫% অধিক উৎপাদনশীল। পরবর্তীতে সিলেকটিভ ব্রিডিং (family selection) এর মাধ্যমে রুই মাছের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের যথাক্রমে ১২.৩৮% ও ১৬.৮৩% অধিক উৎপাদনশীলজাত উদ্ভাবন করা হয়। অত:পর ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের নতুন রুই মাছের জাত তৈরী করা সম্ভব হয়েছে- যা স্থানীয় জাতের চেয়ে ২০.১২% অধিক উৎপাদনশীল।

গবেষণাকালে ডিএনএ (Polymorphic DNA) মার্কার ব্যবহার করে চতুর্থ প্রজন্মের জাতের তূলনামুলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, নতুন এই জাতের কৌলিতাত্বিক ভিন্নতা (genetic variation) রয়েছে অর্থাৎ Polymorphic লোকাস এবং জিন ডাইভার্সিটি স্থানীয় জাত অপেক্ষা অধিক।

এতে প্রমাণিত হয় যে, চতুর্থ প্রজন্মের জাতের কৌলিতাত্ত্বিক অবদান (genetic contribution) স্থানীয় জাত অপেক্ষা অধিক যা প্রজাতির বিশুদ্ধতা (genetic purity) বজায় রাখার পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থ প্রজন্মের সুবর্ণ রুই, নদীর উৎস থেকে প্রাপ্ত রুই এবং হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনা থেকে রুই মাছের কৌলিতাত্ত্বিক ভিন্নতা রয়েছে যথাক্রমে লোকাস ৭১.৪৩%, ৬৬.৬৭% ও ৫৭.১৪%।

বিএফআরআই মহাপরিচালক জানান, অধিক উৎপাদনশীল ও অন্ত:প্রজনন সমস্যামুক্ত উন্নতজাতের চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’ মাছ স্বাদুপানি ও আধা-লবণাক্ত পানির পুকুর, বিল, বাওড় এবং হাওরে চাষ করা যাবে। এতে সামগ্রিকভাবে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছ অধিক উৎপাদিত হবে – যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। তাছাড়া, উন্নত এ জাতের রেণু পোনা হ্যাচারী থেকে সংগ্রহ করে নার্সারী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকেই লাভবান হতে পারবে।

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ আরো জানান, ‘সুবর্ণ রুই’ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথমে এর জার্মপ্লাজম বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তর ও বেসরকারী পর্যায়ের নির্বাচিত ২০টি হ্যাচারীতে ‘সুবর্ণ রুই’ এর জার্মপ্লাজম (রেণু/পোনা) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

হ্যাচারীতে এসব রেণু/পোনা লালন-পালন করে ‘ব্রুড মাছ’ তৈরী করা হবে এবং পোনা উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। উৎপাদিত পোনা পরবর্তীতে চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত হবে। ফলে দেশে মাছের সামগ্রিক ফলন বৃদ্ধি পাবে।

‘সুবর্ণ রুই’ মাছের পোনা সরাসরি ইনস্টিটিউট হতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধির পুকুরে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। তাঁদের পুকুরের উৎপাদন দেখে অন্যরাও সুবর্ণ রুই মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন এবং ‘সুবর্ণ রুই’ দ্রুত মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হল লকডাউন
২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনায় আরও ১৯৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৭৮০
টিকা গ্রহণের বয়স ১৮ করার সিদ্ধান্ত, শিগগিরই ঘোষণা
করোনায় একদিনে ১৬৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৩৬৪
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com