উপকূলের ঘূর্নিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় ঈদ আনন্দ ম্লান অচিন্ত্য মজুমদার
ভোলা: মনপুরা উপজেলার ঘূর্নিঝড় বিধ্বস্ত এলাকার মানুষের এবছর ঈদ নেই। পরিবারের অভাব আর দারিদ্রতা উপর এবারের ঘূর্নিঝড় যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই সকল পরিবারগুলোর অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে। তারা এখন বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর আবার নতুন করে তৈরীতে ব্যস্ত। ফলে এসব পরিবার গুলোরমধ্যে ঈদের আনন্দ নেই।
সরেজমিনে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর রাতে ঘূর্ণিঝড়ে উপকুলীয় চরাঞ্চলের প্রায় ৮ শতাধিক বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে দুমড়ে-মুছড়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সেদিন সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে বহু জেলে। আবার অনেকে ঘরের কর্তাকে হারিয়ে পথে বসেছে। তাই এবারের ঈদ যেন তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে।
কথা হয় ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলে মান্নানের মা রহিমা বেগম সাথে। তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর রাতেই ফেরার কথা ছিলে ছেলে মান্নানের। মায়ের হাতের বানানো পিঠা খেতে চেয়েছিল ছেলে মান্নান। কিন্তু ছেলে আর রাতে ফিরে এলোনা। তিনি আরো বলেন, ঈদ আইলে আমার পোলাডায় কত্ত খুশি অইতো। মায়ের লগে ঈদ করতো।
ঢাল চরের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত পরিবারের সদস্য রহিম মাঝি বলেন, এই বছর ঝড়ে আমগো সব শেষ। ১৫ দিন ধইরা থাওনের যায়গা ঠিক করতাছি। কোন কাম করতে পারিনাই। কাম না করলে কেউতো আমগো এমনে ট্যাকা দিবনা। পেডের ভাত যোগান কষ্ট হইয়া গেছে আমগো আবার ঈদ।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে মান্নান মাঝি জানান, কামাই রোজগার নাই, দাদনদারগো ট্যাকা দিতেই তিন মসকিল। আবার এই সনে (বছর) ঝড়ে আমগো হাত-পাও ভাইঙ্গা দিছে। হেরলাই পোলাইগোরে বুইঝদামই দেই নয় ঈদ কারে কয়। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্বলহীন দরিদ্র এসব মানুষগুলোর সাথে আলাপ করতে গেলে এমন অসংখ্য কষ্ট ও অভাবের কথা তাদের মুখ থেকে শুনা যায়। কেউ আবার বলেন, আমাগো কি ইচ্ছে করে না বেবাকের (সকলের) মতন পোলাইনেরে লইয়া ঈদে করি।
সম্পাদনা: ডিভিশনাল ডেস্ক |