Current Bangladesh Time
শুক্রবার আগস্ট ১৮, ২০১৭ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
Barisal News
Latest News
প্রচ্ছদ » কলাপাড়া, পটুয়াখালী, সংবাদ শিরোনাম » কুয়াকাটায় পর্যটন জোনের মাস্টার প্লান ব্যাহতের আশঙ্কা
৩০ নভেম্বর ২০১২ শুক্রবার ২:০২:৫৩ অপরাহ্ন
Print this E-mail this

খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ

কুয়াকাটায় পর্যটন জোনের মাস্টার প্লান ব্যাহতের আশঙ্কা
মেজবাহউদ্দিন মাননু


পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা - ফাইল ফটোকলাপাড়া :: কবুলিয়তের শর্ত ভঙ্গ করে বন্দোবস্ত পাওয়া খাস জমি হস্তান্তর এবং জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অভিযোগে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এলাকার খাসজমি বন্দোবস্তের সকল রেকর্ডপত্র যাচাইযের জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কার্যক্রম থমকে আছে। নির্দেশনার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রমে কোন গতি নেই।

ফলে পর্যটন এলাকার খাসজমি শণাক্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ভূমি দস্যুরা তাদের দখল করা জমির ধরন পরিবর্তন করে ফেলছে । বেহাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে হাজার কোটি টাকার সরকারি কৃষি খাস সম্পত্তি ।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরপরই কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর ও চর চাপলী চারটি মৌজাকে নিয়ে কুয়াকাটা পর্যটন জোন গঠনের মাষ্টার প্লান প্রণয়নের কাজ শুরু করে। ভবিষ্যতে সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে বিমানবন্দর, সরকারি হাসপাতাল, রেস্ট হাউস, হোটেল-মোটেল, বিনোদন পার্ক, থিম পার্ক, ফায়ার ব্রিগেডসহ অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপনের লক্ষ্যে এই চারটি মৌজার খাস জমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এজন্য ২০১১ সালে ৭ এপ্রিল ভূমি সচিব মোঃ মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপরোক্ত চারটি মৌজার খাসজমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধের আদেশ দেন। একই আদেশে ইতোপূর্বে বন্দোবস্ত দেয়া কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নথিসহ সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারসমুহ যাচাই করে বেআইনিভাবে প্রদত্ত বন্দোবস্তসমুহ এবং বন্দোবস্ত গ্রহিতা কর্তৃক কবুলিয়তের শর্ত ভঙ্গ করলে বন্দোবস্ত কেস বাতিল করা। ভূয়া বন্দোবস্তসমুহ চিহ্নিত করে ওই বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে ওই সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা।

সরকারি প্রয়োজন ব্যতীত  কোন ব্যক্তি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের প্রস্তাব করা যাবেনা। অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি চিহ্নিতপূর্বক তা উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইন ১৯৫০ এর ৮৭ ধারামতে সমুদ্র বা নদী তীরস্থ পয়স্থি ভূমি সমুহ দখলপূর্বক সরকারি নিয়ন্ত্রনে আনা।  এইসব নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দেয়ার  একমাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোসহ পরবর্তী গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিমাসে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে ভূমি সচিব এমন নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনার আলোকে পটুয়াখালীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ ২০১১ সালের ৮ মে (স্মারক নং-এসএ/পটুয়া/২২-বিবিধ-২(২)২০০৭-১০৩১) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত রেফারেন্স সূত্রের বরাতে এসংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন।

যার আহ্বায়ক করা হয় পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব)। এছাড়া রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পটুয়াখালী, কলাপাড়ার ভূমি অফিসের কানুনগো ও পটুয়াখালী কালেক্টরেট এর এসএ শাখার সার্ভেয়ারকে সদস্য করা হয়। কলাপাড়ার সহকারী কমিশারকে (ভূমি) সদস্য সচিব করা হয়। জেলা প্রশাসক ওই চিঠিতে সুনির্দিষ্ট করে গুরত্বপূর্ণ চিহ্নিত করে চারটি মৌজার কৃষি খাসজমি উদ্ধারের কবুলিয়তের শর্ত ভঙ্গকারী কেস শণাক্ত করা এবং জাল কাগজে সৃজিত কেস শণাক্ত করে বাতিলে সুপারিশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশনার আলোকে আজ পর্যন্ত একটি কেসও শণাক্ত করে বাতিলের সুপারিশ করা হয়নি। বলতে গেলে কার্যক্রম থমকে আছে। তবে কলাপাড়া উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আউয়াল ভূমি মন্ত্রণালয় প্রেরিত চিঠি পাওয়ার পরে পর্যটন এলাকার চারটি মৌজায় ১৯৬৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট ৮৮৮টি বন্দোবস্ত কেস সৃজিত হয়েছে এমন সংক্ষেপিত তালিকা করেছেন।

কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শাহআলম সরদার আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘ দীর্ঘদিন থেকে বন্দোবস্ত দেয়া ওইসব নথিপত্র যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। পর্যটন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজও করতে হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘শীঘ্রই অবৈধভাবে দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারের জন্য এই চক্রকে চিহ্নিত করে প্রথমে কবুলিয়তের শর্ত ভঙ্গকারী কেসসমুহ বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

তবে সরকারের এই উদ্যোগের খবরের পরপরই বন্দোবস্ত পাওয়া কৃষি খাসজমি অবৈধভাবে হস্তান্তরিত হওয়ার পর তার ধরন পরিবর্তন করে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ
ঈদে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস ২৭ আগস্ট থেকে
পটুয়াখালীতে যুবলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে মহা ভোগান্তি
১৬০ টাকায় নান্নু গাজীর হজ্বযাত্রা!
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াইফাই চালু
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০১৪

প্রকাশক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ জিয়াউল হক
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: [email protected]