জাতির জনক বিক্রী হচ্ছে পুরনো খবরের কাগজ মুড়ে দিপু হাফিজুর রহমান
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভেসে যাচ্ছে দেশ। এরকম সময়ে সম্প্রতি গিয়েছিলাম ৩২ নম্বর বাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে, নতুন প্রজন্মের কয়েকটি শিশুকে মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় করাতে।ফেরার পথে সাথে থাকা শিশুদের জন্য, নিজের জন্য আর কিছু বিদেশী বন্ধুদের জন্য স্বারক এবং বই কিনলাম। তার মধ্যে অন্যতম ছিল বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত ডায়েরী এবং জাতির জনক বই-ও। বই-সহ অন্যান্য স্বারকগুলো বিরক্ত মুখ নিয়ে কাউন্টারে বসে থাকা এক আন্টি হাতে তুলে দিল।
বললাম, “এভাবে-ই দিবেন !” তিনি আরো বিরক্ত মুখে বইগুলোকে পুরনো খবরের কাগজে মুড়তে থাকলেন।
আমি বিনয়ের সাথে জানতে চাইলাম “কোন ব্যগ-ফ্যাগ নেই ?’’ উত্তর এলো “না”।
“শেষ হয়ে গেছে ?’’ যথা সম্ভব হাসি মুখে বলার চেষ্টা করলাম।
“এরকম কিছু আমাদের করা নেই” বলেই তিনি বিক্রীত টাকার হিসেব লিখতে ব্যস্ত হয়ে পরলেন।
আমি নিষ্পাপ হতবাক! বলতে চাইলাম, একটু তথ্য বা কিছু ছবি দিয়ে অন্তত কাগজের একটা ব্যাগ তৈরী করতে তো খুব বেশী খরচ-ও না। তাছাড়া মূল্য হিসেবে টাকাও খুব একটা কম রাখা হচ্ছে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যাদুঘর থেকে এভাবে পুরানো খবরের কাগজে মুড়ে বই নিয়ে বের হলে বিষয়টা ঠিক সম্মানের-ও লাগে না…… আন্টির ছোট-খাটো উত্তর “আপনার ভাগ্য ভালো, পেপার ছিল”।
আমার ভাগ্য নিয়ে গর্ব বোধের পরিবর্তে লজ্জায় আমার কান উষ্ণ হয়ে উঠছিল। কিছুটা অপমান বোধও করছিলাম। কারন – সাথে থাকা শিশুদের আমি বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখাতে দেখাতে জাতির জনক ও দেশ নিয়ে গর্ব বোধ করার যে বানীগুলো দিচ্ছিলাম এবং ওদের ছোট্ট চোখেমুখে যে প্রভাবিত হওয়ার লক্ষন উপলব্ধি করছিলাম তার সাথে এই ঘটনার বড্ড অমিল।
আমার হাতে পুরনো খবরের কাগজে মোড়া জাতির জনক। নিয়েছি দেশের স্থপতির বাড়িতে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষক, ধারক-বাহক কেন্দ্র থেকে, একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে। সাথের শিশুরা না থাকলে নির্ঘাত সবকিছু ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে আসতাম, তাতে বিরক্ত আন্টির সাথে যতই কলপাড়ের কিংবা ক্ষমতাপাড়ের আপাদের মতো ঝগড়া করতে হতো… তাও করতাম!
আরো কিছ স্বারক এবং বই কেনার ইচ্ছা আছে, কিন্ত ইচ্ছা নেই আবার দেখি জাতির জনক বিক্রী হচ্ছে পুরনো খবরের কাগজ মুড়ে…. যখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভেসে যাচ্ছে দেশ….তাই যাওয়া হচ্ছে না।
কেউ কি বলতে পারবেন, ওখানে কোন সুন্দর, যাদুঘরের নাম-চিহ্ন অংকিত, ৩২নম্বর বাড়িটির ইতিহাস সম্বলিত র্যাপিং পেপার বা ব্যাগ তৈরী করা হয়েছে কি না!? দয়া করে জানা থাকলে জানাবেন, আমার আরো কিছু স্বারক এবং বই কেনা প্রয়োজন, তবে প্রয়োজন নেই আবার দেখি, জাতির জনক বিক্রী হচ্ছে পুরনো খবরের কাগজ মুড়ে….
–
দিপু হাফিজুর রহমান
উন্নয়ন কর্মী
|