AmaderBarisal.com Logo

বামনায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪

মনোতোষ হাওলাদার
আমাদেরবরিশাল.কম

৭ মার্চ ২০১৩ বৃহস্পতিবার ১:২৬:১৯ অপরাহ্ন

bamna-mondirবামনা :: বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের কলিঙ্গ খরাতীর বাড়ির জড়াজীর্ন রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ৬ মার্চ বুধবার সন্ধ্যার পরে অগ্নিসংযোগও ভাংচুর করে একদল দুর্বৃত্ত। এঘটনায় বুধবার রাতে স্থানীয় চৌকিদার উত্তম কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বামনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরে বামনা থানাপুলিশ মন্দিরে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার সন্ধেহে ৪ জনকে রাতেই গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাটাজোড় গ্রামের মো. মনির হোসেন (২৬) ও মো. হাসিব সিকদার (২০) এবং পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামের ফিরোজ দফাদার(২৭) ও মো. আবু বক্কর সিদ্দিকি(২৭)।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনা উপজেলার বাটাজোড় গ্রামের কলিঙ্গ খরাতী বাড়ির পারিবারিক জড়াজীর্ণ রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বুধবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়েসাতটার দিকে বাড়ির লোকজনের অগোচরে অজ্ঞাতনামা কতিপয় দুর্বৃত্ত্ব মন্দিরে ঢুকে রাধাকৃষ্ণের প্রতিমা ভাংচুর করে। এসময় দুর্বৃত্ত্বরা ধর্মীয় গ্রহন্থাদীতে অগ্নিসংযোগ করে ও মন্দিরের ভিতরে থাকা পিতলের আসবাপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। কলিঙ্গ খরাতীর স্ত্রী বসতঘরের পাশের মন্দিরের ভিতরে আগুন জ্বলতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

গৃহকর্তা কলিঙ্গ খরাতী ঘটনার সময় বাড়ির পার্শ্ববর্তী বুকাবুনিয়া বাজারে অবস্থান করছিলেন। তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবিহিত করেণ। মন্দিরে অগ্নি সংযোগের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

ওই এলাকার গ্রাম্য চৌকিদার উত্তম কুমার বাদী হয়ে রাতেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতহানার অভিযোগ এনে বামনা থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

বুধবার রাতে ঘটনা স্থলে সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ভিতরে পুড়ে যাওয়া গ্রন্থাদী, ভাংচুরকৃত প্রতিমা ও পুড়ে যাওয়া অন্যান্য মালামাল তছনচ অবস্থায় দেখাযায়।

এসময় গৃহকর্তা কলিঙ্গ খরাতী জানান, তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বাজারে পরিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মন্দিরে অগ্নিসংযোগের বিষটি জানতে পেরে বাড়িতে চলে আসেন। তিনি বলেন, আমার সাথে এলাকার কারো সাথে কোন রকমের শত্র“তা নেই। এলাকায় হিন্দু মুসলমান সকলেই মিলেমিশে পূর্ব পুরুষ থেকে বসবাস করে আসছি। কে বা কাহারা এঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার জানানাই।

বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান সবুজ আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, একটি মহল রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বামনা উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ কান্ত কর্মকার মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, এধরণের ঘটনা বামনার ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। আমরা চাই সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকলে মিলে বসবাস করতে।

বামনা থানার অফিসার-ইন-চার্জ মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিঃশ্চিত করে আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, আমি শুনতে পেরেছি ১৯৭১ সালেও এ উপজেলার কোথাও কোন সংখ্যালঘুদের উপর কোন রকম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অনেক সংখ্যালঘু পরিবার এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু একটি কু-চক্রী মহল এলাকার সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এব্যাপারে সন্ধেহভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।