AmaderBarisal.com Logo

প্রতারণা করে খাস জমি বিক্রি

কুয়াকাটায় কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াতচক্র


আমাদেরবরিশাল.কম

২৮ মার্চ ২০১৩ বৃহস্পতিবার ১০:১৫:৩৯ অপরাহ্ন

কুয়াকাটাকলাপাড়া :: ভূয়া, লুজ খতিয়ান খুলে ওই জমি বিক্রি করে একটি চক্র কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়েছে। অথচ এসব লগ্নিকারকরা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ সরকার ওই লুজ খতিয়ান খুলে হাতিয়ে নেয়া সরকারি খাস জমি উদ্ধারে মাঠে নেমেছে।

নবগঠিত পৌরসভাসহ লতাচাপলী মৌজায় সরকারী হিসাবে আড়াই হাজার খতিয়ান রয়েছে। এর মধ্যে ১১৫৭টি রয়েছে প্রিন্টেড খতিয়ান। যার মধ্যে প্রায় ২০০ রয়েছে লুজ খতিয়ান। আর এই দুই শ’ খতিয়ানের প্রায় সব ক’টি জালিয়াতির মাধ্যমে করা রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ১১৫৮ থেকে ১৩৫৮ পর্যন্ত এই খতিয়ানের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সরকারি খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার অবস্থান লতাচাপলী মৌজায়। আর এই মৌজা নিয়ে গঠিত ইউনিয়নের নাম লতাচাপলী। বর্তমানে কুয়াকাটার ব্যাপক পরিচিতি। শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বের সমধিক পরিচিতি রয়েছে। কুয়াকাটাকে সরকার পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যার প্রাথমিক ধাপ হিসাবে পৌরসভা গঠন করা হয়েছে, দেয়া হয়েছে প্রশাসক নিয়োগ। চলছে অন্যান্য কার্যক্রম। আর এই সুযোগে হুহু করে কুয়াকাটার ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জমির ওপরে নজর পড়েছে আবাসন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের। বিশেষ করে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এখন এক শতক জমির মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

ভূমি অফিসের একশ্রেণীর অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চিহিৃত চক্র লুজ খতিয়ান খুলে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাস জমি হাতিয়ে নিয়েছে। যার মূল্য বর্তমানে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এসব খাস জমি বেচাকেনার দালালি করে লতাচাপলী ও কুয়াকাটা তথা কলাপাড়া উপজেলার প্রায় দুই শ’ দালাল কোটিপতি বনে গেছে। এর মধ্যে লতাচাপালী ও ধুলাসার ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় দেড় শ’ জন। এদের রয়েছে অন্তত ৫০ সদস্যের একটি দালাল চক্র। এরা মূলতঃ কাগজপত্র তৈরি থেকে সবকিছু ঠিকঠাক করে দেয়। এসব চিহিৃত চক্রের আর কোন কাজ না থাকলেও প্রতিদিন অসংখ্যবার ভূমি অফিসে যাতায়াত রয়েছে।

বিগত চারটি বছর ধরে এই চক্রটির দৌরাত্মের কারণে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পর্যন্ত অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েছে। এরা অফিসের রেকর্ড পর্যন্ত নষ্ট কিংবা গায়েব করে দেয়ার এন্তার অভিযোগ রয়েছে। কলাপাড়ায় বাড়ি এমন কয়েকজন কর্মচারী যারা ভূমি অফিসে বিগত দিনে চাকরি করেছে কিংবা বর্তমানে অবসরে গেছেন যারা এই চক্রের কয়েক সদস্য। চাকরি না করলেও এরা এখনও বীরদর্পে কলাপাড়া ভূমি অফিসের গোপনীয় কাগজপত্র যখন তখন উল্টেপাল্টে দেখেন। এমনকি নোট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরা আবার কেউ কেউ কুয়াকাটার হাউজিং কোম্পানিতে বর্তমানে কর্মচারী হিসাবে চাকরি করছে। এরাই গুরুত্বপূর্ণ চারটি মৌজার ত্রুটিপূর্ণ মালিকানাধীন জমি দখলের কাজে সক্রিয় রয়েছে। আর সরকারের খাস জমি হাতিয়ে নেয়ার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১১ সালের প্রথমদিকে সরকারিভাবে লতাচাপলী, চরচাপলী, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতি মৌজার খাস জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এই নির্দেশনায় বেনামে ভূমিহীন সাজিয়ে বন্দোবস্ত কেস সৃজন করে খাস জমি হাতিয়ে নেয়ার কাজ থমকে গেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে লতাচাপলী ইউনিয়নের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ যোগসাজশে অন্তত ১০০ একর খাস জমি ভূমিহীনদের নাম দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়ার নাম করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতারা সরকারের অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত করেছে। এর মধ্যে ১৩৪৬ খতিয়ানের চার একর ৭৭ শতক খাস জমি হাতিয়ে নেয়ার খবরটি এখন সর্বত্র আলোচিত রয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ- জেলা, উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে পর্যটন এলাকার হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পতি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নয়তো ১৩৪৬ খতিয়ানটি এসপি নম্বর ৫০-কে ৫৩/৫৪ সেটেলমেন্ট কেসের মাধ্যমে মিস কেস ৭১ কে-৬০/৬১ এর মাধ্যমে মালেক ফরাজি গংদের নামে মালিকানা দেখানো হয়। অস্পষ্ট, কাটাছেড়া লেখা রয়েছে বইতে। এই জমির উপরে একটি স্থাপনা নির্মাণ কাজ প্রশাসনের নির্দেশনায় কিছুদিন বন্ধ থাকে।

২০০৪ সালের ৯ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএ-৩-১১/পটু-২০০৩/১৯২৭ স্মারকে এবং উপজেলা ভূমি অফিসের ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবরের ৯৬৬ স্মারকে খতিয়ানটির মালিকানা বাতিল করা হয়। ঘোষণা করা হয় সরকারি খাস জমি। অতি সম্প্রতি এই জমির ভাগাভাগি নিয়ে কলাপাড়া উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার নামে এই জমি বন্দোবস্ত দেখানো হয়েছে তার (মালেক ফরাজী) ৫৩/৫৪ সালে বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। আজ পর্যন্ত এই জমির কোন খাজনা দেয়া হয় নি। জেলা কিংবা উপজেলা ভূমি প্রশাসন জেরেশোরে ব্যবস্থা নিলে ১৩৪৬ এর মতো ১২৭০সহ একাধিক জাল খতিয়ানের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এখনও প্লেন ল্যান্ড রয়েছে এখানকার অধিকাংশ জমি। পরবর্তীতে অবকাঠামো গড়ে তুললে জটিলতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য সবার। আর এসব জমি উদ্ধার করে নবগঠিত পৌরসভা ভবনসহ বিভিন্ন অফিস স্থাপন করতে সরকারের প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়তে হবে না। তাই এখনই সরকারের খাস জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি প্রয়োজন।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : [email protected]
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।