সাংবাদিকদের সাথে ওমরের অশোভন আচরণ
ঝালকাঠি :: ৩০ মার্চ শনিবার। ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ১১টা ৩০ মিনিট। মঞ্চ থেকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা আসছে, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের সম্মেলনের প্রধান অতিথি সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর-উত্তম আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের মাঝে উপস্থিত হবেন। ঠিক দশ মিনিট পর মঞ্চের পাশে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে মঞ্চে আসেন প্রধান অতিথি শাহজাহান ওমর। এসময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ঝালকাঠির কয়েকজন সংবাদকর্মী ছবি তোলার জন্য মঞ্চে ওঠার চেষ্টাকালে রোষানলে পড়েন শাহজাহান ওমরের। সাংবাদিকদের দেখেই ক্ষেপে উঠেন তিনি। রাগান্নিত কণ্ঠে মঞ্চ থেকে সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন। মঞ্চ থেকে নেমে সাংবাদিকরা সামনে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টাকালে আবারো অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা শাহজাহান ওমরের সভা বর্জন করে ঝালকাঠি চলে আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাংবাদিক জানান, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপি ও উপজেলা যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কাঁঠালিয়ার সদরসহ ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মিছিলসহকারে উপস্থিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সম্মেলনস্থল উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনের মাঠের প্যান্ডেলে নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। কানায় কানায় পরিপূর্ন সম্মেলনস্থান দেখে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি ব্যারিষ্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর মঞ্চে উঠে নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় ঝালকাঠির কয়েকজন সাংবাদিক ছবি তোলার জন্য মঞ্চে ওঠার চেষ্টাকালে তোপের মুখে পড়েন শাহজাহান ওমরের। তিনি অগ্নিমূর্তি ধারণ করে রাগান্নিত কণ্ঠে সাংবাদিকদের মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা নেমে এলেও শান্ত হননি এই বিএনপিনেতা। মঞ্চে অতিথিরা বসার পর আবারও সাংবাদিকরা অতিথিদের ছবি তুলতে গেলে তাদের সঙ্গে আবারো দুর্ব্যবহার করে ছবি তুলতে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সম্মেলন মঞ্চে তাদের অতিথি হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যানারও ঝুলানো হয়। টেলিভিশনে সংবাদ কাভারেজের জন্য জেলা থেকে সাংবাদিকরা সেখানে নিমন্ত্রণ পেয়ে ছুটে যান। কিন্তু কেন্দ্রীয় এই দুইনেতা সম্মেলনে না আসায় উপস্থিত নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়েন। সাংবাদিকরা ছবি তোলার সময় দুই দফায় ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এসময় তিনি কোন ছবি না তুলতে সাবধান করে দেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, ‘কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের সম্মেলনে স্থানীয় এবং ঝালকাঠির সকল সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়। সে অনুযায়ী সাংবাদিকরা সম্মেলনস্থলে যায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নয়, শাহজাহান ওমর ছবি তুলতে বারণ করেছেন। যে ঘটনা ঘটে গেছে আমরা সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
অভিযোগ রয়েছে, শাহজাহান ওমর প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে হামলা চালায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এসময় ঝালকাঠি ও বরিশালের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়। এ হামলাও তার নির্দেশে চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও ঝালকাঠির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ব্যারিষ্টার শাহজাহন ওমর সাংবাদিকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে থাকেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |