কালবৈশাখী ঝড়েই বিধ্বস্ত নবনির্মিত সাইক্লোন শেল্টার! মনির হোসেন কামাল
 সাধারণ বৈশাখী ঝড়েই ভেঙ্গে পড়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের সদ্য নির্মিত একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের একাংশ, ইনসেটে আশ্রয় কেন্দ্র (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরগুনা :: বরগুনায় সাধারণ বৈশাখী ঝড়েই ভেঙ্গে পড়েছে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের সদ্য নির্মিত একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের একাংশ। সামান্য এ ঝড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনের একাংশ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভবনটি নিয়ে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিবাবকসহ স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে।
স্থানীয় অধিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, শুরু থেকেই সাইক্লোন শেল্টারটির কাজ হয়েছে খুবই নিম্নমানের। যেখানে যে পরিমান রড দেয়ার কথা তার কিছুই দেয়া হয়নি। ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমানও প্রয়োজনের তুলনায় কম দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় একজন অধিবাসী মুরাদ খান জানান, ‘সকলের চোখের সামনে যাচ্ছেতাই কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদার ও তার শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বারবার বলা হয়েছে তাতে কিছুই হয়নি।’ বিশ্বব্যাংক থেকে একবার পরিদর্শনে এসে নিন্মমানের কাজের কারনে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান, ‘ভবনটির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এরমধ্যে আবহাওয়া খারাপ হলে আশেপাশের লোকজন তার টিনের ঘরে আশ্রয় নেয় তবুও ওই ভবনে কেউ ওঠেনা।’
সংশ্লিষ্ট বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, ‘সবেমাত্র শেষ হল ভবন নির্মাণের কাজ। এরই মধ্যে এর পলেস্তরা খসে পড়ছে। তিন তলার ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি।’ তিনি বলেন, ‘শীঘ্রই এই ভবনে তার বিদ্যালয়ের কার্য্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু নিন্মমানের কাজ হওয়ায় এবং মঙ্গলবারের বৈশাখী ঝড়ে ভবনটির একাংশ ভেঙ্গে পড়ায় এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সকল শিক্ষার্থী ও তাদের সকল অভিভাবক।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ইসিআরআরপি-২০০৭ প্রকল্পের অধীনে ২০১১ সালে ‘বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র’ নামের এই ভবনটির কাজ নেয় মেসার্স জেএন্ডসি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছিল দুই কোটি দুই লাখ ৩৩ হাজার পাঁচশত নয় টাকা। পরে এক কোটি ৮১ লাখ আট হাজার নয়শত টাকায় কাজ পান ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ২০১১ সালে মে মাসের ১ তারিখ কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার সব কাজ শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেদুর রহিম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ওই ভবনটির কিছু কিছু অংশে নিন্মমানের কাজ হওয়ায় তা ভেঙ্গে নতুন করে করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আগেই বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এসব অনিয়মের অভিযোগে ওই ঠিকাদারের কোন বিল ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |