নিরবে নিভৃতে কেটে গেল ‘নলছিটি গণহত্যা দিবস’ আবুল হাসান মৃধা
নলছিটি :: নিরবে নিভৃতে কেটে গেল ১৩ই মে নলছিটি গণহত্যা দিবস। একাত্তরের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা করে নিরস্ত্র নলছিটিবাসীর ওপর। মুর্হূতেই তছনছ হয়ে যায় নলছিটি।
৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখার অভিযোগে নলছিটির তৎকালীন ৯ জন বিশিষ্ট ধনাঢ্য ব্যাক্তিসহ অনেককেই গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে রাজাকার ও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। এ দিবসটি পালন উপলক্ষে কোন কর্মসূচী গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এমনকি কোন আলোচনা সভা বা দোয়া মোনাজাতেরও অয়োজন করা হয়নি নিহত শহীদদের স্বরণে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ১১ই মে তৎকালীন নলছিটি থানার ওসি পাকিস্তানী দোসর ও রাজকারদের পরামর্শে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হরিপদ রায়, স্যামা কান্ত রায়, কার্ত্তিক চন্দ্র ব্যানার্জী, কেস্ট মোহন নন্দি, সুকুমার বনিক, নেপাল কুড়ি, ভাষান্ত পোদ্দার ও দশরত কুন্ড, অনিল দে, কালিপদ বনিক, ক্ষিতিশ দত্তকে খবর দিয়ে থানায় ডেকে আনে। থানায় ২ দিন আটকে রেখে ১৩ই মে রাতে তাদের পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সকালে তাদের থানার খালের সামনে এনে রশি দিয়ে বেধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তামাক পট্টি খালের মাথায় (বর্তমান থানার খাল) নির্মম ভাবে গুলি চালায় পাকবাহিনী।
এবিষয়ে নলছিটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার চৌধুরী তাজুল ইসলাম জানান, ‘গণহত্যা দিবসটির কথা আমাদের মনে ছিলনা। উপজেলা কমান্ডার অসুস্থ থাকায় কেউ মনেও করিয়ে দেয়নি।’
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মোঃ আরেফিন আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘গণহত্যা দিবসটি আমার ‘নলেজে’ নাই। এটা নিয়ে কর্মসূচী নেয়ার দায়িত্ব উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের।’
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |