উপকূলের আবহাওয়া এখনও স্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন
পটুয়াখালী :: ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ মোকাবেলায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বাত্ত্বক প্রস্তুতি। ১৪ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার কোথাও কোথাও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আকাশে হালকা মেঘ থাকলেও বেশীর ভাগ সময়ই সূর্য্যর আলো থাকায় বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক। তবে সাগর উত্তাল রয়েছে, গোটা উপকূলের মানুষের মধ্যে ‘মহাসেন’ আতংক বিরাজ করছে।
এর আগে ২০০৭ সালে ‘সিডর’ ও ২০০৯ সালে ‘আইলা’ নামক দুটি ঘুর্নিঝড়ে পটুয়াখালী জেলা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। ওই সময় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ হারিয়েছেন তাদের বসতভিটা। তারা সেই ক্ষয়ক্ষতিই এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ আবারো সেই দু:স্বপ্ন ফিরিয়ে আনতে পারে এ
কলাপাড়া রাডার ষ্টেশনের ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার প্রদিপ কুমার চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার দক্ষিনে গভীর সমুদ্রে ঘুণিঝড় মহাসেন এখন স্থীর অবস্থায় রয়েছে। তার গতিবিধি পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, দূর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বলা হয়েছে। জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রন কক্ষ খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যেই ৮টি উপজেলায় ১১০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আপদকালীন ৩৬০টি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৮টি মাটির কিল্লা প্রস্তুত, উপজেলা ভিত্তিক ৫০০ মেট্রিকটন চাল/গম, ১৬০ টন শুকনো বিস্কুট মজুদ রাখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ৪ নম্বর সংকেতের কারনে উপকূলীয় এলাকায় ২টি কালো পতাকা উড়ানো হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপি কর্মীরা দূর্গম এলাকার মানুষদের মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌর সভার প্রসাশক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, তাদের পক্ষ থেকে জনসাধারনের মাঝে যে যে প্রচারনা চালানো দরকার ইতিমধ্যে তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সমুদ্র সংলগ্ন বেড়িবাধের বাইরের সকল মানুষকে ভিতরে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার খবরে কুয়াকাটাসহ এর আশেপাশের এলাকার জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের আতংক দেখা দিয়েছে। সাগর সৈকত কুয়াকাটায় রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা লাল নিশান উড়িয়ে মাইকিং করে দূরবর্তী হুশিয়ারী সংকেত প্রচার করছে।
মহিপুর-আলিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, সাগরে মাছ ধরা রত ছোট-বড় ট্রলার উপকূলের তীরে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |