‘মহাসেন’ আতংকে বরগুনার ১২ লাখ মানুষ
বরগুনা :: ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ আঘাত হানার খবরে বরগুনার ১২ লাখ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশী আতংকে রয়েছে জেলার ২৮টি আবাসন ও ১৮২টি ব্যারাক হাউজের দরিদ্র মানুষগুলো। ঘুর্ণিঝড়ের খবর পেয়েও অনেকেই বাসস্থান ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের সতর্ক করতে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
বরগুনা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক হাফিজুর আহম্মেদ জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০০০ কিলোমিটার দুরে অবস্থান করছে মহাসেন। তিনি আরও বলেন, এটি উত্তর দিকে ধেয়ে আসছে। এ গতিতে আঘাত হানলে বরগুনার উপর দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। এছাড়া ৬ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় সরকারী ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় ২৮টি আবাসন ও ১৮২টি ব্যারাক হাউজ নির্মান করা হয়েছে। এতে পুনর্বাসন করা হয়েছে চার হাজার ৩৩৭টি গৃহহীন পরিবারকে। কিন্তু সবগুলো আবাসন ও ব্যারাক হাউজই নির্মিত হয়েছে নদীর তীরে ও চর ভরাট করে সম্পুর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। বন্যা বা জলোচ্ছাস দুরের কথা সামান্য জোয়ারেও অধিকাংশ আবাসন ও ব্যারাক হাউজ প্লাবিত হলে সেখানে বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে।
সিডর, আইলা বা নদী ভাঙ্গনের মত দুর্যোগ বার বার আঘাত হেনেছে বরগুনায়। আর এতে সম্পূর্ণভাবে গৃহহীন হয়ে পরেছে এখানকার প্রায় দেড় লাখ পবিরার। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার পরিবারকে পূনর্বাসন করা হয়েছে। বাকীদের কেউ কেউ নিজস্ব উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাই করতে পারলেও এখনও প্রায় এক লাখ পরিবার বাধেঁর বাইরে চরম উৎকন্ঠার নিয়ে জীবন যাপন করছেন। আবার যাদের পূনর্বাসন করা হয়েছে, আবাসনের নামে সেসব গৃহহীনদের ঠেলে দেয়া হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।
বরগুনার পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পের খাদিজা বেগম (৪৩) জানান, সিডরের পরে একাধিক বার একটি সাইক্লোন সেল্টার দাবী করেও পায়নি। তাই তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমাদের যা হয় হোক, লাগে টিনের চালে থাকমু, তারপরও কোন হানে যামু না।”
আব্বাস উদ্দীন (৪৮) নামে একজন বলেন, “মহাসেন এর কথা শুনে আমরা ভয়ে ভয়ে আছি, কোথায় যামু, কিভাবে থাকমু সে চিন্তা করতেছি।”
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সকল বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সেচ্ছাসেবক, মেডিকেল টিম, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলের সকলকে সতর্ক থাকার জন্য প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |