‘মহাসেন’ আতঙ্কে থমকে গেছে উপকূলের জনজীবন অচিন্ত্য মজুমদার
ভোলা :: ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ প্রবল গতিতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মহাসেনকে ঘিরে আতঙ্কে থমকে গেছে উপকূলের জনজীবন। বুধবার ভোলায় সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর ঘূর্নিঝড় মোকাবেলায় জরুরী সভা করেছে রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা। এছাড়াও শহরের সব জায়গায় মাইকিং করে সতর্ক করার পাশাপাশি পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাগর মোহনার চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরী, ঢালচর ও মনপুরার বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে শুরু হয়ে গেছে। মেঘনা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, ঝুঁকির মুখে পড়েছে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ। যেকোন মুহূর্তে এটি ভেঙে শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের আশংকায় উপকূলবর্তী মানুষ ঘরবাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
বুধবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছন্ন মনপুরা, কুকরী মুকরী ও ঢালচরে ৯৫ টন চাউল, বিস্কুট, শুকনো খাবার ও দেড়লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চর কুকরী-মুকরীর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের হাসেম মহাজন জানান, নদী উত্তাল থাকায় সেখানকার লোকজনদের সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের স্থানীয় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে আলম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন সিকদারের চরে কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় সেখান থেকে ইতিমধ্যে ৫শ’ লোক সরিয়ে মূল ভূখন্ডে আনা হয়েছে। আরো আনার কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, ঘূর্ণীঝড় মোকাবেলায় ঢালচর, চর কুকরী-মুকরীর ও চরপাতিলা জন্য ইতিমধ্যেই ৪৮মন চিড়া, ১০মন মুড়ি, ৮০মন গুড়সহ বিস্কুট মোমবাতি, দিয়াশালাই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যে কোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল জন প্রতিনিধিদের স্ব স্ব এলাকায় সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন দুলাল জানান, তজুমদ্দিন থেকে বিচ্ছিন্ন চর জহির উদ্দিন, চর মোজাম্মেল ও চর নাসরিন থেকে বেশ কিছু লোক মূল ভূখন্ডে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে চর মোজাম্মেল ও চর নাসরিনের কেউই আসতে রাজি হয়নি। তবে সেখানে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চলছে বলেও জানান তিনি।
জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকি আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানিয়েছেন, মনপুরায় সর্বোমোট ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্কুল ও কলেজের ভবনগুলোতে সবমিলে ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণীঝড়ে সবাইকে সর্তক করে মাইকিং করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, জেলা প্রশাসন দুযোর্গ মোকাবেলায় ২৫০টি আশ্রয় কেন্দ্র, নয় হাজার ১৩৫ জন সেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রেখেছে। ৯২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার অভিযানের জন্য নৌকা ও ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |