ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে আট শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত ৪ অচিন্ত্য মজুমদার
ভোলা :: ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে আট শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছ চাপা পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- লালমোহন উপজেলার ধলিগৌরনগর এলাকার আবুল কাশেম (৬৫), চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচরের রফিকুল ইসলাম (৬৫), চরপাকিলা গ্রামের নীপা (১০) ও চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের পারভেজ (৬)।
ভোলার উপকূলবর্তী এলাকায় বুধবার রাতভর দমকা হাওয়া ও ভারি বর্ষণের পর ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে থাকে। সকাল ১১টায় হঠাৎ করেই ঘূর্ণিঝড়টি জেলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় ১শ’ কি:মি: বেগে আঘাত হানে। এদিকে ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে পুরো জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
লালমোহন উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে ধলিগৌরনগর এলাকায় প্রবল বাতাসে একটি গাছ ভেঙে পড়লে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে এটি দেশে প্রথম মৃত্যু ঘটনা।
অপরদিকে চরফ্যাশনের চর কুকরী মুকরী ও চর পাতিলায় মুজিব নগর, হাজারিগঞ্জ, নীলকমল, চরমাদরাজ, জাহানপুর ইউনিয়নে অন্তত পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের পারভেজ (৬) নামে এক শিশু গাছচাপা পড়ে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর-ই আলম। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসন ৫০ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য ও নগদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরফ্যাশনের ঢালচরে ঘরচাপা পড়ে মারা যান রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ আলীম জানান, চরফ্যাশনের চরপাকিলা গ্রামের নীপা (১০) ঝড়ের সময় গাছ চাপা পড়ে মারা যায়। সে স্থানীয় মো: রফিকের মেয়ে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মনপুরা উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার ও এসিল্যান্ড অফিসের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনপুরা প্রেসক্লাব সম্পাদক। সেখানকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসন ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ২ লক্ষ নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
অপরদিকে, মহাসেনের প্রভাবে পুরো জেলার ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে জেলার ধনিয়া তুলাতলী এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও গাছপালা উপছে গেছে। সেখানে রাস্তার দুইপাশে অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েটি কাচা ঘড়বাড়িও বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরীফ গোলদার।
নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন/চার ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। রাতভর বর্ষণ হওয়ায় ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তীব্র জোয়ারের চাপে বাঁধ ভেঙে ভোলা শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনগণ। আতঙ্কে সেখানকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ভোলার জেলা প্রশাসক খোন্দাকার মোস্তাফিজুর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন’র কারণে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন চলছে। তিনি আরো জানান, জেলার মনপুরা ও চরফ্যাশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ওই দুটি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৯০ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য ও নগদ চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |