ভোলায় ইমামদের বিরুদ্ধে মসজিদে রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ
ভোলা :: ভোলায় প্রায় প্রতিটি মসজিদেই জুমার নামাজের সময়ে ইমামরা সুকৌশলে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি প্রচার করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ ধর্মপ্রান মুসুল্লীদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী। ১৯ মে রবিবার সকাল ১১টায় অঅযোজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ মে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শহরের উকিলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হুসাইন আহম্মেদ বলেন, ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে আমরা আশা করেছিলাম সরকার আলেম ওলামাদের শরবত খাইয়ে বিদায় করবেন। কিন্তু তা না করে সরকার কি করেছে তা আপনারা জানেন। সেদিন সেখানে বহু আলেম ওলামা শহীদ হয়েছেন বলে প্রচারনা চালান ইমাম। ইমাম বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমরা এখন দোয়া করব। ইমামের ওই বক্তব্যকে সমর্থন করে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যানও বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি তখন বিএনপি নেতার ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করি এবং মসজিদকে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সাব-অফিস বানিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষে সরকার বিরোধী প্রপাকান্ডা চলবেনা বলে বিএনপি নেতা ট্রুম্যনের বক্তব্যে বাঁধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান ও তার ভাই মামুন অর রশিদ (মামুন)সহ বিএনপির ৪/৫ জন কর্মী মিলে আমার ওপর হামলা করে আমাকে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, উকিলপাড়া মসজিদের ইমাম ইতোপূর্বেও বহুবার তথাকাথত ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রবর্তনের পক্ষে যেসব মিছিল-মিটিং হয় সেখানে মুসুল্লীদের অস্ত্র হাতে নিয়ে যাবার জন্য উদ্ভুদ্ধ করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া গত দুই মাস আগে ভোলা শহরের বড় মসজিদ খ্যাত ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরে আলম জুমার নামাজের সময়ে সরাসরি মূর্তি ভাঙ্গার জন্য মুসুল্লীদের উদ্ভুদ্ধ করেন। একইভাবে শহরের গোরস্থান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ ফয়েজুল্ল্যাহসহ ভোলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা মসজিদে ধর্মের নামে সমাজে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে একই সুত্রে গাঁথা জামায়াত-শিবির ও বিএনপির পক্ষে সুকৌশলে ইমামরা অবস্থান নিয়ে প্রচার প্রচারনা চালালেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে মসজিদের ভেতর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরো বলেন, ওই দিন মসজিদের ইমাম হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে নিহতদের স্মরনে দোয়ার কথা উল্লেখ করলে জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী এতে বাঁধা দেন। তখন মুসুল্লীদের সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয়।
এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে মোবাশ্বির উল্ল্যাহ চৌধুরীকে মামলা করতে বলেছিলাম। মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মসজিদের ইমামদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে হলে ইসলামীক ফাউন্ডেশন নেবে। এ বিষয়ে ভোলায় ইসলামীক ফাউন্ডেশন কিংবা জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিতে পারে। এক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা চাইলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |