বৈরিতা ভুলে এক মঞ্চে কামাল-সরোয়ার ‘জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করতে কামালকে ভোট দিন’ – সরোয়ার
বরিশাল :: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে প্রার্থী দিয়েছে তারা। এদিকে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিএনপিতে দেখা দিয়েছে ঐক্যের সুর। দীর্ঘ তিন বছর পর এক মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর সভাপতি সাংসদ অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবীব কামাল। ২০ মে সোমবার জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে নগরীর টাউন হলস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ দু’নেতা বক্তব্য রাখেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে আহসান হাবিব কামালকে পরিচয় করিয়ে দেন সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ার। এসময় সরোয়ার বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ দলীয় জোট যখন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে, তখন আন্দোলনকে বানচাল ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য সরকার দেশের ৪টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের আয়োজন করেছে। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী শক্তির সামনে ভোটের আন্দোলন। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করতে পারলে আন্দোলনের বিজয় হবে। এ আন্দোলনে বিজয়ী হতে জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের প্রার্থী আহসান হাবীব কামালকে মেয়র পদে নির্বাচিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরাই আগামী দিনের সরকার গঠন করবো। আন্দোলনের পাশাপাশি ভোটের রাজনীতিতেও আপনাদেরকে পাশে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘নগরীতে গত পাঁচ বছরে উন্নয়নের নামে ভাওতাবাজি হয়েছে। একই কাজ বারবার করে নিজের ও স্বজনদের পকেট ভারি করা হয়েছে। বরিশালের প্রকৃত উন্নয়ন ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আহসান হাবীব কামালকে নির্বাচিত করতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করতে হলে কামালকে ভোট দিন।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী আহসান হাবীব কামাল তার বক্তৃতার শুরুতেই সাংসদ সরোয়ারকে বরিশালের জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করলে শ্লোগান-উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এসময় কামাল বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে সকল বিভেদ ভুলে বরিশাল বিএনপি আজ থেকে এক হয়ে গেলো। এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ও আমি (কামাল) ঐক্যবদ্ধ থাকলে বরিশালে অনেক বেশী উন্নয়ন হবে।’
এএইচএম সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ নাগরিক গণসংবর্ধনায় অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন- মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহীন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জহিরউদ্দিন মোঃ বাবর, ড্যাব নেতা ডাঃ আজিজ রহিম ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ প্রমুখ।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে সড়ক পথে বরিশালে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামাল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তারা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মেজর জলিল সেতু এলাকায় পৌঁছালে কয়েকশ’ মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের অভিনন্দন জানান। এর আগেই মেয়র প্রার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে মঞ্চ করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে নগরীতে প্রবেশ করেন কামাল, সরোয়ার ও শিরিন। এসময় মেয়র প্রার্থী কামালকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন এ্যাড. কামরুল আহসান শাহীন। ৬টা ২৫ মিনিটে কামাল-সরোয়ার মঞ্চে উঠে কর্মী সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে বক্তব্য ও অন্যান্য আনুষ্ঠনিকতা সংক্ষিপ্ত করে ৬টা ৪০ মিনিটের মাঝে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পর বরিশাল বিএনপি’র দুই নেতাকে এক মঞ্চে পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জিবিত হয়ে ওঠে। এসময় তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন টাউন হল চত্বরসহ পুরো সদর রোড এলাকা। বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এখানকার বিএনপি। নেতাকর্মীরাও দীর্ঘ দিন যাবৎ ছিলেন দুই ধারায় বিভক্ত। প্রতিটি দলীয় কর্মসূচি পালিত হতো আলাদাভাবে। একপক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলা-মামলা করেছিল একাধিকবার। সরোয়ার-কামাল সর্বশেষ এক মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর। সে দিন তারা বরিশাল বিএনপি অফিসের সামনে আয়োজিত জনসভায় হাতে হাত ধরে নিজেদের মধ্যকার ঐক্যবদ্ধতার দৃষ্টান্ত নেতাকর্মীদের মাঝে দেখালেও এরপর থেকে তাদের প্রকাশ্যে এক মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে এ দু’নেতা একসাথে কাজ করলে বরিশালে বিএনপি তার হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে আশা করছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |