ছাত্রীদের জামার হাতা কেটে দিলেন মন্ত্রীর স্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট :: ফুলার রোডের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ ও শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর স্ত্রী মাহবুবা খানম কল্পনা ছাত্রীদের স্কুলড্রেসের হাতা কেটে দিয়েছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কাঁচি দিয়ে তিনি অর্ধশত ছাত্রীর স্কুলড্রেসের হাতা কেটে দেন। এ সময় অনেকেই হাতে আঘাত পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৩ মে বুধবার স্কুলের ক্লাস রুমে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, গভর্নিং বডি যদি তাকে (মন্ত্রীর স্ত্রী) অপসারণ না করে, তবে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ফুলহাতা শার্ট পরে আসায় স্কুলের উপাধ্যক্ষ মাহবুবা খানম কাঁচি দিয়ে ছাত্রদের সামনেই ছাত্রীদের জামার হাতা কেটে দেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের শাস্তির দাবিতে তারা স্কুল প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়।
এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মাহবুবা খানম কল্পনা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হাতা কেটে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য এটা করা হয়নি।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নওশিন বলেন, ‘আমাদের আগে থেকে এ ব্যাপারে কখনও নোটিশ দেয়া হয়নি। ক্লাসেও কখনও বলা হয়নি। আমরা স্কার্ফ পরি। কিন্তু এর সঙ্গে শর্ট হাতা পরলে সবাই খারাপ ভাববে। তাই ফুলহাতা পরে আসি। কিন্তু ম্যাডামরা আমাদের কোনো ধরনের সুযোগ না দিয়ে সবার সামনে হাতা কেটে দিলেন।’
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. উম্মে সালেমা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার নির্দেশে তাদের জামার হাতা কেটে দেয়া হয়েছে। এর আগে আমি তাদের অনেকবার নিষেধ করেছি ফুলহাতা পরে আসতে। কিন্তু এরপরও তারা তা শুনেনি। তাই স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল কাঁচি দিয়ে ফুলহাতা কেটে দিয়েছেন। স্কুলের নিয়ম অনুসারে সবাইকে ড্রেস পরে স্কুলে আসতে হবে। এর বাইরে মেনে নেয়া হবে না। তবে কেউ যদি পর্দার কারণে ফুলহাতা শার্ট ও হিজাব পরে, তবে লিখিতভাবে জানাতে হবে।’
অভিভাবক আব্দুল আলিম মিয়া বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা নির্দেশনা না দিয়ে এ কাজ করেছে। এ রকম স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় কারণে হিজাব বা ফুলহাতা পরে আসতেই পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ নয়। আমরা স্কুলের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি। মন্ত্রীর স্ত্রী হওয়ায় স্কুলের উপাধ্যক্ষ এর আগেও অনেক স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড করেছেন।’
অভিভাবক নাজমা বেগম বলেন, ‘ইভটিজিং প্রতিহত করার জন্য এতো প্রচেষ্টা চালানো হয়। আবার ফুলহাতা ড্রেস পরে এলেও তা কেটে দেয়া হবে, তাহলে ইভটিজিং কমবে কীভাবে? আমরা মেয়েদের শালীনতার কথা চিন্তা করে হিজাব ও ফুলহাতা শার্ট পরতে উৎসাহিত করি। অথচ সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধা দিচ্ছে!’
|