কলেজছাত্র পান্থ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস অচিন্ত্য মজুমদার
ভোলা :: ভোলায় কলেজ ছাত্র হাসনাইন করির পান্থ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। শুধুমাত্র মুঠোফোনের জন্যই পরিকল্পিতভাবে পান্থকে হত্যা করেছিলো এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী সুমন। ২৪ মে শুক্রবার রাতে কালিনাথ রায় বাজার এলাকা থেকে শংকোচ কর্মকার (২২) নামে এ মামলায় আরো একজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। আর তার কাছ থেকেই এমন তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছেন পান্থ’র বাবা। তবে গত ১৪ দিন রিমান্ডে থেকেও সুমন পুলিশের কাছে কোন তথ্য ফাঁস না করলেও শংকোচকে দেখে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ২৫ মে শনিবার পুলিশ বাংলা বাজার এলাকা অভিযান চালিয়ে আরো একজনকে আটক করে ও পান্থ’র মুঠোফোন ২টি উদ্ধার করে।
পান্থর বাবা পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হুমায়ুন কবির মোল্লা এ প্রতিবেদককে জানান, গোয়েন্দা পুলিশ সুমনের মুঠোফোনের কল রেকর্ড বের করলে শহরের কালীনাথ রায়ের বাজারের কর্মকার বাড়ির শংকোচ নামে এক ছেলের সাথে সে পান্থ হত্যাকান্ডের পর ৩৬ বার মুঠোফোনে আলাপ করেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এ সুত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ গত ৩দিন ধরে শংকোচকে গ্রেপ্তারের জন্য হন্যে হয়ে খুজতে থাকে। এদিকে পান্থ’র পরিবারের পক্ষ থেকেও শংকোচকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পারিবারিকভাবে অনুরোধ করে। ২৪ মে শুক্রবার রাতে শংকোচের পরিবারের লোকজন তাকে পান্থর মামা জেলা আ’লীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা ও বাহালুল মোল্লার কাছে নিয়ে আসে। এসময় শংকোচ এ হত্যাকান্ডের সকল তথ্য ফাঁস করে ও তার মুঠোফোনে সুমনের স্বীকারুক্তি রেকর্ড করা আছে বলে জানায়। পরে শংকোচকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
শংকোচের বরাত দিয়ে পান্থর বাবা জানান, কয়েকজনের কাছে সুমনের অনেক টাকার দেনা হয়ে গেছে। দেনা শোধ করতে সে সুমনকে হত্যা করে মুঠোফোন ও টাকা নিয়ে দেনা পরিশোধ করার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী সুমন ৪মে রাতে পান্থকে শহরের চরনোবাদ এলাকার শ্মাশান ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে পান্থকে নেশায় আশক্ত করা হয়। এরপর পান্থ অনেকটা জ্ঞানশুন্য হলে হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটি মোটা দড়ি পান্থর গলায় জড়িয়ে ফাঁস দিয়ে টানতে থাকে সুমন। প্রথমদিকে পান্থ হাত পা ছুড়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে সে নিস্তেজ হয়ে যায়। শুরু হয় পান্থর লাশ লুকানোর পরিকল্পনা। সুমনের কাছে থাকা ছুড়ি দিয়ে পান্থর পেট কাটা হয়। এরপর মাথায় পলিথিন বেধে লাশটি খালে ভাসিয়ে দেয় সুমন।
পান্থর বাবা আরো জানান, শনিবার পুলিশ বাংলা বাজার এলাকা অভিযান চালিয়ে আরো একজনকে আটক করে ও পান্থ’র মুঠোফোন ২টি উদ্ধার করেছে।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে আলাপ করলে জানা গেছে, পান্থ নিখোজ হওয়ার দিন ভোর ৫টায় শ্মশান ঘাটের রাস্তা দিয়ে সুমন বেরিয়ে আসে ও সামনের দোকান থেকে সিগারেট কিনে।
পান্থ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুর সালাম জানান, পান্থ হত্যাকান্ডে রহস্য আমরা আপনাদের জানাবো। তবে এ মুহুর্তে কিছুই বলা সম্ভব না।
উল্লেখ্য, গত ৪মে রাতে পান্থকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর দু’দিন পর ৬মে সকালে উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকার খাল থেকে পান্থ’র লাশ উদ্ধার হয়। সেদিন বিকেলে নিহতর চাচা গোলাম কবির বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরর করেন। হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে রাতেই সুমন নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপরে ৮মে রাতে কৃষ্ণা নামে অপর এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৯মে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ১৪ মে পান্থ হত্যা মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ১৯মে আদালত ফের সুমনকে আরো সাত দিনের রিমান্ড দেন।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |